সালমান শাহ হত্যা মামলায় ডন কারাগারে

অনলাইন ডেস্ক অনলাইন ডেস্ক
  প্রকাশিত হয়েছেঃ   ৯ আগস্ট ২০২৬, ১০:৪৭ পিএম

চিত্রনায়ক সালমান শাহ হত্যা মামলায় গ্রেপ্তার খল অভিনেতা আশরাফুল হক ডনকে কারাগারে পাঠানোর আদেশ দিয়েছেন আদালত।আজ রোববার ঢাকার মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট জুয়েল রানা শুনানি শেষে এই আদেশ দিয়েছেন।

শুনানিকালে ডনের পক্ষে কোনো আইনজীবী ছিলেন না। তবে রাষ্ট্রপক্ষে ঢাকা মহানগর পাবলিক প্রসিকিউটর ওমর ফারুকী আসামিকে আটক রাখার পক্ষে শুনানি করেন।

এর আগে, আজ সকালে ঢাকার শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর থেকে ডনকে গ্রেপ্তার করা হয়। এরপর বেলা পৌনে ৩টার দিকে তাকে কারাগারে আটক রাখার আবেদন করে মামলার তদন্ত কর্মকর্তা সিআইডি পুলিশের ঢাকা মেট্রো দক্ষিণের ইন্সপেক্টর আরিফুর রহমান সিএমএম আদালতে হাজির করেন।

কারাগারে আটক রাখার আবেদনে বলা হয়, ডনসহ এজাহারনামীয় অন্যান্য আসামিসহ অজ্ঞাতনামা আসামিরা পরস্পর যোগসাজসে পূর্ব পরিকল্পিতভাবে সালমান শাহকে হত্যা করেছে বলে বাদী এজাহারে বলেছে। মামলার তদন্ত চলছে। এ আসামি দীর্ঘদিন যাবৎ পলাতক ছিলেন। তাকে পুলিশ হেফাজতে এনে জিজ্ঞাসাবাদের প্রক্রিয়া চলমান। আসামি জামিন পেলে তদন্তে বিঘ্নসহ চিরতরে পলাতক হতে পারে। গত বছরের ২০ অক্টোবর সালমান শাহর মা নীলা চৌধুরীর পক্ষে তার ভাই মোহাম্মদ আলমগীর কুমকুম মামলাটি দায়ের করেন।

১৯৯৬ সালের ৬ সেপ্টেম্বর চিত্রনায়ক সালমান শাহ (চৌধুরী মোহাম্মদ শাহরিয়ার ইমন) ঢাকার ইস্কাটনের ফ্ল্যাটে মারা যান। বাংলাদেশের চলচ্চিত্র জগতে সে সময় তার জনপ্রিয়তা ছিল তুঙ্গে।ছেলের মৃত্যুর পর প্রথমে একটি অপমৃত্যু মামলা করেন সালমান শাহর বাবা কমরউদ্দিন আহমদ চৌধুরী। কিন্তু পরে ছেলেকে হত্যা করা হয়েছে- এমন অভিযোগে ১৯৯৭ সালের ২৪ জুলাই অভিযোগটিকে হত্যা মামলায় রূপান্তর করার আবেদন জানান। তখন অপমৃত্যু মামলার সঙ্গে হত্যাকাণ্ডের অভিযোগের বিষয়টি তদন্ত করতে সিআইডিকে নির্দেশ দেয় আদালত। ১৯৯৭ সালের ৩ নভেম্বর আদালতে চূড়ান্ত প্রতিবেদন দিয়ে সিআইডি জানায়, সালমান শাহ ‘আত্মহত্যা’ করেন। সিআইডির প্রতিবেদন প্রত্যাখ্যান করে কমরউদ্দিন চৌধুরী রিভিশন মামলা দায়ের করেন।

২০০৩ সালের ১৯ মে মামলাটি বিচার বিভাগীয় তদন্তে পাঠায় আদালত। দীর্ঘ ১১ বছর পর ২০১৪ সালের ৩ আগস্ট বিচার বিভাগীয় তদন্ত প্রতিবেদনেও হত্যার অভিযোগ নাকচ করা হয়।

সালমান শাহের বাবার মৃত্যুর পর তার মা নীলা চৌধুরী মামলটি চালিয়ে যান। ২০১৫ সালের ১০ ফেব্রুয়ারি নীলা চৌধুরী ১১ জনের নাম উল্লেখ করে বিচার বিভাগীয় তদন্ত প্রতিবেদনে ‘নারাজি’ দেন। তখন আদালত মামলাটি র‌্যাবকে তদন্তের দায়িত্ব দেয়। কিন্তু রাষ্ট্রপক্ষ আপত্তিতে ২০১৬ সালের ২১ অগাস্ট ঢাকার ৬ নম্বর বিশেষ জজ ইমরুল কায়েশ র‌্যাবের তদন্ত বাতিল করে পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশন (পিবিআই)কে তদন্ত করতে বলে। চার বছর তদন্তের পর ২০২০ সালের ২৫ ফেব্রুয়ারি পিবিআইও হত্যার অভিযোগের কোনো প্রমাণ হয়নি মর্মে প্রতিবেদন দাখিল করেন।

ওই প্রতিবেদনেও সন্তুষ্ট না হয়ে নীলা চৌধুরী ছেলের মৃত্যু কীভাবে হয়েছিল, তা জানতে নারাজি দিয়ে পুন: তদন্ত চান। কিন্তু সিএমএম আদালত ২০২১ সালের ৩১ অক্টোবর নারাজি আবেদন নাকচ করে আসামিদের অব্যাহতির আদেশ দেন। এরপর আবার সালমান শাহর পরিবারের পক্ষ থেকে রিভিশন দায়েরে করেন।

২০২৫ সালের ২০ জুন ঢাকার ৬ষ্ঠ অতিরিক্ত মহানগর দায়রা মো. জান্নাতুল ফেরদৌস ইবনে হক রিভিশন গ্রহণ করে সালমান শাহর মৃত্যুর ঘটনায় হত্যা মামলা গ্রহণ করতে রমনা মডেল থানা পুলিশকে নির্দেশ দেয়। এরপর এজাহারনামীয় আসামিসহ অজ্ঞাতনামা পলাতক আসামিরা পূর্ব পরিকল্পিতভাবে পরস্পর যোগসাজসে ১৯৯৬ সালের ৬ সেপ্টেম্বর সালমান শাহ্কে হতত্তার, সাজু ও রেজভি আহমেদ ওরফে ফরহাদ।

উল্লেখ্য, সালমান শাহ অভিনীত উল্লেখযোগ্য চলচ্চিত্রগুলোর মধ্যে ১৯৯৩ সালে মুক্তি পায় ‘কেয়ামত থেকে কেয়ামত’, ‘দেন মোহর’ ও ‘তোমাকে চাই’। ১৯৯৪ সালে মুক্তি পায় ‘বিক্ষোভ’, ‘আনন্দ অশ্রু’, ‘চাওয়া থেকে পাওয়া’ এবং ‘বিচার হবে’। ১৯৯৫ সালে মুক্তি পায় ‘জীবন সংসার’, ‘মহামিলন’, ‘স্বপ্নের পৃথিবী’, ‘স্বপ্নের ঠিকানা’ ও ‘এই ঘর এই সংসার’ প্রভৃতি।