
যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যবর্তী নির্বাচনে কংগ্রেসের নিম্নকক্ষ প্রতিনিধি পরিষদের নিয়ন্ত্রণ হারাচ্ছে ক্ষমতাসীন রিপাবলিকান পার্টি। চার বছর পর বিরোধী দল ডেমোক্রেটিক পার্টির হাতে যেতে চলেছে আইনসভার গুরুত্বপূর্ণ এই কক্ষের কর্তৃত্ব। সিবিএস নিউজের পূর্বাভাস অনুযায়ী, প্রতিনিধি পরিষদের ৪৩৫টি আসনের মধ্যে অন্তত ২১৮টিতে ডেমোক্র্যাটরা জয়ী হওয়ার পথে রয়েছে। বিপরীতে রিপাবলিকানরা অন্তত ১৬০টি আসন পেতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে। সংখ্যাগরিষ্ঠতা অর্জনের জন্য প্রয়োজনীয় ২১৮টি আসনে পৌঁছানোর মাধ্যমে ডেমোক্র্যাটরা তাদের নিয়ন্ত্রণ নিশ্চিত করতে যাচ্ছে।
স্থানীয় সময় মঙ্গলবার অনুষ্ঠিত এই নির্বাচনের ভোট গণনার পাশাপাশি বিভিন্ন সংবাদমাধ্যমের তথ্য বিশ্লেষণে ডেমোক্র্যাটদের এই অগ্রগতির বিষয়টি স্পষ্ট হয়ে উঠেছে। নির্বাচনের আগে প্রতিনিধি পরিষদে রিপাবলিকানদের দখলে ছিল ২১৯টি আসন এবং ডেমোক্র্যাটদের ছিল ২১৪টি। ওই সময় দুটি আসন শূন্য ছিল। এবার সেই সমীকরণে বড় পরিবর্তন আসতে চলেছে।
তবে সিনেটের নিয়ন্ত্রণ এখনো অনিশ্চিত।
বর্তমানে ১০০ আসনের এই কক্ষটিতে সংখ্যাগরিষ্ঠতা পেতে ডেমোক্র্যাটদের অন্তত চারটি আসন নিজেদের অনুকূলে আনতে হবে। রয়টার্সের প্রতিবেদনে জানানো হয়েছে, নর্থ ক্যারোলাইনা ও সাউথ ক্যারোলাইনায় রিপাবলিকানদের কাছ থেকে গুরুত্বপূর্ণ দুটি আসন ছিনিয়ে নিয়েছে ডেমোক্র্যাটরা। নর্থ ক্যারোলাইনায় সাবেক গভর্নর রয় কুপার রিপাবলিকান প্রার্থী মাইকেল হোয়াটলিকে পরাজিত করেছেন। সাউথ ক্যারোলাইনায়ও জয় পেয়েছেন ডেমোক্র্যাট প্রার্থী অ্যানি অ্যান্ড্রুজ। আলাস্কা, আইওয়া, মিশিগান, মেইন, ওহাইও ও টেক্সাসের মতো অঙ্গরাজ্যগুলোর চূড়ান্ত ফলের ওপর নির্ভর করছে সিনেটের নিয়ন্ত্রণ কার হাতে থাকবে। নির্বাচনের আগে সিনেটে রিপাবলিকানদের ৫৩টি ও ডেমোক্র্যাটসহ স্বতন্ত্র সদস্যদের ৪৭টি আসন ছিল।
প্রেসিডেন্টের ক্ষমতার মেয়াদের অর্ধেক সময়ে অনুষ্ঠিত এই নির্বাচনকে বর্তমান প্রশাসনের জনপ্রিয়তা ও নীতির প্রতি ভোটারদের আস্থার পরীক্ষা হিসেবে দেখা হয়। এবারের নির্বাচনে জ্বালানির দাম, জীবনযাত্রার ব্যয়, অর্থনৈতিক নীতি এবং ইরান যুদ্ধের প্রভাব ইস্যু হয়ে দাঁড়িয়েছে। রয়টার্সের বুথফেরত জরিপে অংশ নেওয়া প্রায় অর্ধেক ভোটার জানিয়েছেন, ট্রাম্পের প্রতি অসন্তোষ প্রকাশের অংশ হিসেবে তারা ভোট দিয়েছেন। এছাড়া প্রায় তিন-চতুর্থাংশ ভোটার দেশের বর্তমান গতিপথ নিয়ে ক্ষুব্ধ অথবা অসন্তুষ্ট বলে মতামত দিয়েছেন। জরিপে ৭০ শতাংশ ভোটার মনে করেন, প্রেসিডেন্টের ক্ষমতার ওপর কংগ্রেসের আরও কার্যকর নিয়ন্ত্রণ ও ভারসাম্য থাকা জরুরি।
প্রতিনিধি পরিষদে সংখ্যাগরিষ্ঠতা অর্জন করলে ডেমোক্র্যাটরা আইন প্রণয়ন প্রক্রিয়ায় আধিপত্য বিস্তার করতে পারবে। পাশাপাশি বিভিন্ন কমিটির নেতৃত্ব গ্রহণ এবং সরকারি কার্যক্রমের ওপর নজরদারি চালানো তাদের জন্য সহজ হবে। ট্রাম্প প্রশাসনের বিতর্কিত সিদ্ধান্ত ও কর্মকাণ্ড নিয়ে তদন্ত শুরু করার ক্ষমতাও তাদের হাতে আসবে।
সিনেটের নিয়ন্ত্রণ পাওয়ার বিষয়টি ডেমোক্র্যাটদের জন্য বিচারকসহ গুরুত্বপূর্ণ সরকারি পদে প্রেসিডেন্টের মনোনীত ব্যক্তিদের নিয়োগ আটকাতে বা অনুমোদনের ক্ষেত্রে বড় প্রভাব ফেলার সুযোগ তৈরি করে দেবে। সব মিলিয়ে, প্রতিনিধি পরিষদে এই পরাজয় ট্রাম্পের বর্তমান মেয়াদের শেষ দুই বছরে হোয়াইট হাউস ও কংগ্রেসের মধ্যে রাজনৈতিক বিরোধকে আরও বাড়িয়ে তুলতে পারে। একইসঙ্গে এই ফলাফল ২০২৮ সালের প্রেসিডেন্ট নির্বাচনের রাজনীতিতেও প্রভাব ফেলতে পারে বলে মনে করছেন বিশ্লেষকরা।
কংগ্রেসে ডেমোক্র্যাটদের এমন শক্ত অবস্থান দলটির জন্য রাজনৈতিক ও সাংগঠনিকভাবে নতুন সুযোগ তৈরি করবে। তবে কংগ্রেসের পূর্ণ নিয়ন্ত্রণ শেষ পর্যন্ত কাদের হাতে থাকবে, তা নিশ্চিত হতে সিনেটের বাকি আসনগুলোর চূড়ান্ত ফলাফলের জন্য অপেক্ষা করতে হবে। বর্তমান পরিস্থিতি ট্রাম্প প্রশাসনের জন্য এক বড় ধরনের রাজনৈতিক ধাক্কা হিসেবেই বিবেচিত হচ্ছে।
সম্পাদক : মাহমুদুল হাসান, বার্তা সম্পাদক: এ এইচ সুমন
oporadhkantho@gmail.com
Copyright © 2026 অপরাধ কণ্ঠ. All rights reserved.