
সম্প্রতি সম্পন্ন হওয়া ত্রিদেশীয় ওয়ানডে সিরিজের জয়রথ টি-টোয়েন্টি স্কোয়াডেও বজায় রাখল আফগানিস্তান। সংযুক্ত আরব আমিরাতের শারজাহ ক্রিকেট স্টেডিয়ামে অনুষ্ঠিত তিন ম্যাচ সিরিজের উদ্বোধনী খেলায় জিম্বাবুয়েকে ৩৭ রানের স্পষ্ট ব্যবধানে পরাজিত করেছে আফগানরা। দারুণ এই জয়ের ওপর ভর করে সিরিজে বর্তমানে ১-০ ব্যবধানে এগিয়ে গেছে রশিদ খানের দল। ম্যাচজুড়ে অসাধারণ অলরাউন্ড পারফরম্যান্স প্রদর্শনের সুবাদে সেরা খেলোয়াড়ের খেতাব অর্জন করেছেন আফগান দলপতি। ব্যাট ও বল হাতে দলের জয়ে অনবদ্য ভূমিকা রাখায় ম্যাচসেরার খেতাব জেতেন এই তারকা অলরাউন্ডার।
ম্যাচের সূচনায় টস জিতে শুরুতে ব্যাটিং করার সিদ্ধান্ত নেয় আফগানিস্তান। টস জিতে প্রথমে ব্যাট করতে নেমে শুরুতেই বেশ বিপাকে পড়েছিল আফগানিস্তান।
তবে ইনিংসের শুরুতে জিম্বাবুয়ের বোলারদের নিয়ন্ত্রিত আক্রমণের সামনে পড়ে কিছুটা চাপে নতি স্বীকার করতে হয়েছিল তাদের। পাওয়ার প্লে-র ভেতরেই কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ উইকেটের পতনে দলীয় সংগ্রহ ধাক্কা খায়। কিন্তু পরবর্তী সময়ে মিডল ও লোয়ার অর্ডারের খেলোয়াড়দের সাহসী ও দায়িত্বশীল ব্যাটিং দলকে বড় সংগ্রহের দিকে নিয়ে যায়। বিশেষ করে তরুণ ব্যাটার আইজাজ আহমেদজাই অত্যন্ত আক্রমণাত্মক ভঙ্গি বেছে নেন। মাত্র ২২ বল মোকাবেলা করে চারটি দৃষ্টিনন্দন চার ও সমান সংখ্যক ছক্কা হাঁকিয়ে ৫২ রানের একটি বিধ্বংসী ফিফটি উপহার দেন তিনি। এর পাশাপাশি আফগান অধিনায়ক রশিদ খানও গুরুত্বপূর্ণ ৩০ রান যোগ করেন। ফলে ১৯.৫ ওভারে ১৭৭ রানে অলআউট হয় দলটি। জিম্বাবুয়ের পক্ষে সবচেয়ে কার্যকর বোলিং করেন নুম্যান ন্যামহুরি, যিনি ৩১ রানে ৪ উইকেট পান। মাত্র ২২ বলের মুখোমুখি হয়ে ৪টি চার ও সমসংখ্যক ছক্কায় তিনি ৫২ রানের একটি বিস্ফোরক ও ঝড়ো ইনিংস উপহার দেন। সবমিলিয়ে নির্ধারিত ওভারের এক বল বাকি থাকতে ১৭৭ রানে অলআউট হয় আফগানিস্তান। তবে মিডল ও লোয়ার অর্ডারের ব্যাটারদের দৃঢ়তায় সেই চাপ কাটিয়ে ওঠে তারা। দলের পরাজয় ব্যবধান কমানোর জন্য কেউ বড় কোনো জুটি গড়তে পারেননি।
জয়ের জন্য ১৭৮ রানের বিশাল লক্ষ্য অনুসরণ করতে নেমে শুরু থেকেই আফগান বোলিং লাইনের তোপের মুখে পড়ে জিম্বাবুয়ের ব্যাটাররা। নিয়ন্ত্রিত পেস ও স্পিনের সঠিক সমন্বয়ে নিয়মিত বিরতিতে সফরকারীদের উইকেটের পতন ঘটে। ফলে তারা আর ম্যাচে শক্ত প্রতিরোধ গড়ে তুলতে পারেনি। শেষ পর্যন্ত ১৯.১ ওভারে ১৪০ রান তুলতেই জিম্বাবুয়ের পুরো ইনিংস গুটিয়ে যায়। দলের পক্ষে সর্বোচ্চ ৩২ রান করেন রায়ান বার্ল এবং ইনোসেন্ট কাইয়া করেন ২৪ রান। আফগানিস্তানের হয়ে ফজলহক ফারুকী অত্যন্ত কৃপণ বোলিং করে মাত্র ১৩ রান দিয়ে ৩ উইকেট নেন। এছাড়া রশিদ খান নিজের ৪ ওভারে ২০ রানের বিনিময়ে ২টি উইকেট শিকার করেন। নিয়মিত বিরতিতে উইকেট হারাতে থাকায় ম্যাচ থেকে ছিটকে পড়তে বেশি সময় লাগেনি তাদের।
সম্পাদক : মাহমুদুল হাসান, বার্তা সম্পাদক: এ এইচ সুমন
oporadhkantho@gmail.com
Copyright © 2026 অপরাধ কণ্ঠ. All rights reserved.