রাজধানীর ইসিবি চত্বরের দক্ষিণ মানিকদীতে ‘নিউগিনি প্রোপার্টিজ লিমিটেড’-এর প্রকল্প এলাকায় ভাঙচুর, লুটপাট, চুরির মামলায় গ্রেপ্তার মিজানুর রহমানকে কারাগারে পাঠানোর আদেশ দিয়েছেন আদালত।
আজ মঙ্গলবার ঢাকার মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট আরিফুর রহমান কারাগারে পাঠানোর এই আদেশ দেন।
এর আগে সোমবার ডিবি পুলিশ পশ্চিম মাটিকাটা এলাকায় অভিযান চালিয়ে মিজানুর রহমানকে গ্রেপ্তার করে। সে এই মামলার ৯ নম্বর এজাহার নামীয়
আসামি। মামলার তদন্ত কর্মকর্তা ক্যান্টনমেন্ট থানার ইন্সপেক্টর সুব্রত দেবনাথ তাকে আদালতে হাজির করে কারাগারে আটক রাখার আবেদন করেন। মিজানুর রহমানের পক্ষে আইনজীবী শওকত হোসাইন জামিন চেয়ে তা বুধবার শুনানির আবেদন করেন। সে অনুযায়ী আদালত আসামিকে কারাগারে পাঠানোর আদেশ দিয়ে বুধবার জামিন শুনানির দিন ঠিক করেছেন।
এর আগে সোমবার এই মামলায় গ্রেপ্তার আসামি শাহরিয়ার মাহমুদ ও শাহ আলমকে কারাগারে পাঠানো হয়। এছাড়া গত ২৭ সেপ্টেম্বর গ্রেপ্তার আসামি মো. মামুন, মো. আসলাম ও মো. মুন্নাকে কারাগারে পাঠানো হয়। এ আসামিদের পাঁচ দিনের রিমান্ড আবেদনের শুনানির দিন বুধবার ধার্য রয়েছে।
ইসিবি চত্বরের দক্ষিণ মানিকদীর নিউ গিনি প্রপার্টিজে গত ২৬ সেপ্টেম্বর রাত সাড়ে ১০টার দিকে হামলা, ভাঙচুর ও লুটপাটের ঘটনা ঘটে। এ সময় সেখানে কনটেন্ট ক্রিয়েটর সালমান মুক্তাদিরের ‘ব্রাউনফিশ’ নামে স্টুডিও ছাড়াও প্রকল্পের অফিস ও আশপাশের স্থাপনায়ও হামলা হয়।
পুলিশের দাবী, জমি নিয়ে একজন আবাসন নির্মাতা এবং এক অবসরপ্রাপ্ত সামরিক কর্মকর্তার বিরোধের জেরে এ হামলা হতে পারে।
মামলার বিবরণে বলা হয়— গত ২৬ সেপ্টেম্বর রাতে ‘নিউগিনি প্রোপার্টিজ লিমিটেড’-এর প্রকল্প এলাকায় আনুমানিক ৫০ জন দুষ্কৃতকারী অনাধিকার প্রবেশ করে। এ সময় তারা এলোপাতাড়ি প্রায় ৫০ রাউন্ড গুলি ছোড়ে এবং রামদা, ছোরা ও লাঠিসোটা নিয়ে হামলা চালায়। এতে সাইট ইঞ্জিনিয়ার মো. পারভেজসহ বেশ কয়েকজন গুরুতর আহত হন। এক পর্যায়ে তারা কনটেন্ট ক্রিয়েটর সালমান মুক্তাদিরের ‘ব্রাউন ফিস’ নামের স্টুডিওতে ঢুকে ব্যাপক ভাঙচুর ও লুটপাট চালায়। হামলাকারীরা নিউগিনি প্রোপার্টিজ লিমিটেড প্রকল্প এলাকা থেকে নগদ টাকা, ল্যাপটপ, কম্পিউটার, বৈদ্যুতিক ক্যাবল, ক্যামেরা ও প্রফেশনাল মিডিয়া ইকুইপমেন্টসহ বিপুল পরিমাণ মালামাল লুট করে নিয়ে যায়। পাশাপাশি গাড়ি ভাঙচুর করা হয়। ভাঙচুর ও লুটপাটের ঘটনায় প্রতিষ্ঠানের প্রায় ১ কোটি ৪২ লাখ ৮০ হাজার টাকার ক্ষতি এবং ১ কোটি ৫০ লাখ ৪৪ হাজার টাকার মালামাল চুরি হয়েছে বলে মামলায় দাবি করেছেন নিউগিনি প্রোপার্টিজ কর্তৃপক্ষ।
ওই ঘটনার খবর পেয়ে ক্যান্টনমেন্ট থানা পুলিশ ঘটনাস্থলে গেলে হামলাকারীরা পুলিশকে লক্ষ্য করেও গুলি ছোড়ে। এ সময় পুলিশ আত্মরক্ষা ও পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে পাঁচ রাউন্ড শর্টগানের গুলি ছোড়ে। পরে ঘটনাস্থল থেকে দুই আসামিকে গ্রেপ্তার করা হয়। পরবর্তীতে অভিযান চালিয়ে গ্রেপ্তার করা হয় আরও একজনকে। পুলিশ দাবী, গ্রেপ্তারকৃতদের কাছ থেকে দেশীয় অস্ত্র ও গুলির খোসা উদ্ধার করা হয়েছে।
ভাঙচুর ও লুটের ঘটনায় নিউগিনি প্রোপার্টিজ লিমিটেড প্রকল্পের কর্মকর্তা সাইফুল ইসলাম ভূঁইয়া ওইদিনই ক্যান্টনমেন্ট থানায় মামলা করেন। মামলায় ১০ জনের নাম উল্লেখ করে অজ্ঞাত আরও ১৫০ থেকে ২০০ জনকে আসামি করা হয়েছে।
সম্পাদক : মাহমুদুল হাসান, বার্তা সম্পাদক: এ এইচ সুমন
oporadhkantho@gmail.com
Copyright © 2026 অপরাধ কণ্ঠ. All rights reserved.