
ইসরাইলের আসন্ন নির্বাচনে জনমত জরিপে পিছিয়ে পড়ার প্রেক্ষাপটে প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু ইরানকে ঘিরে নানা আতঙ্কজনক মন্তব্য করে চলেছেন। অভিযোগ উঠেছে, নিজের রাজনৈতিক অবস্থান শক্তিশালী করতে তিনি ইসরাইলি সেনাবাহিনীর ওপর ইরানের বিরুদ্ধে নতুন করে সামরিক অভিযান চালানোর জন্য চাপ প্রয়োগ করছেন। আগামী মঙ্গলবারের এই প্রতিদ্বন্দ্বিতাপূর্ণ নির্বাচনের আগে তিনি তেল আবিব ধ্বংসের কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা বা এআই-প্রসূত একটি ছবি প্রকাশ করেছেন, যেখানে পারমাণবিক বিস্ফোরণের মাশরুম মেঘ দেখানো হয়েছে। ভোটারদের উদ্দেশ্যে তিনি হুশিয়ারি দিয়ে বলেছেন, তাকে ভোট না দিলে দেশটি পারমাণবিক ধ্বংসের ঝুঁকিতে পড়তে পারে।
সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ইরানের পারমাণবিক কর্মসূচি নিয়ে পোস্ট করতে গিয়ে তিনি ভোটারদের সতর্ক করে লিখেছেন, যারা নিজেদের ও পরিবারের অস্তিত্ব নিয়ে উদ্বিগ্ন, তাদের অন্য কোনো পক্ষকে ভোট দেওয়ার আগে দুবার ভাবা উচিত। এদিকে ইসরাইলের চ্যানেল ১২-এর প্রতিবেদন অনুযায়ী, সাম্প্রতিক দিনগুলোতে সেনাবাহিনীর প্রতি দেওয়া কিছু নির্দেশনা নিয়ে নেতানিয়াহুর সঙ্গে সেনাপ্রধান লেফটেন্যান্ট জেনারেল ইয়াল জামিরের বিরোধ সৃষ্টি হয়েছে। বিশ্লেষকদের মতে, ওই নির্দেশের ফলে সংবেদনশীল এই সময়ে ইরানের পক্ষ থেকে ভুল হিসাব-নিকাশের কারণে বড় ধরনের সংঘাতের ঝুঁকি তৈরি হতে পারে। যদিও নেতানিয়াহু এই মতবিরোধের খবর অস্বীকার করেছেন এবং প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয় জানিয়েছে যে ইরানের ওপর কোনো সামরিক হামলার পরিকল্পনা নেই। ওই নির্দেশনার কারণে সংবেদনশীল সময়ে ইরানের ভুল হিসাব-নিকাশ থেকে তাৎক্ষণিকভাবে বড় ধরনের সংঘাত শুরু হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে। প্রতিবেদন অনুযায়ী, নির্দেশনার বিস্তারিত উল্লেখ না করে জামির সেটি লিখিতভাবে তার কাছে উপস্থাপনের অনুরোধ জানিয়েছিলেন।
তবে বিষয়টির রেশ কাটতে না কাটতেই সিএনএন ও ফিন্যান্সিয়াল টাইমসের প্রতিবেদনে দাবি করা হয়েছে, সাম্প্রতিক সপ্তাহগুলোতে নেতানিয়াহু মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পকে ইরানের বিরুদ্ধে নতুন করে হামলা চালানোর বিষয়ে রাজি করানোর চেষ্টা করেছেন। তবে ট্রাম্প মার্কিন কংগ্রেসের মধ্যবর্তী নির্বাচন সম্পন্ন না হওয়া পর্যন্ত এ ধরনের পদক্ষেপে অনীহা প্রকাশ করেছেন বলে খবর পাওয়া গেছে। ইসরাইলি প্রতিরক্ষা বাহিনী (আইডিএফ) সোমবার এ বিষয়ে কোনো সুনির্দিষ্ট মন্তব্য না করে জানায় যে, তাদের প্রতিটি সিদ্ধান্ত পেশাগত ও জাতীয় নিরাপত্তা বিবেচনার ভিত্তিতেই গৃহীত হয়। এর আগে ফিন্যান্সিয়াল টাইমসেও একই ধরনের খবর প্রকাশিত হয়েছিল।
নেতানিয়াহুর বর্তমান এই যুদ্ধংদেহী অবস্থান গত মার্চ মাসে তার করা দাবির সঙ্গে সাংঘর্ষিক। সে সময় তিনি দাবি করেছিলেন, ইসরাইল ও যুক্তরাষ্ট্রের যৌথ হামলায় ইরানের ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র ও ইউরেনিয়াম সমৃদ্ধকরণ সক্ষমতা পুরোপুরি ধ্বংস হয়েছে। সে সময় তিনি সেই সাফল্যকে প্রজন্মের পর প্রজন্ম টিকে থাকবে এমন একটি ঐতিহাসিক বিজয় হিসেবে প্রচার করেছিলেন। ২০২৫ সালে ইরানের বিরুদ্ধে অর্জিত সাফল্যকে তিনি প্রজন্মের পর প্রজন্ম ধরে টিকে থাকবে এমন ‘ঐতিহাসিক বিজয়’ হিসেবেও বর্ণনা করেছিলেন।
তার এই কৌশলের কঠোর সমালোচনা করেছেন বিরোধী জোটের নেতা এবং সাবেক সেনাপ্রধান গাদি আইজেনকট। তিনি বর্তমান সেনাপ্রধান ইয়াল জামিরের প্রতি পূর্ণ সমর্থন জানিয়ে বলেন, নেতানিয়াহু ক্ষমতার মসনদ ধরে রাখার জন্য আইডিএফকে কেবল দাবার ঘুঁটি হিসেবে ব্যবহার করছেন, যা মেনে নেওয়া যায় না।
সম্পাদক : মাহমুদুল হাসান, বার্তা সম্পাদক: এ এইচ সুমন
oporadhkantho@gmail.com
Copyright © 2026 অপরাধ কণ্ঠ. All rights reserved.