চাঁদপুরের কচুয়ায় নিজের প্রতিষ্ঠিত মহিলা মাদ্রাসার ১৩ বছর বয়সী এক ছাত্রীকে যৌন হয়রানি ও শ্লীলতাহানির অভিযোগে মো. নুরুল আলম নামের এক জামায়াত কর্মীকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। আজ সোমবার তাকে চাঁদপুর আদালতে পাঠানো হয়েছে।
গ্রেপ্তার মো. নুরুল আলম (৪০) কচুয়া উপজেলার আশ্রাফপুর ইউনিয়নের চক্রা গ্রামের বেনুছো বাড়ির মদিনাতুল উলুম মহিলা মাদ্রাসার প্রতিষ্ঠাতা পরিচালক ও শিক্ষক। তিনি ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে জামায়াতে ইসলামীর আশ্রাফপুর ইউনিয়নের ৫ নম্বর ওয়ার্ড নির্বাচনী সমন্বয়কারীর দায়িত্বে ছিলেন।
এজাহার সূত্রে জানা যায়, অভিযুক্ত নুরুল আলম ওই মাদ্রাসার প্রতিষ্ঠাতা হওয়ার সুবাদে দীর্ঘদিন ধরে মাদ্রাসার আবাসিক কক্ষে থাকা ১৩ বছর বয়সী এক ছাত্রীকে বিভিন্ন সময় কুপ্রস্তাব ও যৌন হয়রানি করে আসছিলেন। ঘটনার দিন গতকাল রোববার বেলা সাড়ে ১১টার দিকে ভুক্তভোগী ছাত্রী পড়াশোনা করছিল। এ সময় শিক্ষক নুরুল আলম কৌশলে তাকে পড়ার কক্ষ থেকে শোয়ার কক্ষে নিয়ে যান এবং সেখানে জোরপূর্বক শারীরিক স্পর্শ ও শ্লীলতাহানি করেন। পরে ওই ছাত্রী নিজেকে ছাড়িয়ে কান্নায় ভেঙে পড়ে এবং দ্রুত পড়ার কক্ষে চলে এসে বিষয়টি তার মাকে জানায়। খবর পেয়ে ছাত্রীর মা মাদ্রাসায় ছুটে যান এবং মেয়ে ও তার সহপাঠীদের কাছ থেকে ঘটনার বিস্তারিত শোনেন।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, অভিযুক্ত শিক্ষক এর আগেও মাদ্রাসার একাধিক ছাত্রীর সঙ্গে এ ধরনের অশোভন আচরণ করেছেন।
ঘটনার পরপর ভুক্তভোগীর মা বাদী হয়ে মো. নুরুল আলমকে একমাত্র আসামি করে কচুয়া থানায় নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইনে মামলা দায়ের করেন।
এ বিষয়ে কচুয়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. আজিজুল ইসলাম বলেন, ‘অভিযোগ পাওয়ার পরপরই তাৎক্ষণিক অভিযান চালিয়ে অভিযুক্ত নুরুল আলমকে গ্রেপ্তার করা হয়। আজ সকালে তাকে আইনি প্রক্রিয়া শেষে চাঁদপুর বিজ্ঞ আদালতে সোপর্দ করা হয়েছে।’
সম্পাদক : মাহমুদুল হাসান, বার্তা সম্পাদক: এ এইচ সুমন
oporadhkantho@gmail.com
Copyright © 2026 অপরাধ কণ্ঠ. All rights reserved.