
যুক্তরাষ্ট্রের ২০২৮ সালের প্রেসিডেন্ট নির্বাচনে ডেমোক্র্যাটিক পার্টির সম্ভাব্য প্রার্থী হিসেবে আলোচনার কেন্দ্রে উঠে এসেছেন জর্জিয়ার সিনেটর জন অসফ। ২০২৬ সালের মধ্যবর্তী নির্বাচনে জর্জিয়ার সিনেট আসন থেকে পুনর্নির্বাচিত হওয়ার পর ডেমোক্র্যাটিক পার্টির প্রেসিডেন্ট পদে তার সম্ভাবনা নিয়ে মার্কিন রাজনৈতিক অঙ্গনে জোর আলোচনা শুরু হয়েছে। অনলাইন পূর্বাভাসভিত্তিক বাজার পলিমার্কেটে ডেমোক্র্যাটদের সম্ভাব্য প্রার্থী হওয়ার দৌড়ে আলেকজান্দ্রিয়া ওকাসিও-কর্টেজ এবং জেডি ভ্যান্সের মতো জনপ্রিয় নেতাদের পেছনে ফেলেছেন ৩৯ বছর বয়সী এই রাজনীতিবিদ।
অনলাইন প্রেডিকশন মার্কেট পলিমার্কেটের সর্বশেষ তথ্য অনুযায়ী, ২০২৮ সালের নির্বাচনে ডেমোক্র্যাটিক পার্টির মনোনয়ন পাওয়ার ক্ষেত্রে জর্জিয়ার সিনেটর জন অসফের সম্ভাবনা উল্লেখযোগ্য হারে বেড়ে ২৪ শতাংশে দাঁড়িয়েছে। পরিসংখ্যানে দেখা যায়, আগের মাত্র ২৪ ঘণ্টায় তার সম্ভাবনা ৯ শতাংশ পর্যন্ত বেড়েছে। এছাড়া ২০২৮ সালের চূড়ান্ত প্রেসিডেন্ট নির্বাচনে সরাসরি বিজয়ী হওয়ার পূর্বাভাসও এক দিনের ব্যবধানে ১০ দশমিক ৫ শতাংশ থেকে বেড়ে ১৮ শতাংশে উন্নীত হয়েছে।
অনলাইন এই পূর্বাভাসে অসফের চেয়ে চার শতাংশ পয়েন্ট পিছিয়ে অবস্থান করছেন নিউইয়র্কের প্রভাবশালী কংগ্রেস সদস্য আলেকজান্দ্রিয়া ওকাসিও-কর্টেজ। অন্যদিকে ভাইস প্রেসিডেন্ট জেডি ভ্যান্সের চেয়ে পাঁচ শতাংশ পয়েন্ট এগিয়ে রয়েছেন অসফ। একসময় ডেমোক্র্যাটদের সম্ভাব্য শক্তিশালী প্রার্থী হিসেবে এগিয়ে থাকা ক্যালিফোর্নিয়ার গভর্নর গ্যাভিন নিউসমের রাজনৈতিক অবস্থানও অনেকটা দুর্বল হয়েছে। পলিমার্কেটে একপর্যায়ে গ্যাভিন নিউসমের দলীয় মনোনয়ন পাওয়ার সম্ভাবনা সর্বোচ্চ ৪০ শতাংশে পৌঁছালেও পরবর্তী সময়ে তা নাটকীয়ভাবে কমে ১৫ শতাংশে নেমে আসে।
সংশ্লিষ্ট বিশ্লেষকদের মতে, সাম্প্রতিক মধ্যবর্তী নির্বাচনে জর্জিয়ার গুরুত্বপূর্ণ সিনেট আসনটি ধরে রাখাই জন অসফের জাতীয় রাজনীতিতে স্থান ও জনপ্রিয়তা বৃদ্ধির মূল কারণ। প্রতিদ্বন্দ্বী রিপাবলিকান প্রার্থী মাইক কলিন্সকে বড় ব্যবধানে পরাজিত করে জর্জিয়া থেকে পুনর্নির্বাচিত হন তিনি। নির্বাচনে মোট ২৪ লাখের বেশি ভোট পেয়ে ৫৮ দশমিক ৯ শতাংশ ভোট ঝুলিতে পুরেন অসফ।
নির্বাচনী প্রচারণায় ডোনাল্ড ট্রাম্প প্রশাসনের নেওয়া বিভিন্ন পদক্ষেপের তীব্র ও রাজনৈতিক সমালোচনা করেন অসফ। তিনি প্রকাশ্যে অভিযোগ করেন যে, প্রেসিডেন্ট নিজের ব্যক্তিগত আর্থিক স্বার্থ চরিতার্থ করতে ক্ষমতার অপব্যবহার করছেন এবং দেশের সামগ্রিক অর্থনৈতিক ও রাজনৈতিক ভিত্তিকে দুর্বল করে দিচ্ছেন। নির্বাচনী প্রচার কার্যক্রমে তিনি সাধারণ মানুষের থেকে ১০ কোটি ডলারের বেশি অনুদান সংগ্রহ করতে সক্ষম হন। সংগৃহীত বিপুল রাজনৈতিক তহবিল ও গণসমর্থন তাকে জাতীয় রাজনীতিতে ব্যাপকভাবে প্রভাবশালী করে তুলেছে। তার নির্বাচনী প্রচারে ১০ কোটি ডলারের বেশি অনুদানও জমা পড়ে।
নির্বাচনী ফলাফলে বিজয় সুনিশ্চিত হওয়ার পর আয়োজিত জনসভায় সমর্থকদের উদ্দেশে বক্তব্য দেন অসফ। তিনি ঘোষণা করেন, ‘আমাদের কাজ শুধু একজন প্রেসিডেন্টের অনিষ্ট ঠেকানো নয়, বরং এর নিচে থাকা ভাঙনও সারিয়ে তোলা।’ প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পের পূর্ববর্তী শাসনামলকে চূড়ান্ত ব্যর্থ উল্লেখ করে অসফ আরো যোগ করেন, মার্কিন দেশের জনগণ তার অনৈতিকতা, দুর্নীতি ও অযোগ্যতার বিরুদ্ধে সুস্পষ্ট রায় ঘোষণা করেছে।
জন অসফের রাজনৈতিক দৃষ্টিভঙ্গি, আকর্ষণীয় বাগ্মিতা এবং তরুণ নেতৃত্বের কারণে দেশটির রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের অনেকেই তার মধ্যে সাবেক প্রেসিডেন্ট বারাক ওবামার ছায়া দেখতে পাচ্ছেন। ওবামার রাজনৈতিক ক্যারিয়ারের মতোই অসফ শক্তিশালী বক্তা হিসেবে প্রগতিশীল ও মধ্যপন্থি আদর্শের মধ্যে সুন্দর ভারসাম্য রক্ষা করে চলেন। বয়সের দিক থেকেও সাম্প্রতিক মার্কিন রাজনীতির শীর্ষ নেতাদের তুলনায় তিনি বেশ তরুণ, যা তাকে ‘নতুন বারাক ওবামা’ হিসেবে পরিচিতি দিচ্ছে।
তবে ২০২৮ সালের প্রেসিডেন্ট নির্বাচন অনুষ্ঠিত হতে এখনো দুই বছরের বেশি সময় বাকি রয়েছে। পলিমার্কেটের এই পরিসংখ্যান চূড়ান্ত কোনো দলীয় সিদ্ধান্ত বা ফল নির্দেশ করে না। মধ্যবর্তী নির্বাচনে জর্জিয়ায় ঐতিহাসিক সাফল্যের পর মার্কিন রাজনৈতিক পটভূমিতে অসফের ভবিষ্যৎ সম্ভাবনা নিয়ে যে বিপুল কৌতুহল তৈরি হয়েছে, এসব তথ্য ও পূর্বাভাস তারই প্রতিফলন।
সম্পাদক : মাহমুদুল হাসান, বার্তা সম্পাদক: এ এইচ সুমন
oporadhkantho@gmail.com
Copyright © 2026 অপরাধ কণ্ঠ. All rights reserved.