
রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্রে উৎপাদিত বিদ্যুৎ কিনবে বিদ্যুৎ উন্নয়ন বোর্ড (পিডিবি)। তবে কেন্দ্রটি ঠিক কবে নাগাদ চালু হবে, সে বিষয়ে সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয় বা পরমাণু শক্তি নিয়ন্ত্রণ কর্তৃপক্ষ থেকে পিডিবিকে এখনো কিছু জানানো হয়নি। সংস্থাটির চেয়ারম্যান রেজাউল করিম এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন। সব ধরনের পরীক্ষা-নিরীক্ষা সম্পন্ন হওয়ার পরই পিডিবির সঙ্গে বিদ্যুৎ ক্রয়-বিক্রয় চুক্তি বা পিপিএ স্বাক্ষরিত হওয়ার কথা রয়েছে। তবে রূপপুর প্রকল্পে কী পরিমাণ অর্থ কোন খাতে ব্যয় হয়েছে তা গত ৯ মাসে সংশ্লিষ্ট কোম্পানি দিতে পারেনি। বিশেষ করে ইন্স্যুরেন্সসহ আরও কিছু খাত যোগ হবে।
প্রকল্পের বিদ্যুৎ উৎপাদন খরচ নিয়ে নীতিনির্ধারক ও বিশেষজ্ঞদের মধ্যে বিভিন্ন হিসাব উঠে এসেছে। কয়েকজন নীতিনির্ধারকের মতে, এখান থেকে প্রতি ইউনিট বিদ্যুৎ প্রায় ১০ টাকায় পাওয়া যেতে পারে। যদিও পিডিবির বিশেষজ্ঞ কমিটি প্রতি ইউনিট বিদ্যুতের দাম ৭ মার্কিন সেন্ট বা ৮ টাকা ৭৫ পয়সা হওয়ার সম্ভাবনা দেখছে। এই কমিটি কোনো ধরনের ক্যাপাসিটি চার্জ দেওয়ার পক্ষে নয়। তবে গত নয় মাসে প্রকল্প কর্তৃপক্ষ ব্যয়ের সঠিক হিসাব দিতে ব্যর্থ হওয়ায় প্রকৃত খরচ নিয়ে ধোঁয়াশা রয়ে গেছে। কিন্তু বিদ্যুৎকেন্দ্র কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, ওই হিসাবে বেশকিছু খরচ বাদ দেওয়া হয়েছে। তবে ডলারের দাম বাড়লে এই খরচ আরও বাড়বে।
বিদ্যুৎকেন্দ্রের আয়ুষ্কাল নিয়েও মতভেদ রয়েছে। তবে সবকিছু নির্ভর করছে সরকারের দক্ষতার ওপর।
রোসাটম ৮০ বছরের সুপারিশ করলেও পিডিবি ৬০ বছর আয়ু ধরে হিসাব তৈরি করেছে। পিডিবির প্রতিবেদন অনুযায়ী ৮ টাকা ৭৫ পয়সায় বিদ্যুৎ পাওয়া সম্ভব হলেও, কেন্দ্র কর্তৃপক্ষের দাবি বীমাসহ অন্যান্য খরচ যুক্ত করলে দাম ১০ টাকার নিচে নামবে না। এছাড়া প্রায় ১২ দশমিক ৬৫ বিলিয়ন ডলার বিনিয়োগের বিপরীতে ২০ বছরে ঋণের সুদসহ সরকারকে মোট ২০ বিলিয়ন ডলার পরিশোধ করতে হবে। ১২০০ মেগাওয়াট উৎপাদন ক্ষমতার এই প্রকল্পে ৯০ শতাংশ দক্ষতা ধরে বছরে ২০ কোটি ডলার পরিচালন ব্যয় হিসেব করা হয়েছে। কর্মকর্তাদের মতে, ২০ বছর পর ঋণ পরিশোধ শেষ হলে উৎপাদন খরচ কমে প্রতি ইউনিট ৩ সেন্টে নেমে আসতে পারে। তুলনামূলক বিশ্লেষণে দেখা যায়, ভারতে পরমাণু বিদ্যুৎ উৎপাদন খরচ যেখানে ২ দশমিক ৫০ থেকে ৪ দশমিক ৫০ রুপি, সেখানে বাংলাদেশে তা ৮ থেকে ১০ টাকার মতো পড়ছে। একাধিক সূত্র জানিয়েছে, রূপপুর কেন্দ্রের আয়ু ৮০ বছর ধরতে সুপারিশ করেছে রোসাটম। কিন্তু পিডিবি ৬০ বছর আয়ু বা উৎপাদনের মেয়াদকাল ধরে হিসাব করে একটি প্রতিবেদন বিদ্যুৎ বিভাগে জমা দিয়েছে। সংশ্লিষ্ট একজন কর্মকর্তা নাম প্রকাশ না করার শর্তে বলেছেন, রূপপুর থেকে আসল লাভ পাওয়া যাবে ২০ বছর পর। তখন ঋণ শোধের পর প্রতি ইউনিট বিদ্যুতের মূল্য ৩ সেন্ট হতে পারে।
এদিকে পাবনার ঈশ্বরদীতে অবস্থিত এই বিদ্যুৎকেন্দ্রের দ্বিতীয় ইউনিটের জন্য পারমাণবিক জ্বালানি বা ইউরেনিয়ামের নতুন চালান এসে পৌঁছেছে। সেনাবাহিনীর বিশেষ নিরাপত্তায় ১২টি টিপিএসে মোট ৪১ টন জ্বালানি বহনকারী গাড়িগুলো মঙ্গলবার সকাল পৌনে ৮টার দিকে প্রকল্প এলাকায় প্রবেশ করে। এর আগে সোমবার রাশিয়া থেকে আকাশপথে জ্বালানিগুলো ভারতের দিল্লি হয়ে ঢাকার হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে আনা হয়, যেখান থেকে পরমাণু শক্তি কমিশনের কর্মকর্তারা তা বুঝে নেন।
সম্পাদক : মাহমুদুল হাসান, বার্তা সম্পাদক: এ এইচ সুমন
oporadhkantho@gmail.com
Copyright © 2026 অপরাধ কণ্ঠ. All rights reserved.