
ইরানে সম্ভাব্য সামরিক অভিযানের প্রস্তুতির অংশ হিসেবে ইসরাইলের দক্ষিণাঞ্চলীয় নেগেভ মরুভূমির দুটি বিমানঘাঁটিতে যুক্তরাষ্ট্রের ১০টি সামরিক কার্গো বিমান পাঠানো হয়েছে। গত বৃহস্পতিবার ইসরাইলের রাষ্ট্রীয় সম্প্রচারমাধ্যম কান এ তথ্য নিশ্চিত করেছে। প্রতিবেদন অনুযায়ী, এসব বিমান ইসরাইলের ওভদা এবং নেভাতিম ঘাঁটিতে অবতরণ করেছে। এছাড়া জর্ডান, সৌদি আরব এবং কাতারে অবস্থিত মার্কিন সামরিক ঘাঁটিতেও অতিরিক্ত বিমান পাঠানোর খবর পাওয়া গেছে। বৃহস্পতিবার (২৯ অক্টোবর) ইসরাইলের রাষ্ট্রীয় সম্প্রচারমাধ্যম কান এ তথ্য জানিয়েছে।
বিশ্লেষণে দেখা গেছে, এই বিমানগুলো যুক্তরাষ্ট্রের টেক্সাস অঙ্গরাজ্যের ফোর্ট ব্লিস সামরিক ঘাঁটি থেকে যাত্রা করেছে। এই ঘাঁটিটি মার্কিন বাহিনীর অন্যতম বড় আকাশ প্রতিরক্ষাব্যবস্থা ও ক্ষেপণাস্ত্র প্রতিরোধক সরঞ্জামের কেন্দ্র হিসেবে পরিচিত। তবে এই বিমানগুলোতে কী ধরনের সামরিক সরঞ্জাম রয়েছে, তা নিয়ে ওয়াশিংটনের পক্ষ থেকে আনুষ্ঠানিক কোনো মন্তব্য পাওয়া যায়নি। একই সঙ্গে ইরানে সরাসরি সামরিক হামলার কোনো চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত হয়েছে কি না, তা এখনো অস্পষ্ট। সেখানে ক্ষেপণাস্ত্র প্রতিরোধক ও আকাশ প্রতিরক্ষাব্যবস্থার বিভিন্ন সরঞ্জামও সংরক্ষিত আছে। প্রতিবেদনে আরও বলা হয়, ওই অঞ্চলে মার্কিন বাহিনীর অস্ত্রের মজুত বাড়ানো হচ্ছে।
ইসরাইলের এক কর্মকর্তা জানিয়েছেন, সামরিক প্রস্তুতির বিষয়ে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরাইল বর্তমানে নিবিড়ভাবে সমন্বয় করছে। তিনি উল্লেখ করেন, ‘দুই দেশের মধ্যে ঘনিষ্ঠ সমন্বয় চলছে এবং আমরা যেকোনো সিদ্ধান্তের জন্য প্রস্তুত রয়েছি। তবে প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প কী সিদ্ধান্ত নেবেন বা অভিযানের সময়সীমা কী হবে, সে বিষয়ে বিস্তারিত জানা যায়নি।’
এর আগে চলতি সপ্তাহের শুরুতে কান জানিয়েছিল, ইরানের বিরুদ্ধে সীমিত ও স্বল্পমেয়াদি সামরিক অভিযানের সম্ভাবনা নিয়ে ওয়াশিংটন উপসাগরীয় দেশগুলোকে সতর্ক করেছে।
এছাড়া উপসাগরীয় অঞ্চলে আকাশ প্রতিরক্ষাব্যবস্থা আরও শক্তিশালী করতে টেক্সাস থেকে প্যাট্রিয়ট ক্ষেপণাস্ত্র প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা পাঠানোর তথ্যও সামনে এসেছে। সম্ভাব্য উত্তেজনার প্রেক্ষাপটে মধ্যপ্রাচ্যের বিভিন্ন মার্কিন ঘাঁটিতে থাকা সেনাদের সতর্কতামূলক ব্যবস্থা হিসেবে ঘাঁটি ছাড়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে বলেও দাবি করা হয়েছে।
যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক বাহিনীর এই তৎপরতা আগে থেকেই ওই অঞ্চলে অবস্থানরত প্রায় ২০টি যুদ্ধজাহাজের সক্ষমতাকে আরও বাড়াবে। আগামী নভেম্বর মাসে একটি অতিরিক্ত বিমানবাহী রণতরি এবং মেরিন কোরের একটি বিশেষ ইউনিট মধ্যপ্রাচ্যে পৌঁছানোর কথা রয়েছে।
এদিকে, ওয়াল স্ট্রিট জার্নালের প্রতিবেদন অনুযায়ী, ইরানের বিরুদ্ধে সম্ভাব্য হামলার বিভিন্ন পরিকল্পনা সম্পর্কে মার্কিন সেন্ট্রাল কমান্ডের (সেন্টকম) প্রধান জেনারেল ব্র্যাড কুপার প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পকে সরাসরি অবহিত করেছেন। এই ধরনের ব্রিফিং ইঙ্গিত দেয় যে ওয়াশিংটন সামরিক অভিযানের সিদ্ধান্তের কাছাকাছি পৌঁছেছে।
অন্যদিকে, যুক্তরাষ্ট্রের ডেমোক্রেটিক সিনেটর ক্রিস মারফি জানিয়েছেন, তিনিও বিষয়টি নিয়ে ব্রিফিং পেয়েছেন। তিনি এই পরিকল্পনাগুলোকে ‘উন্মাদনাপূর্ণ’ বলে আখ্যা দিয়েছেন। মারফির সতর্কবার্তা হলো, ইরানে এমন কোনো অভিযান চালানো হলে তা বড় ধরনের সামরিক উত্তেজনা সৃষ্টি করতে পারে এবং আইনের শাসনের প্রতি যুক্তরাষ্ট্রের যে প্রতিশ্রুতি রয়েছে, তা নিয়েও প্রশ্ন উঠতে পারে।
সম্পাদক : মাহমুদুল হাসান, বার্তা সম্পাদক: এ এইচ সুমন
oporadhkantho@gmail.com
Copyright © 2026 অপরাধ কণ্ঠ. All rights reserved.