
কুড়িগ্রামের রাজারহাট উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) তানজিলা তাসনিম এক অনুষ্ঠানের দেড় মিনিটের বক্তব্যে দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণমন্ত্রী অধ্যক্ষ আসাদুল হাবিব দুলুকে ৩৫ বার ‘স্যার’ সম্বোধন করে নতুন করে আলোচনার জন্ম দিয়েছেন। ঘটনাটি ঘটেছে গত বুধবার বেলা ১১টায় রাজারহাটের বৈদ্যের বাজার হরিসভা সংস্কৃতি দুর্গা মন্দির প্রাঙ্গণে আয়োজিত এক অনুষ্ঠানে। শারদীয় দুর্গাপূজা উপলক্ষে অসচ্ছল হরিজন, রবিদাস ও বেদে সম্প্রদায়ের মানুষের মাঝে শাড়ি বিতরণ করতে সেখানে উপস্থিত ছিলেন প্রধান অতিথি ত্রাণমন্ত্রী আসাদুল হাবিব দুলু।
অনুষ্ঠানটিতে সরকারি কর্মকর্তাদের পাশাপাশি জেলা প্রশাসক অন্নপূর্ণা দেবনাথ, পুলিশ সুপার ফজলে রাব্বি, জেলা পরিষদের প্রশাসক ও জেলা বিএনপির সদস্যসচিব সোহেল হোসনাইন কায়কোবাদ, জেলা বিএনপির আহ্বায়ক মোস্তাফিজার রহমান মোস্তফা এবং উপজেলা বিএনপির আহ্বায়ক অ্যাডভোকেট শফিকুর রহমানসহ স্থানীয় রাজনৈতিক নেতারা উপস্থিত ছিলেন। যদিও বক্তব্যে ইউএনও তানজিলা তাসনিম রাজারহাটে একটি সার্ভেয়ার কলেজ প্রতিষ্ঠার যৌক্তিকতা ও স্থানীয় প্রশাসনিক উদ্যোগের প্রশংসা করেছিলেন, তবে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে তার বারংবার ‘স্যার’ সম্বোধনের বিষয়টিই অধিকতর চর্চার বিষয় হয়ে দাঁড়িয়েছে।
বক্তব্যের এক পর্যায়ে ইউএনও বলেন, সরকার কারিগরি শিক্ষার ওপর গুরুত্বারোপ করছে এবং ভূমিসংক্রান্ত সেবায় দক্ষ সার্ভেয়ারের ব্যাপক চাহিদা রয়েছে। তার মতে, রাজারহাটে সার্ভেয়ার কলেজ স্থাপিত হলে উত্তরবঙ্গের সাধারণ মানুষ উপকৃত হবে। তিনি বিষয়টি মন্ত্রিসভায় উত্থাপনের অনুরোধ জানান মন্ত্রীর কাছে। এর পাশাপাশি ভিজিএফের চালের বস্তাবন্দি করার উদ্যোগ এবং পরিবহন ব্যবস্থার উন্নয়নের প্রশংসা করেন তিনি। সরকারি চাকরিজীবীদের পক্ষ থেকে নবম পে-স্কেল প্রবর্তনের বিষয়টি উল্লেখ করে তিনি প্রধানমন্ত্রীকে ধন্যবাদ ও কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন। বুধবার (২১ অক্টোবর) রাজারহাটে এক অনুষ্ঠানে তার দেওয়া বক্তব্যের এ বিষয়টি নিয়ে আলোচনা তৈরি হয়েছে।
নিজের বক্তব্যে স্থানীয় আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির প্রশংসা করে তিনি বলেন, আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী ও স্থানীয় রাজনৈতিক নেতৃবৃন্দ, বিশেষ করে বিএনপি নেতারা সব ধরনের কাজে প্রশাসনিকভাবে সর্বাত্মক সহযোগিতা প্রদান করছেন। প্রতিমা বিসর্জন পর্যন্ত শান্তিপূর্ণ পরিবেশ বজায় থাকবে বলে তিনি আশা প্রকাশ করেন। বক্তব্যের শেষে তিনি উপস্থিত সবার প্রতি ধন্যবাদ জানিয়ে নিজের বক্তব্য শেষ করেন।
ইউএনও তানজিলা তাসনিমের বক্তব্যের মূল অংশটি ছিল এমন: 'ইউএনও হিসেবে স্যার, রাজারহাটের জন্য একটা কিছু চেয়েই ফেলব, স্যার। আমার ক্ষুদ্র জ্ঞান থেকে মনে হয়েছে সরকার কারিগরি শিক্ষার দিকে নজর দিয়েছে, এটিই বাস্তবতা। রাজারহাটে যদি একটি সার্ভেয়ার কলেজ স্থাপন করা যায়, তবে ভূমির বিভিন্ন সংকট নিরসনে আমরা দক্ষ জনবল পাব। স্যার, আশা করব আপনি বিষয়টি মন্ত্রিসভায় উত্থাপন করবেন। এছাড়া, স্যার আপনি অনেকগুলো উদ্যোগ নিয়েছেন, তার মধ্যে চালের বস্তা আলাদা করার বিষয়টি উল্লেখযোগ্য।' তার ভাষ্য, আগে চালের বস্তা ওঠানো-নামানোর ক্ষেত্রে সমস্যা হতো। পাঠকের জন্য ইউএনও তানজিলা তাসনিমের হুবহু বক্তব্যটি তুলে ধরা হলো। টেকনিক্যাল জ্ঞানের সঙ্গে সঙ্গে স্যার, এটা কিন্তু স্যার, আশা করব, স্যার। যে আলাদা বস্তা করা বা চেয়ারম্যানরা যে সমস্যায় পড়ে তাদের লোড-আনলোডের ব্যাপারে পরিবহণের বিষয়গুলো ইতোমধ্যে স্যার আপনি উদ্যোগ নিয়েছেন।
তিনি আরও বলেন, 'আজকে যেহেতু সুযোগ পেয়েছি, আপনার মাধ্যমে স্যার প্রধানমন্ত্রীকে ধন্যবাদ ও কৃতজ্ঞতা জানাতে চাই। আমাদের সব সরকারি চাকরিজীবীর পক্ষ থেকে সুদীর্ঘ অপেক্ষার পর একটি পে-স্কেল হয়েছে, যা আমাদের কর্ম উদ্দীপনা যোগাবে। সবশেষে আমি আমাদের আইন শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী, সাংবাদিক এবং স্থানীয় রাজনৈতিক নেতৃবৃন্দের প্রতি কৃতজ্ঞতা জানাচ্ছি। সবার সহযোগিতা ও চমৎকার আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির জন্য আমি কৃতজ্ঞ। ধন্যবাদ স্যার।' যেহেতু আপনি জানেন যে তারা চায় না এবং স্যার, আমার বাড়িও সিলেটে, স্যার এবং আমাদের এখানে আমি যেভাবে আমাদের বিভিন্ন স্যার দেখি যে প্রবাসী বা অন্যান্য অনেক বিপুল প্রাকৃতিক সম্পদ স্যার।
মূলত সরকারি উন্নয়ন কর্মকাণ্ড ও চাকরিজীবীদের স্বার্থসংশ্লিষ্ট বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ দাবির কথা তার বক্তব্যে থাকলেও, দেড় মিনিটের মধ্যে ৩৫ বার মন্ত্রীকে 'স্যার' সম্বোধন করার বিষয়টি উপস্থিত ও বিভিন্ন মহলে আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে পরিণত হয়েছে।
সম্পাদক : মাহমুদুল হাসান, বার্তা সম্পাদক: এ এইচ সুমন
oporadhkantho@gmail.com
Copyright © 2026 অপরাধ কণ্ঠ. All rights reserved.