
বিশ্বজুড়ে ইন্টারনেটের প্রায় ৭০ শতাংশ ওয়েবসাইট যে পিএইচপি নামের কোডিং ভাষার ওপর ভিত্তি করে তৈরি, তাতে সম্প্রতি এক মারাত্মক ত্রুটির সন্ধান মিলেছে। বিষয়টি প্রকাশ্যে আসার পর থেকেই বিশ্বের বড় বড় ব্যবসা প্রতিষ্ঠান ও সরকারি সংস্থাগুলো দ্রুত তা সংশোধনের কাজ শুরু করেছে। যুক্তরাষ্ট্রের জাতীয় নিরাপত্তা সংস্থা (এনএসএ) সতর্কবার্তা দিয়ে জানিয়েছে, এই ত্রুটিকে কাজে লাগিয়ে হ্যাকাররা ওয়েব সার্ভারের পূর্ণ নিয়ন্ত্রণ নিতে পারে। এতে একদিকে যেমন গুরুত্বপূর্ণ তথ্য চুরির ঝুঁকি বাড়ছে, তেমনি বিভিন্ন অনলাইন সেবা বিঘ্নিত হওয়া বা সাধারণ মানুষের দৈনন্দিন ব্যবহৃত নেটওয়ার্কে অনধিকার প্রবেশের শঙ্কা তৈরি হয়েছে। বেশির ভাগ মানুষ এই ভাষার নাম না শুনলেও ইন্টারনেটের প্রায় ৭০ শতাংশ ওয়েবসাইট এটি দিয়ে তৈরি। এর মাধ্যমে তারা তথ্য চুরি, সেবা ব্যাহত বা সাধারণ মানুষের নিত্যব্যবহার্য নেটওয়ার্কগুলোতে প্রবেশ করতে পারে। এবং তা কতটা ঝুঁকিপূর্ণ তা বিবেচনা করতে হবে।
বিশেষজ্ঞদের মতে, এ ধরনের বড় প্রযুক্তিগত ত্রুটির দায় মূলত সফটওয়্যার সরবরাহকারী বা সেবাদাতা প্রতিষ্ঠানগুলোর। তবে এআই প্রযুক্তির যুগে আক্রমণকারীরা আগের চেয়ে বেশি সুবিধাজনক অবস্থানে রয়েছে। সাইবার নিরাপত্তার এই কঠিন সময়ে নিজেদের অনলাইন পদচারণা নিরাপদ রাখতে পাঁচটি জরুরি উপায় অবলম্বন করা যেতে পারে। প্রথমত, প্রতিটি ওয়েবসাইটের জন্য আলাদা এবং শক্তিশালী পাসওয়ার্ড ব্যবহারের কোনো বিকল্প নেই। সাইবার নিরাপত্তা প্রতিষ্ঠান সেনসিসের প্রধান নিরাপত্তা গবেষক এমিলি অস্টিন লেনদেনের ওপর সার্বক্ষণিক নজর রাখার পরামর্শ দিয়েছেন। যদিও বড় কোনো সার্ভার বা পিএইচপি-এর মতো ত্রুটির ক্ষেত্রে সাধারণ ব্যবহারকারীর নিয়ন্ত্রণ সীমিত, তবুও ব্যক্তিগত তথ্য সুরক্ষিত রাখতে মাল্টি-ফ্যাক্টর অথেনটিকেশন বা এমএফএ চালু রাখা অপরিহার্য। এটি পাসওয়ার্ডের বাইরে টেক্সট কোড বা সিকিউরিটি কি যুক্ত করে বাড়তি সুরক্ষা দেয়। তবে নিজেদের সুরক্ষিত রাখতে সবার কিছু প্রাথমিক পদক্ষেপ নেয়া উচিত। যেভাবে অনলাইন পদচারণা সুরক্ষিত রাখা যায় তার ৫টি উপায় পাঠকদের জন্য তুলে ধরা হলো।
দ্বিতীয়ত, ব্যবহৃত ডিভাইসগুলোর আপডেট নিশ্চিত করা সাইবার নিরাপত্তার অন্যতম চাবিকাঠি। ট্রেইল অব বিটসের প্রধান নির্বাহী ড্যান গুইডো ফোন, কম্পিউটার ও হোম রাউটারে স্বয়ংক্রিয় আপডেট বা অটোমেটিক আপডেট চালু রাখার পরামর্শ দিয়েছেন। গ্রানিটের প্রতিষ্ঠাতা রুনা স্যান্ডভিকও সব ইন্টারনেট-সংযুক্ত ডিভাইসের সফটওয়্যার হালনাগাদ রাখার ওপর জোর দিয়েছেন। নিরাপত্তা ত্রুটি ধরা পড়ার পর সংশ্লিষ্ট কোম্পানিগুলো দ্রুত প্যাচ বা আপডেট ছাড়লে তা সঙ্গে সঙ্গে ইনস্টল করে রাখলে হ্যাকারদের হামলার ঝুঁকি অনেকটা কমে আসে।
তৃতীয়ত, সিস্টেম আপডেট ও প্যাচিংয়ের গতি বাড়ানো প্রয়োজন। সারে ইউনিভার্সিটির সাইবার সিকিউরিটির প্রভাষক ড. ড্যানিয়েল গার্ডহ্যাম মনে করেন, এআই যুগের এই লড়াইয়ে ইন্টারনেট সুরক্ষিত থাকবে কি না, তা নির্ভর করছে প্রতিষ্ঠানগুলো কত দ্রুত নিরাপত্তা ত্রুটিগুলো মেরামত করতে পারছে তার ওপর। চতুর্থত, বড় কোনো সাইবার হুমকির খবরের সুযোগ নিয়ে প্রতারকরা সক্রিয় হয়ে ওঠে। তাই সাইবারকাইনেটিক্স কোম্পানি অর্কাসের প্রধান নির্বাহী নিক অ্যাডামস সতর্ক করেছেন, কোনো অনাকাঙ্ক্ষিত লিংক বা মেসেজ পেলে তাতে অতিরিক্ত সতর্কতা অবলম্বন করা উচিত। কোনো লিংকে ক্লিক করার আগে তার ধরণ ও উৎস যাচাই করা জরুরি।
পঞ্চমত, আর্থিক লেনদেনের নিরাপত্তা বজায় রাখা এখন বড় চ্যালেঞ্জ। আমেরিকান ব্যাংকার্স অ্যাসোসিয়েশনের নির্বাহী ভাইস প্রেসিডেন্ট পল বেন্ডার মতে, ব্যাংকগুলো ফ্রন্টিয়ার এআই মডেলের মোকাবিলায় শক্তিশালী প্রস্তুতি নিয়েছে। তবে বর্তমানে সাইবার হুমকির এক নতুন অধ্যায় চলছে। তাই সাধারণ ওয়েবসাইটগুলোতে একই পাসওয়ার্ড বারবার ব্যবহার না করে সম্ভব হলে 'পাসকি' (passkey) ব্যবহারের পরামর্শ দিয়েছেন তিনি, যা ফিশিং প্রতিরোধে অত্যন্ত কার্যকর।
সম্পাদক : মাহমুদুল হাসান, বার্তা সম্পাদক: এ এইচ সুমন
oporadhkantho@gmail.com
Copyright © 2026 অপরাধ কণ্ঠ. All rights reserved.