চাঁদপুরের সেই স্বর্ণ ব্যবসায়ী পরিবারসহ উদ্ধার, করা হবে জিজ্ঞাসাবাদ

চাঁদপুরের আলোচিত স্বর্ণ ব্যবসায়ী পিন্টু দাস ও তার পরিবারের তিন সদস্যকে চট্টগ্রামের পটিয়া থানার দলঘাট দাসপাড়া থেকে উদ্ধার করেছে চাঁদপুর সদর মডেল থানা পুলিশ। বর্তমানে তাকে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য পুলিশি হেফাজতে রাখা হয়েছে। পরিবারের বাকি সদস্যরাও থানার আলাদা কক্ষে রয়েছেন।
আজ শুক্রবার বিকেলে থানার ব্রিফিং কক্ষে গণমাধ্যমকে এসব তথ্য জানান চাঁদপুরের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার মো. লুৎফর রহমান।
তিনি বলেন, ২৬ আগস্ট পিন্টুদাসের পালিয়ে যাওয়ার বিষয়টি জানাজানি হলে পুলিশ তাকে খোঁজার জন্য তৎপর হয় এবং কাজ শুরু করে। তার আত্মীয়-স্বজন ও পরিচিত জায়গায় না পেয়ে শহরের কালিবাড়ি মিজানুর রহমান চৌধুরী সড়কের সৌর ভিলায় তার ভাড়া বাসায় তল্লাশি করা হয়। সেখানে গিয়ে সিসিটিভি ফুটেজ দেখে বোঝা গেছে, তিনি বাসার জিনিসপত্র নিয়ে চলে গেছেন। এরপর গাড়ির নম্বর ও চালকের দেওয়া তথ্যে তার বাড়ি চট্টগ্রামের পটিয়া থেকে শুক্রবার ভোর ৫টার দিকে পিন্টু দাস, তার স্ত্রী ও দুই সন্তানকে উদ্ধার করে চাঁদপুরে নিয়ে আসা হয়।
লুৎফর রহমান বলেন, ‘পিন্টুকে প্রাথমিকভাবে জিজ্ঞাসাবাদ করা হলে ঋণের কারণে তিনি কাউকে না জানিয়ে আত্মগোপনে চলেগেছেন বলে জানান। শুধমাত্র ঋণের বিষয়, নাকি এর সঙ্গে আরও কোনো ইস্যু জড়িত রয়েছে- এসব বিষয়ে তাকে ব্যাপক চিজ্ঞাসাবাদ করা হবে। এ ছাড়া ঢাকা থেকে পুলিশের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা আসবেন এবং তাকে জিজ্ঞাসাবাদ করবেন। এর চেয়ে বেশি কিছু আপাতত বলতে পারছি না।’
কী কারণে ব্যবসা ও বাসা রেখে কাউকে না জানিয়ে পিন্টু চলে গেলেন- এই বিষয়ে তার সঙ্গে কথা বলার চেষ্টা করেন সাংবাদিকরা। তবে চাঁদপুর সদর মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) ফয়েজ আহমেদ কথা বলার জন্য অনুমতি দেননি।
এদিকে পুলিশ জানায়, চাঁদপুর শহরের আখন্দ মার্কেটে ‘এসকে জুয়েলার্স অ্যান্ড শিল্পালয়’-এর স্বত্বাধিকারী পিন্টু দাস। তিনি বন্ধকি স্বর্ণালংকারসহ বিভিন্নজনের কাছ থেকে টাকা-পয়সা আত্মসাৎ করে গত ১৯ আগস্ট রাতে কুমিল্লা রোডের কালীবাড়ি মন্দির সংলগ্ন ভাড়া বাসার মালামাল নিয়ে পরিবারসহ পালিয়ে যান। তার বিরুদ্ধে আরও একাধিক অভিযোগ রয়েছে।
চাঁদপুরের পুলিশ সুপার (এসপি) মো. মিজানুর রহমান বলেন, পিন্টুর বিরুদ্ধে থানায় কোনো মামলা হয়নি। কোনো পাওনাদার তার বিরুদ্ধে মামলা করলে আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হবে।