বাজেটের ওপর সাধারণ আলোচনায় অংশ নিয়ে সরকারদলীয় সংসদ সদস্য মনিরুল হক চৌধুরীর দেওয়া বক্তব্যকে কেন্দ্র করে জাতীয় সংসদ উত্তপ্ত হয়ে ওঠে।তার বক্তব্যের মাঝে বিরোধীদলের সদস্যরা তীব্র প্রতিবাদ জানালে সংসদে হট্টগোল সৃষ্টি হয়। রোববার (১৪ জুন) বিকেলে ডেপুটি স্পিকার ব্যারিস্টার কায়সার কামালের সভাপতিত্বে জাতীয় সংসদের বাজেট অধিবেশন শুরু হয়।
সংসদ সদস্য মনিরুল হক চৌধুরী বক্তব্যের শুরুতে তিনি প্রস্তাবিত বাজেটকে ‘ঐতিহাসিক, যুগান্তকারী, সর্বকালের সর্বশ্রেষ্ঠ এবং গণমুখী’ বলে আখ্যায়িত করেন। বাজেটে জিডিপি প্রবৃদ্ধি ৬.৫ শতাংশ এবং মূল্যস্ফীতি ৭.৫ শতাংশে নামিয়ে আনার লক্ষ্যমাত্রার প্রশংসা করেন তিনি। এছাড়া কুমিল্লা-ঢাকা রেললাইন প্রকল্পের উদ্যোগ নেওয়ায় তিনি প্রধানমন্ত্রী, অর্থমন্ত্রী এবং তারেক রহমানকে ধন্যবাদ জানান। দেশনেত্রী বেগম খালেদা জিয়া এই লাইনের সার্ভে করিয়েছিলেন, কিন্তু শেখ হাসিনা এটি করতে দেননি।
২০০৪ সালের একটি পারিবারিক দাওয়াতের গল্প টেনে মনিরুল হক চৌধুরী বলেন, একটি অনুষ্ঠানে আমিসহ অনেতে ফ্যামিলিসহ দাওয়াত দিয়েছিল. আমি বউ নিয়ে যাইনি। আমি কখনো বউ নিয়ে অনুষ্ঠানে যাই না। ঐ অনুষ্ঠানে গিয়ে দিখি ‘একটা কিছু হাঁটাহাঁটি করতেছে’। তিনি তখন জামায়াতের নায়েবে আমির ও বিরোধীদলীয় উপনেতা সৈয়দ আব্দুল্লাহ মোহাম্মদ তাহেরের সঙ্গে আলাপ প্রসঙ্গে বললাম তাহের ভাই, ভাবি কই?’ বললেন যে, এই যে। বললাম, আপনি যে বদলায় আনেন নাই, এটা কেমনে বুঝব?
তিনি, নারী সংসদ সদস্যদের ইঙ্গিত করে তাদের পোশাক ও পর্দা নিয়ে অত্যন্ত ব্যক্তিগত মন্তব্য করেন। তার মুখে এমন মন্তব্য শোনার সঙ্গে সঙ্গেই সরকারি ও বিরোধী দলের সংসদ সদস্যরা আসন ছেড়ে দাঁড়িয়ে তীব্র প্রতিবাদ ও চিৎকার শুরু করেন। তখন পুরো অধিবেশন কক্ষ জুড়ে হট্টগোল শুরু হয়। ওই সময় স্পিকার বারবার সংসদ সদস্যদের শান্ত হওয়ার অনুরোধ জানালেও পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে যায়।
মনিরুল হক চৌধুরীর এই আচরণের মুখে স্পিকার তাকে ব্যক্তিগত স্বাধীনতা নিয়ে কথা না বলার জন্য কঠোরভাবে সতর্ক করেন। স্পিকার অত্যন্ত ক্ষুব্ধ হয়ে বলেন, আমরা সবাই জনগণের ভোটে নির্বাচিত সংসদ সদস্য। আমরা যদি নিজেদের ডিসেন্সি এবং ডিগনিটি ধরে রাখতে না পারি, তবে দেশের মানুষের কাছে আমাদের লজ্জিত হতে হবে। এই মহান সংসদ কোনো ব্যক্তিগত আক্রমণ বা কারও ব্যক্তিগত স্বাধীনতা নিয়ে কথা বলার চারণক্ষেত্র নয়। এই তীব্র সমালোচনার মুখে মনিরুল হক চৌধুরী সংসদে দুঃখ প্রকাশ করতে বাধ্য হন এবং তার কোনো শব্দে কারও আত্মসম্মানে আঘাত লেগে থাকলে, তা এক্সপাঞ্জ করার অনুরোধ জানান।এ সময় তিনি চ্যালেঞ্জ ছুড়ে দিলে সংসদে চরম হট্টগোল ও বাদানুবাদ শুরু হয়। জামায়াতে ইসলামীর প্রসঙ্গ টেনে মনিরুল হক চৌধুরী বলেন, ‘ওনাদের সাথে আমার খুব ভালো সম্পর্ক। ১৯৬৮ সনে গোলাম আযমের নেতৃত্বে ঢাকায় আন্দোলন করেছি। আমি স্বীকার করি, জামায়াত ক্যাডারভিত্তিক সংগঠন, আপনারা লেখাপড়া করে রাজনীতি করেন।’
সম্পাদক : মাহমুদুল হাসান, বার্তা সম্পাদক: এ এইচ সুমন
oporadhkantho@gmail.com
Copyright © 2026 অপরাধ কণ্ঠ. All rights reserved.