
ফরিদপুরের মধুখালীতে একটি বেসরকারি ক্লিনিকের চরম অব্যবস্থাপনা ও চিকিৎসায় অবহেলার অভিযোগ উঠেছে। এর ফলে সিজারিয়ান অস্ত্রোপচারের আগেই মাতৃগর্ভে থাকা এক নবজাতকের মর্মান্তিক মৃত্যু হয়েছে। এই ঘটনায় জড়িত অভিযোগে কবিতা ক্লিনিকের মালিক কবিতাকে এক মাসের সশ্রম কারাদণ্ড এবং পাঁচ হাজার টাকা জরিমানা করেছেন ভ্রাম্যমাণ আদালত। একই সঙ্গে ক্লিনিকটির কার্যক্রম বন্ধের ঘোষণা দেওয়া হয়েছে।
ভুক্তভোগী পরিবারের তথ্য অনুযায়ী, রাজবাড়ী জেলার কোলারহাট গ্রামের বাসিন্দা আরিফ পাটোয়ারীর অন্তঃসত্ত্বা স্ত্রী শান্তা বেগম রোববার সকাল ৭টার দিকে প্রসবের জন্য ওই ক্লিনিকে ভর্তি হয়েছিলেন। অভিযোগ রয়েছে, চিকিৎসকের কোনো ব্যবস্থাপত্র বা পরামর্শ ছাড়াই ক্লিনিকের একজন নার্স রোগীকে একটি ইনজেকশন পুশ করেন। ইনজেকশন প্রয়োগের পর থেকেই রোগীর শারীরিক অবস্থার অবনতি হতে শুরু করে। পরবর্তীতে বিকেলে চিকিৎসক মইনুল হোসেন শাহিন অস্ত্রোপচারের প্রস্তুতি নিতে গিয়ে পরীক্ষা-নিরীক্ষা করে নিশ্চিত হন যে, গর্ভস্থ শিশুটি ইতোমধ্যে মারা গেছে।
এই অনাকাঙ্ক্ষিত মৃত্যুর খবর ছড়িয়ে পড়লে স্থানীয়দের মধ্যে উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে এবং ক্লিনিকের সামনে অসংখ্য মানুষ ভিড় জমান। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে মধুখালী উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ও নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট মো. মাসুদুর রহমান ভ্রাম্যমাণ আদালত পরিচালনা করেন। অভিযানে ক্লিনিকের লাইসেন্স ও প্রয়োজনীয় নথিপত্রের অভাব, পর্যাপ্ত চিকিৎসক ও দক্ষ নার্সের অনুপস্থিতি এবং অনিয়মের প্রমাণ পাওয়া যায়।
ভ্রাম্যমাণ আদালতের রায়ে ক্লিনিক মালিক কবিতাকে কারাদণ্ড ও অর্থদণ্ড প্রদান করা হয়। পাশাপাশি উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা দ্রুততম সময়ের মধ্যে সেখানে ভর্তি থাকা সব রোগীকে নিকটস্থ সরকারি হাসপাতালে স্থানান্তরের জন্য স্বাস্থ্য বিভাগকে নির্দেশ দিয়েছেন। প্রশাসনিক এই কর্মকর্তা আরও স্পষ্ট করেছেন যে, মধুখালী উপজেলায় অবৈধভাবে পরিচালিত এবং সেবার মানহীন ক্লিনিকগুলোর বিরুদ্ধে প্রশাসনের এমন অভিযান চলমান থাকবে।
সম্পাদক : মাহমুদুল হাসান, বার্তা সম্পাদক: এ এইচ সুমন
oporadhkantho@gmail.com
Copyright © 2026 অপরাধ কণ্ঠ. All rights reserved.