
ব্রাজিলের সাম্প্রতিক প্রেসিডেন্ট নির্বাচনে এক রুদ্ধশ্বাস ও উত্তেজনাকর পরিস্থিতির মধ্য দিয়ে চূড়ান্ত বিজয় অর্জন করেছেন বর্তমান প্রেসিডেন্ট লুই ইনাসিও লুলা দ্য সিলভা। নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী সেনেটর ফ্লাভিও বোলসোনারোর সঙ্গে হাড্ডাহাড্ডি লড়াইয়ে সামান্য ভোটের ব্যবধানে তিনি চতুর্থ মেয়াদের জন্য নির্বাচিত হয়েছেন। দেশটির নির্বাচন কর্তৃপক্ষের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, দীর্ঘ প্রতীক্ষিত এই ভোটের ফলাফল আনুষ্ঠানিকভাবে নিশ্চিত করা হয়েছে।
লুলার এই বিজয়ের পর তার সমর্থক শিবিরে আনন্দের বন্যা বইছে। একে গণতন্ত্রের এক ঐতিহাসিক জয় হিসেবে অভিহিত করছে তার সমর্থকরা। তবে নির্বাচন কমিশনের পক্ষ থেকে ফলাফল ঘোষণা করা হলেও এখন পর্যন্ত ফ্লাভিও বোলসোনারো কিংবা তার শিবিরের কাছ থেকে পরাজয় স্বীকার করে কোনো মন্তব্য পাওয়া যায়নি। উল্লেখ্য, বোলসোনারোর প্রচার সমন্বয়কারী রজেরিও মারিনহো ভোটের সময় বাড়ানোর বিষয়ে সুপ্রিম কোর্টের সিদ্ধান্তের তীব্র সমালোচনা করে সামাজিক মাধ্যমে সরব থাকলেও বর্তমানে তিনি নীরব রয়েছেন। পারিবারিক রাজনীতির প্রেক্ষাপটে এটি বেশ গুরুত্বপূর্ণ, কারণ ফ্লাভিও’র পিতা সাবেক প্রেসিডেন্ট জায়ার বোলসোনারো ২০২২ সালে লুলার কাছে পরাজিত হয়েও কখনোই আনুষ্ঠানিকভাবে পরাজয় স্বীকার করেননি।
প্রথম ধাপের নির্বাচনে ডানপন্থি শক্তির উত্থান এবং লুলার পিছিয়ে পড়া দেখে রাজনৈতিক পর্যবেক্ষকরা তার জয় নিয়ে সন্দিহান ছিলেন। কিন্তু সব হিসাব-নিকাশ পাল্টে দিয়ে লুলা যে অবিশ্বাস্য প্রত্যাবর্তন করেছেন, তা ব্রাজিলের আধুনিক ইতিহাসে বিরল। বিশ্লেষক ফার্নান্দো ব্রাঙ্কোলি গণমাধ্যমকে জানিয়েছেন, নির্বাচনের প্রথম ধাপে পিছিয়ে থেকেও শেষ পর্যন্ত প্রেসিডেন্ট হিসেবে ফিরে আসার ঘটনা ব্রাজিলের রাজনৈতিক প্রেক্ষাপটে একেবারেই নজিরবিহীন।
ব্রাঙ্কোলির মতে, এই ফলাফলের সুদূরপ্রসারী প্রভাব রয়েছে। তার ভাষ্যমতে, লুলার নিজস্ব বলয়ের অনেকেই একসময় মনে করেছিলেন যে ফ্লাভিও বোলসোনারোই হয়তো বিজয়ের দিকে এগিয়ে যাচ্ছেন, কিন্তু লুলা সব ধারণাকে ভুল প্রমাণ করে টিকে থাকলেন। একইসঙ্গে তিনি সতর্কবার্তা দিয়ে বলেছেন, নতুন সরকারের জন্য যাত্রা সহজ হবে না। লুলার সরকারকে অনেক পরিকল্পনা বাস্তবায়নের ক্ষেত্রে বিরোধী পক্ষগুলোর সঙ্গে আপস ও দরকষাকষির মধ্য দিয়ে এগোতে হবে, কারণ এককভাবে সব লক্ষ্য অর্জন করা তার জন্য বেশ চ্যালেঞ্জিং হতে পারে।
রোববারের এই ঐতিহাসিক জয় লাতিন আমেরিকার বৃহত্তম এই দেশটির ক্ষমতার মসনদে লুলার অবস্থান আরও সুদৃঢ় করল। এই জয়ের মাধ্যমে এই অঞ্চলে ডানপন্থি শক্তির প্রভাব বিস্তারের পরিকল্পনা আপাতত বড় ধাক্কা খেল। এখন দেখার বিষয়, লুলা কীভাবে নতুন মেয়াদে তার প্রতিশ্রুতিসমূহ বাস্তবায়ন করেন এবং বিরোধী শিবিরের সঙ্গে সম্পর্কের সমীকরণ মেলাতে সক্ষম হন।
সম্পাদক : মাহমুদুল হাসান, বার্তা সম্পাদক: এ এইচ সুমন
oporadhkantho@gmail.com
Copyright © 2026 অপরাধ কণ্ঠ. All rights reserved.