
ব্রাহ্মণবাড়িয়ার নবীনগরে আওয়ামী লীগের নৌকা প্রতীকে নির্বাচিত এক ইউনিয়ন পরিষদ চেয়ারম্যান ও হত্যা মামলার আসামির বিএনপির মনোনয়ন প্রত্যাশী একটি পোস্টার সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়েছে। এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে স্থানীয় রাজনৈতিক মহলে তীব্র প্রতিক্রিয়া ও আলোচনার সৃষ্টি হয়েছে।
অনুসন্ধানে জানা যায়, ২০২১ সালের ২৮ নভেম্বর তৃতীয় ধাপের ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনে নবীনগর উপজেলার ২ নম্বর বীরগাঁও ইউনিয়ন থেকে নৌকা প্রতীকে চেয়ারম্যান হন উপজেলা যুবলীগের সহসম্পাদক মো. আনোয়ার হোসেন। তৎকালীন সময় তিনি বিভিন্ন নেতার ছবি ব্যবহার করে দলীয় মনোনয়ন চেয়েছিলেন। বিষয়টি নিয়ে দলীয় নেতাকর্মী ও সাধারণ মানুষের মাঝে ব্যাপক আলোচনা ও সমালোচনার ঝড় বইছে। তিনি কার ছত্রছায়ায় ধরাছোঁয়ার বাইরে থেকে যাচ্ছেন, তা নিয়ে প্রশ্ন উঠছে।
সম্প্রতি ওই পুরনো পোস্টার ডিজিটাল মাধ্যমে সম্পাদনা করে একটি নতুন সংস্করণ ভাইরাল করা হয়েছে। নতুন এই পোস্টারে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল বিএনপির চেয়ারম্যান ও প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান এবং ব্রাহ্মণবাড়িয়া-৫ আসনের সংসদ সদস্য ও উপজেলা বিএনপির সভাপতি অ্যাডভোকেট আবদুল মান্নানের ছবি যুক্ত করা হয়েছে। সেখানে আনোয়ার হোসেনকে বীরগাঁও ইউনিয়নে বিএনপির দলীয় মনোনয়নপ্রত্যাশী হিসেবে উপস্থাপন করা হয়।
পোস্টার ছাড়াও চেয়ারম্যান আনোয়ার হোসেনের বাসভবনে স্থানীয় সংসদ সদস্যের উপস্থিতির একটি ভিডিও ইন্টারনেটে ছড়িয়ে পড়ে। নাম প্রকাশ না করার শর্তে স্থানীয় এক জ্যেষ্ঠ বিএনপি নেতা অভিযোগ করেন, জুলাই গণ-অভ্যুত্থানের ঘটনায় ব্রাহ্মণবাড়িয়া সদর থানায় দায়ের করা একটি হত্যা মামলার এজাহারভুক্ত আসামি হওয়া সত্ত্বেও আনোয়ার হোসেন প্রকাশ্যে ঘুরে বেড়াচ্ছেন এবং সরকারি কার্যক্রমে অংশ নিচ্ছেন।
স্থানীয় দলীয় নেতাকর্মীদের দাবি, আনোয়ার হোসেন এলাকায় প্রকাশ্যে ঘুরে বেড়াচ্ছেন এবং আসন্ন নির্বাচনে অংশগ্রহণের প্রস্তুতি নিচ্ছেন। তিনি দাবি করছেন যে সংসদ সদস্যের নির্দেশেই তিনি এলাকায় কার্যক্রম পরিচালনা করছেন। এর ফলে স্থানীয় নেতাকর্মীরা কোণঠাসা হয়ে পড়েছেন বলে অভিযোগ উঠেছে। মূলত আনোয়ার হোসেন নিষিদ্ধঘোষিত আওয়ামী লীগকে গোপনে সংগঠিত করছেন।
এ বিষয়ে জেলা বিএনপির সদস্য মাসুদুল ইসলাম জানান, ভাইরাল হওয়া ওই পোস্টারটি কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা বা এআই ব্যবহার করে তৈরি করা হয়েছে। তিনি আওয়ামী লীগের রাজনীতির সঙ্গে যুক্ত এবং তার সঙ্গে দলের কোনো সম্পর্ক নেই। এছাড়া সংসদ সদস্যের ভিডিও প্রসঙ্গে তিনি জানান, একটি কর্মসূচি শেষে ফেরার পথে অসুস্থ মাকে দেখতে যাওয়ার সময় তারা সেখানে উপস্থিত ছিলেন। এ বিষয়ে মাসুদুল ইসলাম বলেন, একটি অনুষ্ঠান শেষ করে ফেরার পথে এমপি সাহেব মানবিক কারণে তার অসুস্থ মাকে দেখতে গিয়েছিলেন, এ সময় আমিও সাথে ছিলাম।
এদিকে আনোয়ার হোসেন নিজের ফেসবুক আইডিতে এক পোস্টে দাবি করেছেন, সংসদ সদস্যের সঙ্গে তার ছবি ও নাম যুক্ত করে উদ্দেশ্যপ্রণোদিতভাবে অপপ্রচার চালানো হচ্ছে। তিনি বা তার কোনো সমর্থক এই পোস্টার তৈরি বা প্রচারের সঙ্গে যুক্ত নন বলে স্পষ্ট জানিয়েছেন। আমি স্পষ্ট করে জানাচ্ছি, এ ধরনের কোনো পোস্টার আমি বা আমার কোনো সমর্থক তৈরি কিংবা প্রচার করিনি।
সম্পাদক : মাহমুদুল হাসান, বার্তা সম্পাদক: এ এইচ সুমন
oporadhkantho@gmail.com
Copyright © 2026 অপরাধ কণ্ঠ. All rights reserved.