
ভারতের বিহার রাজ্যের নওয়াদা জেলার নওরা গ্রামে গত ২৫ অক্টোবর এক অনাকাঙ্ক্ষিত হামলার ঘটনা ঘটেছে। স্থানীয় বাসিন্দাদের অভিযোগ অনুযায়ী, নামাজ শেষে মুসল্লিরা যখন মসজিদ থেকে বের হচ্ছিলেন, তখন একদল ব্যক্তি তাদের ওপর চড়াও হয়ে মারধর করে। এই ঘটনার সূত্রপাত ও পরবর্তী পরিস্থিতি ধামাচাপা দেওয়ার লক্ষ্যেই সম্ভবত মসজিদ প্রাঙ্গণে স্থাপিত সিসিটিভি ক্যামেরাগুলো ভাঙচুর করা হয়েছে।
স্থানীয় বাসিন্দারা দাবি করেছেন, হামলার সময় হামলাকারীরা গালিগালাজ করার পাশাপাশি তাদের প্রাণনাশের হুমকিও দিয়েছে। প্রত্যক্ষদর্শীদের ভাষ্যমতে, পাশের গ্রামের কয়েকজন ব্যক্তি মদ্যপ অবস্থায় এলাকায় বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি করে। এই ঘটনার প্রতিবাদ জানানো স্থানীয় কিছু ব্যক্তিও আক্রান্ত হয়েছেন। এলাকাবাসীর দাবি, হামলার সময় স্থানীয় সরপঞ্চকেও হুমকি দেওয়া হয়। তাদের দাবি, হামলায় জড়িত ব্যক্তিরা বাইরের গ্রামের বাসিন্দা।
মসজিদের ইমামকে কেন্দ্র করেও দীর্ঘদিনের উত্তেজনার অভিযোগ রয়েছে। আমরা এখানে শান্তি ও সম্প্রীতির সঙ্গে বসবাস করি।
বাসিন্দাদের অভিযোগ, এর আগেও ইমামকে একাধিকবার হয়রানি ও হুমকি দেওয়া হয়েছে।
এমনকি বোমা মেরে মসজিদ উড়িয়ে দেওয়ার মতো ভয়ংকর হুঁশিয়ারিও দেওয়া হয়েছিল বলে তারা জানিয়েছেন। এছাড়া ইমামের ব্যবহৃত সাইকেল চুরির ঘটনাও ঘটেছে বলে দাবি করা হয়েছে। তবে দীর্ঘকাল ধরে এই গ্রামে হিন্দু-মুসলিম উভয় সম্প্রদায়ের মধ্যে বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্ক বজায় রয়েছে এবং হামলার শিকার ব্যক্তিরা জানান, স্থানীয় কোনো হিন্দুর সঙ্গে তাদের কখনোই বিরোধ ছিল না, বরং বহিরাগতরাই এই অশান্তি সৃষ্টি করেছে।
ঘটনার বিষয়ে পুলিশ জানিয়েছে, ২৫ অক্টোবর ভোর ৪টার দিকে মসজিদের কাছে বিশৃঙ্খলার খবর পাওয়ার পর পুলিশ দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছায়। নরদিগঞ্জ থানায় ২৬ অক্টোবর ৪০৪/২৬ নম্বর মামলা দায়ের করা হয়েছে। পুলিশের নথিতে উল্লেখ রয়েছে যে, হামলার অভিযোগ পাওয়ার আগেই সিসিটিভি ক্যামেরা ভাঙচুরের ঘটনাটি ঘটেছিল। তদন্তে ফরেনসিক সায়েন্স ল্যাবরেটরির (এফএসএল) একটি দল আলামত সংগ্রহ করেছে। নওয়াদার পুলিশ সুপারের কার্যালয় থেকে ২৮ অক্টোবর প্রকাশিত এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, ২৫ অক্টোবর ভোর ৪টার দিকে মসজিদের কাছে গোলযোগের খবর পায় পুলিশ। খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছে এলাকা পরিদর্শন করে।
নওয়াদা পুলিশের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, ঘটনার প্রকৃত কারণ উদ্ঘাটনে বিস্তারিত তদন্ত চলছে। স্থানীয়দের জিজ্ঞাসাবাদ করা হয়েছে এবং সিসিটিভি ফুটেজ বিশ্লেষণ করা হচ্ছে। তবে পুলিশের আনুষ্ঠানিক বিবৃতিতে অভিযুক্তদের পরিচয় কিংবা গ্রেফতারের বিষয়ে এখনো কোনো তথ্য প্রকাশ করা হয়নি। এমনকি ইমামকে হুমকির বিষয়টি পুলিশের বিবৃতিতে সরাসরি উল্লেখ নেই। তদন্ত এগিয়ে যাওয়ার সঙ্গে সঙ্গে এ বিষয়ে আরও বিস্তারিত তথ্য সামনে আসতে পারে।
বর্তমানে স্থানীয় বাসিন্দারা ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত, প্রকৃত অপরাধীদের চিহ্নিত করে কঠোর আইনি ব্যবস্থা গ্রহণ এবং মসজিদ ও মুসল্লিদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করার দাবি জানিয়েছেন।
এদিকে, নওয়াদা পুলিশের পক্ষ থেকে এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে জনগণের প্রতি বিশেষ আহ্বান জানানো হয়েছে। আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখতে সাধারণ মানুষকে যেকোনো ধরনের গুজব, বিভ্রান্তিকর তথ্য এবং সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া যাচাইবিহীন পোস্টে কান না দেওয়ার অনুরোধ করা হয়েছে। পাশাপাশি, সন্দেহজনক কোনো তথ্য পাওয়া গেলে সরাসরি কর্তৃপক্ষকে জানানোর জন্য বলা হয়েছে। পুলিশের দাবি, অপরাধীদের বিরুদ্ধে যথাযথ ব্যবস্থা নেওয়া হবে এবং তদন্তের স্বার্থে আইন-শৃঙ্খলা বজায় রাখা অত্যন্ত জরুরি।
সম্পাদক : মাহমুদুল হাসান, বার্তা সম্পাদক: এ এইচ সুমন
oporadhkantho@gmail.com
Copyright © 2026 অপরাধ কণ্ঠ. All rights reserved.