
জ্বালানি তেল ও বিদ্যুতের মূল্যবৃদ্ধি এবং নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের দাম অসহনীয় পর্যায়ে পৌঁছানোর প্রতিবাদে রাজধানীর বাড্ডায় বিক্ষোভ প্রদর্শন করেছে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী। দফায় দফায় জ্বালানি তেলের দাম বাড়ছে, বিদ্যুতের দাম বাড়ছে, কিন্তু মানুষের আয় সেই অনুপাতে বাড়ছে না। কৃষক, শ্রমিক ও মা-বোনদের মুখে হাসি ফোটাতে হবে এবং আয়-ব্যয়ের সামর্থ্যের মধ্যে নিত্যপ্রয়োজনীয় সবকিছু রাখতে হবে। একজন শ্রমিক ভাইকে জীবন দিতে হতো না। কিন্তু এর পরিণতি সরকারকেই ভোগ করতে হবে।
বৃহস্পতিবার বিকাল ৩টায় জামায়াতে ইসলামীর ঢাকা মহানগরী উত্তরের উদ্যোগে উত্তর বাড্ডার ব্রিজের নিচে এই প্রতিবাদ কর্মসূচি পালিত হয়।
সমাবেশ শেষে একটি বিশাল বিক্ষোভ মিছিল বের হয়ে এলাকার বিভিন্ন সড়ক প্রদক্ষিণ করে বাড্ডা ইউলুপের সামনে গিয়ে শেষ হয়। মিছিলে বিপুলসংখ্যক নারী অংশ নেন, যাঁদের অনেকের হাতে ছিল খালি হাড়ি-পাতিল ও এলপিজি গ্যাসের প্রতীকী ফেস্টুন।
বিক্ষোভ সমাবেশে নেতৃত্ব দেন জামায়াতের কেন্দ্রীয় নির্বাহী পরিষদের সদস্য ও ঢাকা মহানগরী উত্তরের আমির মোহাম্মদ সেলিম উদ্দিন। তিনি ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশন নির্বাচনে দলের মেয়রপ্রার্থী হিসেবেও পরিচিত। সমাবেশে বক্তৃতাকালে তিনি স্পষ্ট করেন যে, কোনো রাজনৈতিক উদ্দেশ্য বা ব্যক্তিগত দাবি আদায়ের জন্য নয়, বরং জনগণের ন্যায্য অধিকার প্রতিষ্ঠার লক্ষ্যেই তাঁরা রাজপথে নেমেছেন। সভাপতির বক্তব্যে মোহাম্মদ সেলিম উদ্দিন বলেন, ‘আজ আমরা ব্যক্তিগত দাবি-দাওয়া প্রতিষ্ঠা করতে এখানে আসিনি। কোনো রাজনৈতিক প্রতিহিংসা চরিতার্থ করতে কিংবা কোনো দলকে গালিগালাজ করতে বা বিতর্কিত করতেও আসিনি। ন্যায্যমূল্যে জনগণের কাছে নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্য সরবরাহ নিশ্চিত করতে হবে। তিনি আরো বলেন, শ্রমিক ভাইদের অনুরোধ করব, আমরা আপনাদের পাশে আছি।
জনদুর্ভোগের চিত্র তুলে ধরে সেলিম উদ্দিন বলেন, সাধারণ মানুষ যখন বাজারে যায়, তখন তাদের চোখেমুখে হতাশা ফুটে ওঠে। মানুষের আয়ের তুলনায় দ্রব্যমূল্য অস্বাভাবিকভাবে বৃদ্ধি পাওয়ায় জনজীবন বিপর্যস্ত হয়ে পড়েছে। তিনি অবিলম্বে বাজারের সিন্ডিকেট ভাঙার আহ্বান জানিয়ে বলেন, উন্নয়নের ফাঁপা বুলি না শুনিয়ে বাস্তব জীবনমানের উন্নয়নের দিকে সরকারকে নজর দিতে হবে। সরকারের সমালোচনা করে তিনি বলেন, দেশ পরিচালনা করা কোনো সহজ বিষয় নয়, আর ব্যর্থতা আড়াল করতে কেবল কার্ড বা অন্য কোনো কৌশল দিয়ে জনগণের আস্থা ফিরে পাওয়া সম্ভব নয়। মানুষের আয় এবং দ্রব্যমূল্যের ঊর্ধ্বগতির মধ্যে কোনোভাবেই সামঞ্জস্য নেই।
গার্মেন্টস শ্রমিকদের চলমান বেতন আন্দোলনের প্রতি একাত্মতা প্রকাশ করে জামায়াত নেতা বলেন, বাজারের বর্তমান অস্থির পরিস্থিতির কারণে শ্রমিকরা তাদের ন্যায্য দাবি জানাচ্ছেন, যা কোনো অন্যায় নয়। শ্রমিকদের ওপর লাঠিচার্জ ও নির্যাতনের সমালোচনা করে তিনি বলেন, ন্যায্য দাবির প্রতি শ্রদ্ধা জানাতে হবে এবং মালিকপক্ষের সাথে আলোচনা করে দ্রুত সমস্যা সমাধান করতে হবে। তিনি আরো বলেন, শ্রমিকদের বিরুদ্ধে হয়রানি ও চাকরি থেকে ছাঁটাই বন্ধ করতে হবে। তাঁদের মাসিক বেতন যথাসময়ে পরিশোধ করতে হবে।
শ্রমিকদের উদ্দেশ্যে সেলিম উদ্দিন আরও বলেন, আন্দোলন ন্যায়সঙ্গত হলেও গাড়ি ভাঙচুর বা কারখানায় অগ্নিসংযোগের মতো নাশকতামূলক কর্মকাণ্ডের সঙ্গে এর কোনো যোগসূত্র থাকতে পারে না। তিনি শ্রমিকদের সতর্ক থাকার আহ্বান জানিয়ে বলেন, কোনো তৃতীয় পক্ষ যেন তাদের আবেগকে কাজে লাগিয়ে আন্দোলনের উদ্দেশ্যকে বিতর্কিত করতে না পারে। সরকারকেও হুঁশিয়ার করে তিনি বলেন, কোনো ফ্যাসিবাদী শক্তির সঙ্গে কুসুম সম্পর্ক রেখে বা জনগণকে বিভাজনের পথে ঠেলে দিয়ে ক্ষমতায় টিকে থাকা যাবে না। কার্ড বিতরণ করেন আর যা-ই করেন, এসব দিয়ে জনগণকে বোঝাতে পারবেন না। তিনি বলেন, গণভোটের গণরায় বাস্তবায়ন না করে সরকার বিভাজনের সূচনা করেছে। তার মানে এই নয় যে, গাড়ি ভাঙচুর করবেন কিংবা কারখানায় আগুন দেবেন, আর আমরা সেসব কর্মকাণ্ডের পক্ষেও থাকব।
গণঅভ্যুত্থানের পর সরকারকে ঐক্যবদ্ধভাবে দেশ গঠনের পরামর্শ দিয়ে তিনি বলেন, বিভাজনের রাজনীতি দেশের জন্য শুভ নয়। উন্নয়নের নামে কৃত্রিমতা পরিহার করে প্রকৃত জনকল্যাণে মনোনিবেশ করার জন্য সরকারের প্রতি আহ্বান জানান তিনি। অথচ গণঅভ্যুত্থান-পরবর্তী সময়ে এই সরকারের উচিত ছিল সবাইকে সঙ্গে নিয়ে ঐক্যবদ্ধভাবে কাজ করা।
সমাবেশে বক্তব্য রাখেন বাংলাদেশ শ্রমিক কল্যাণ ফেডারেশনের কেন্দ্রীয় সভাপতি আতিকুর রহমান, ঢাকা মহানগরী উত্তরের সহকারী সেক্রেটারি মাহফুজুর রহমান ও ইয়াসিন আরাফাত এবং প্রচার-মিডিয়া সম্পাদক আতাউর রহমান সরকার। এছাড়াও সমাবেশে মহানগরী কর্মপরিষদের সদস্য ইঞ্জিনিয়ার নোমান আহমেদি, মাওলানা কুতুবউদ্দিন, ফজলে আহমেদ এবং মিজানুর রহমান খানসহ অন্যান্য নেতৃবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন।
সম্পাদক : মাহমুদুল হাসান, বার্তা সম্পাদক: এ এইচ সুমন
oporadhkantho@gmail.com
Copyright © 2026 অপরাধ কণ্ঠ. All rights reserved.