গাজা উপত্যকার শাসনভার পরিচালনাকারী নিজস্ব প্রশাসনিক কমিটি বিলুপ্ত করার ঘোষণা দিয়েছে হামাস। এই সিদ্ধান্তের মূল লক্ষ্য হলো একটি বিকল্প প্রশাসন বা অন্তর্বর্তীকালীন শাসনব্যবস্থার পথ সুগম করা। হামাসের পক্ষ থেকে দেওয়া এই সংক্রান্ত বিবৃতিটি অত্যন্ত স্পষ্ট।
এতে ইঙ্গিত দেওয়া হয়েছে যে বিগত প্রায় দুই দশক আগে গাজা উপত্যকার নিয়ন্ত্রণ নেওয়ার পর থেকে যে বেসামরিক প্রশাসনিক দিকগুলো হামাস সরাসরি তত্ত্বাবধান করে আসছিল, সেগুলো থেকে তারা এখন নিজেদের গুটিয়ে নিচ্ছে।
মূলত গাজা উপত্যকায় ‘ন্যাশনাল কমিটি ফর দি অ্যাডমিনিস্ট্রেশন অব গাজা’ বা গাজা প্রশাসন বিষয়ক জাতীয় কমিটির আগমন এবং তাদের হাতে ক্ষমতা ও দায়িত্বভার বুঝিয়ে দেওয়ার পরিবেশ তৈরি করতেই এই পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে। ইসরাইলের চলমান যুদ্ধ শুরুর পর থেকে গাজায় যে ভয়াবহ প্রশাসনিক ও ক্ষমতার শূন্যতা তৈরি হয়েছে এবং যা প্রতিনিয়ত আরও প্রকট হচ্ছে, তা যথাসম্ভব কমিয়ে আনাই এই নতুন কমিটির প্রধান লক্ষ্য হবে।
হামাসের এই সিদ্ধান্ত নিয়ে গাজার সাধারণ মানুষের সঙ্গে কথা বললে মিশ্র প্রতিক্রিয়া পাওয়া যায়। স্থানীয় বাসিন্দাদের অনেকেই মনে করছেন, বর্তমান সংকটময় পরিস্থিতিতে কেবল এই পদক্ষেপটুকুই যথেষ্ট নয়। তবে এর পাশাপাশি তারা এই আশাও প্রকাশ করেছেন যে বিদ্যমান নানামুখী চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় ফিলিস্তিনকে আরও ঐক্যবদ্ধ রূপে এগিয়ে নেওয়ার ক্ষেত্রে এটি একটি ইতিবাচক প্রথম পদক্ষেপ হতে পারে।
এদিকে রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের একটি বড় অংশ বিষয়টিকে ভিন্নভাবে দেখছেন। তাদের মতে, হামাস এখানে নিজেদের রাজনৈতিক নমনীয়তা এবং দায়িত্বশীলতার পরিচয় দিচ্ছে। নতুন জাতীয় কমিটির কাজের জন্য উপযুক্ত পরিবেশ ও পর্যাপ্ত সময় তৈরি করে দেওয়ার উদ্দেশ্যেই হামাস সচেতনভাবে মাঠ পর্যায় থেকে নিজেদের সরিয়ে নিচ্ছে, যাতে করে একটি সুশৃঙ্খল প্রশাসনিক রূপান্তর সম্ভব হয়।
সূত্র: আল-জাজিরা।
সম্পাদক : মাহমুদুল হাসান, বার্তা সম্পাদক: এ এইচ সুমন
oporadhkantho@gmail.com
Copyright © 2026 অপরাধ কণ্ঠ. All rights reserved.