
সৌদি আরবের বিমানবন্দরগুলোতে পরিচালন কার্যক্রম সীমিত করার কারণে বাংলাদেশের সঙ্গে দেশটির আকাশপথে ভ্রমণ প্রক্রিয়ায় গভীর অস্থিরতা ও সংকট দেখা দিয়েছে। প্রতিনিয়ত একের পর এক নির্ধারিত ফ্লাইট স্থগিত হওয়ার ফলে মারাত্মক বিপাকে পড়েছেন প্রবাসী শ্রমিক, ওমরাহপালনকারী ও ব্যবসায়ীসহ নানা পেশার মানুষ। এতে তাদের স্বাভাবিক ভ্রমণ পরিকল্পনা সম্পূর্ণভাবে বিপর্যস্ত হয়ে পড়েছে। পাশাপাশি ওমরাহযাত্রী ও ব্যবসায়ীদেরও ভ্রমণ পরিকল্পনায় পরিবর্তন আনতে হতে পারে।
বেসামরিক বিমান চলাচল কর্তৃপক্ষের (বেবিচক) দেওয়া সর্বশেষ প্রাতিষ্ঠানিক তথ্যানুসারে, এ পর্যন্ত সৌদি আরবগামী সর্বমোট ১৪৪টি ফ্লাইট স্থগিত ঘোষণা করা হয়েছে। হঠাৎ নেওয়া এই সিদ্ধান্তের কারণে অন্তত ২২ হাজার ২১ জন যাত্রী সরাসরি দুর্ভোগের সম্মুখীন হয়েছেন। সময়মতো সমস্যার সমাধান না হয়ে এই স্থবিরতা অব্যাহত থাকলে যাত্রীদের কষ্ট ও আর্থিক ক্ষতির মাত্রা বহু গুণ বৃদ্ধি পাওয়ার আশঙ্কা প্রকাশ করা হয়েছে। পরিস্থিতি দীর্ঘায়িত হলে যাত্রীদের দুর্ভোগ আরও বাড়ার আশঙ্কা রয়েছে। ফ্লাইট স্থগিতের কারণে সবচেয়ে বেশি অনিশ্চয়তায় রয়েছেন কর্মসংস্থানের উদ্দেশ্যে সৌদি আরবগামী যাত্রীরা। এ পরিস্থিতিতে ক্ষতিগ্রস্ত যাত্রীদের সহায়তায় এয়ারলাইন্সগুলোর ভূমিকা গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে। তবে শুধু যাত্রীদের সতর্ক থাকার পরামর্শই যথেষ্ট নয়।
স্থগিত হওয়া ১৪৪টি ফ্লাইটের মধ্যে ৬৭টি সরাসরি (ডাইরেক্ট) রুট এবং ৭৭টি বিভিন্ন দেশের ওপর দিয়ে পরিচালিত ট্রানজিট ফ্লাইট হিসেবে চিহ্নিত করেছে বেবিচক। সরাসরি ও ট্রানজিট রুটে চলাচলকারী দেশি-বিদেশি এয়ারলাইন্সগুলোর নিজস্ব ফ্লাইট সূচিতে এ কারণে ব্যাপক বিপর্যয় নেমে এসেছে।
সরাসরি ফ্লাইট পরিচালনাকারী প্রধান চারটি এয়ারলাইন্সের মধ্যে বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্সের ২৮টি, ইউএস-বাংলা এয়ারলাইন্সের ১০টি, সৌদিয়ার ১৯টি এবং রিয়াদ এয়ারের ১০টি ফ্লাইট বাতিল বা স্থগিত করতে হয়েছে। সরাসরি গন্তব্যে যেতে না পেরে এসব এয়ারলাইন্সের যাত্রীরা চরম অনিশ্চয়তার মুখে পড়েছেন।
অন্যদিকে, ট্রানজিট রুটে চলাচলকারী আন্তর্জাতিক এয়ারলাইন্সগুলোর ফ্লাইট বাতিলের তালিকায় রয়েছে বেশ কয়েকটি সংস্থা। এর মধ্যে রয়েছে
অন্যান্য দেশের বিমানবন্দর অতিক্রম করে মধ্যবর্তী ট্রানজিট রুটে সৌদি আরবে যাওয়ার কথা ছিল এমন প্রবাসীদের ভ্রমণসূচিও পুরোপুরি অচল হয়ে পড়েছে। এতে করে তাদের নির্ধারিত কর্মস্থলে যোগদান বা ওমরাহ পালনে অনিশ্চয়তা দেখা দিয়েছে। ভ্রমণসূচি সংশোধন, টিকিটের সময় পুনর্নির্ধারণ কিংবা নতুন করে টিকিট ক্রয়ের জন্য যাত্রীদের দ্বারে দ্বারে ঘুরতে হচ্ছে। তবে ক্ষতিগ্রস্তদের মধ্যে কতজন বিকল্প সুবিধা বা অর্থ ফেরত পেয়েছেন তা নিশ্চিত হওয়া যায়নি। স্থগিত ফ্লাইটের যাত্রীদের কতজনকে বিকল্প ফ্লাইটে নেওয়া হয়েছে, কতজনের টিকিটের তারিখ পরিবর্তন করা হয়েছে এবং অর্থ ফেরতের আবেদন কতটি নিষ্পত্তি হয়েছে, তা জানা প্রয়োজন।
বিশেষ করে প্রবাসীদের ক্ষেত্রে সময়মতো পৌঁছাতে না পারলে চাকরি হারানোসহ নানাবিধ আইনি জটিলতার শঙ্কা রয়েছে। এ অবস্থায় সংশ্লিষ্ট এয়ারলাইন্স এবং বেবিচকের সমন্বিত উদ্যোগ, দ্রুত তথ্য আদান-প্রদান ও অর্থ ফেরতে স্বচ্ছতা নিশ্চিত করার জোর দাবি উঠেছে। যাত্রীদেরও ভ্রমণের আগে নিজ নিজ এয়ারলাইন্স থেকে ফ্লাইটের সর্বশেষ অবস্থা নিশ্চিত করার পরামর্শ দেওয়া হচ্ছে।
সম্পাদক : মাহমুদুল হাসান, বার্তা সম্পাদক: এ এইচ সুমন
oporadhkantho@gmail.com
Copyright © 2026 অপরাধ কণ্ঠ. All rights reserved.