
ব্যবসায়ী নাছির উদ্দিন মাহমুদকে মারধর, ভাঙচুর ও ভয়ভীতি প্রদর্শনের ঘটনায় দায়ের করা মামলায় জামিন পেয়েছেন চিত্রনায়িকা পরীমনি। বৃহস্পতিবার, ৫ নভেম্বর সকালে ঢাকার সিনিয়র জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট মাহফুজুর রহমানের আদালতে আত্মসমর্পণ করেন তিনি। শুনানি শেষে আদালত ৫০০ টাকা মুচলেকায় তার জামিন মঞ্জুর করেন। এরপর তারা ২০২৪ সালের ২৫ জুন ঢাকার সিনিয়র জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে হাজির হয়ে জামিন পান।
এদিন সকাল সাড়ে ৯টার দিকে কড়া নিরাপত্তার মধ্যে ১১ জন দেহরক্ষী নিয়ে আদালতে পৌঁছান পরীমনি। এরপর বেলা ১১টা ৪১ মিনিটে তিনি আদালতের এজলাসে প্রবেশ করেন। তার আইনজীবী নীলাঞ্জনা রিফাত সুরভী আদালতে জামিনের আবেদন করলে শুনানি শুরু হয়। জামিন পাওয়ার পর বেলা ১২টার দিকে তিনি আদালত প্রাঙ্গণ ত্যাগ করেন। আদালত থেকে বের হওয়ার সময় তার দেহরক্ষীরা সাংবাদিকদের ওপর চড়াও হন। এ সময় এক সাংবাদিকের ফোন কেড়ে নিয়ে পরীমনি ক্ষোভ প্রকাশ করলেও পরবর্তীতে ফোনটি ফেরত দেওয়া হয়। এসময় তার সঙ্গে ১১ ব্যক্তিগত নিরাপত্তাকর্মী ছিলেন। তাদের সঙ্গে কিছু সময় বসারও অনুরোধ করেন।
এর আগের দিন বুধবার মামলাটির সাক্ষ্য গ্রহণের দিন ধার্য ছিল।
তবে অসুস্থতার কারণ দেখিয়ে আইনজীবী নীলাঞ্জনা রিফাত সুরভীর মাধ্যমে সময়ের আবেদন করেছিলেন পরীমনি। কিন্তু বাদীপক্ষের আইনজীবী আবুল কালাম মোহাম্মদ সোহেল সেই আবেদনের বিরোধিতা করে জামিন বাতিলের আবেদন জানান। বাদীপক্ষের অভিযোগ ছিল, আসামি ইচ্ছাকৃতভাবে আদালতের সময় নষ্ট করছেন। ওইদিন আদালত সময়ের আবেদন নাকচ করে পরীমনির বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি করেছিলেন এবং আগামী ২৩ ডিসেম্বর সাক্ষ্য গ্রহণের পরবর্তী দিন নির্ধারণ করেন। পরে গাড়িতে উঠার সময় এক সাংবাদিক তার গায়ে হাত দিয়েছে বলে অভিযোগ তোলেন পরীমনি।
পিবিআই ঢাকা জেলার পরিদর্শক মো. মনির হোসেনের তদন্ত প্রতিবেদন অনুযায়ী, ২০২৪ সালে পরীমনি ও তার কস্টিউম ডিজাইনার জুনায়েদ বোগদাদী জিমির বিরুদ্ধে মারধর ও ভয়ভীতি দেখানোর অভিযোগের সত্যতা পাওয়া যায়। তবে আরেক আসামি ফাতেমা তুজ জান্নাত বনির বিরুদ্ধে কোনো অভিযোগ প্রমাণিত হয়নি। এর আগে গত বছরের ২৬ জানুয়ারি আদালত এ মামলায় অভিযোগ গঠন করে বিচার শুরুর নির্দেশ দিলে পরীমনির বিরুদ্ধে প্রথমবার গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি হয়েছিল, পরবর্তীতে তিনি আত্মসমর্পণ করে জামিন পান। একই সঙ্গে পরীমণি ও তার কস্টিউম ডিজাইনার জুনায়েদ বোগদাদী জিমি ওরফে জিমকে আদালতে হাজির হতে সমন জারি করেন। পরীমণি তার পরিচিত পুলিশ কর্মকর্তাদের দিয়ে মিথ্যা মামলা করিয়ে হয়রানির ভয় দেখান।
উল্লেখ্য, ২০২১ সালের ৬ জুলাই সাভারের বোট ক্লাবের সভাপতি ব্যবসায়ী নাসির উদ্দিন মাহমুদ বাদী হয়ে পরীমনি, ফাতেমা তুজ জান্নাত বনি ও জুনায়েদ বোগদাদী জিমির বিরুদ্ধে মামলাটি দায়ের করেন। নাসির উদ্দিনের অভিযোগ, ২০২১ সালের ৯ জুন রাতে আসামিরা সাভারের বোট ক্লাবে ঢুকে দ্বিতীয় তলার ওয়াশরুম ব্যবহার করেন এবং সেখানে বসে মদ্যপান করেন। তারা সুযোগ বুঝে বিভিন্ন নামীদামি ক্লাবে ঢুকে অ্যালকোহল পান করেন এবং পার্সেল নিয়ে মূল্য পরিশোধ করেন না।
মামলার এজাহারে উল্লেখ করা হয়েছে, রাত ১টা ১৫ মিনিটের দিকে ক্লাব ত্যাগ করার সময় পরীমনি উদ্দেশ্যমূলকভাবে নাসির উদ্দিনকে ডেকে অশালীন অঙ্গভঙ্গির মাধ্যমে তাকে আকৃষ্ট করার চেষ্টা করেন। এ সময় একটি ব্লু লেবেল অ্যালকোহলের বোতল ফ্রি পার্সেল হিসেবে দাবি করলে নাসির উদ্দিন তা দিতে অস্বীকার করেন। এতে ক্ষিপ্ত হয়ে পরীমনি তাকে গালিগালাজ করেন এবং সার্ভিং গ্লাস ও মোবাইল ফোন ছুড়ে মারেন। এতে নাসির মাথায় ও বুকে আঘাতপ্রাপ্ত হন বলে অভিযোগে জানানো হয়। আবেদনে উল্লেখ করেন, এলার্জি জনিত কারণে আসামি পরীমনি অসুস্থ। এতে আরও বলা হয়, বাদী (নাসির উদ্দিন মাহমুদ) ও তার সহযোগী শাহ শহিদুল আলম রাত ১টা ১৫ মিনিটে যখন ক্লাব ত্যাগ করছিলেন, তখন পরীমণি উদ্দেশ্যমূলকভাবে নাসিরকে ডাক দেন।
বাদীর ভাষ্যমতে, পরীমনি ও তার সহযোগীরা তাকে হত্যার হুমকি দেন এবং ক্লাবে ভাঙচুর চালান। এই ঘটনা ধামাচাপা দিতেই পরবর্তী সময়ে পরীমনি সাভার থানায় নাসির উদ্দিন ও তার এক সহযোগীর বিরুদ্ধে পাল্টা ধর্ষণচেষ্টা ও হত্যাচেষ্টার অভিযোগ এনে মামলা দায়ের করেন।
সম্পাদক : মাহমুদুল হাসান, বার্তা সম্পাদক: এ এইচ সুমন
oporadhkantho@gmail.com
Copyright © 2026 অপরাধ কণ্ঠ. All rights reserved.