
নেত্রকোণার বারহাট্টা উপজেলায় পারিবারিক ভিটের সীমানা নির্ধারণকে কেন্দ্র করে বড় ভাইয়ের লাঠির আঘাতে সাইকুল ইসলাম (৩৫) নামে এক যুবক প্রাণ হারিয়েছেন। এ ঘটনায় নিহতের স্ত্রী ও ১৫ বছর বয়সী মেয়ে গুরুতর আহত হন। বর্তমানে তাঁরা ময়মনসিংহ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে (মমেক) চিকিৎসাধীন রয়েছেন। ঘটনাটি ঘটেছে উপজেলার সিংধা ইউনিয়নের চন্দ্রপুর গ্রামে।
স্থানীয় ও পুলিশ সূত্রে জানা যায়, চন্দ্রপুর গ্রামের মৃত আব্দুল খালেকের ছয় ছেলের মধ্যে কেবল ছোট ভাই সাইকুল ইসলামই গ্রামের বাড়িতে একাই বসবাস করতেন। অন্য ভাইদের মধ্যে তিনজন ঢাকায়, একজন বিদেশে এবং অপরজন বারহাট্টা সদরে থাকেন। সম্প্রতি সাইকুলের বড় ভাই সাইদুর রহমান ঢাকা থেকে পরিবার নিয়ে গ্রামে ফেরেন এবং সীমানা মেপে দেয়াল নির্মাণের কাজ শুরু করেন। এ নিয়ে সাইকুলের সাথে তাঁর বাকবিতণ্ডা সৃষ্টি হয়।
কথা-কাটাকাটির একপর্যায়ে গত রোববার বিকেলে সাইদুর রহমান, তাঁর স্ত্রী ও ছেলে লাঠিসোঁটা নিয়ে সাইকুলের ওপর চড়াও হন। সাইকুলের মাথায় মারাত্মক আঘাত করা হলে তাঁকে বাঁচাতে এসে তাঁর স্ত্রী ও মেয়েও মারধরের শিকার হন। প্রতিবেশীরা আহত তিনজনকে আশঙ্কাজনক অবস্থায় উদ্ধার করে ময়মনসিংহ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করেন। সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় সোমবার ভোর সাড়ে ৪টার দিকে সাইকুলের মৃত্যু হয়। হামলার পরপরই অভিযুক্ত সাইদুর রহমান ও তাঁর স্বজনেরা বাড়ি ছেড়ে পালিয়ে যান।
ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে সিংধা ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান নাসিম তালুকদার জানান, খবর পেয়ে তিনি ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছেন। তুচ্ছ সীমানা বিরোধের জেরে স্বজনদের মধ্যে মারামারিতে একটি তাজা প্রাণ ঝরে যাওয়া অত্যন্ত মর্মান্তিক।
বারহাট্টা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) চম্পক দাম জানান, ময়মনসিংহ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে মরদেহের ময়নাতদন্ত সম্পন্ন করে পরিবারের কাছে হস্তান্তর করা হবে। এ বিষয়ে সোমবার দুপুরে নিহতের স্ত্রী বাদী হয়ে সাইদুর রহমান, তাঁর স্ত্রী ও ছেলেকে আসামি করে থানায় লিখিত অভিযোগ দায়ের করেছেন। ঘটনার পর থেকে অভিযুক্তরা আত্মগোপনে থাকায় তাঁদের আইনের আওতায় আনতে পুলিশি অভিযান অব্যাহত রয়েছে।
সম্পাদক : মাহমুদুল হাসান, বার্তা সম্পাদক: এ এইচ সুমন
oporadhkantho@gmail.com
Copyright © 2026 অপরাধ কণ্ঠ. All rights reserved.