৪৭ বছর বয়সে এইচএসসি পাস ইউপি সদস্য আমিনুল ইসলামের

গাজীপুরের শ্রীপুর উপজেলার মাওনা ইউনিয়ন পরিষদের ২ নম্বর ওয়ার্ডের সদস্য আমিনুল ইসলাম ৪৭ বছর বয়সে এইচএসসি পরীক্ষায় জিপিএ-৪.৬৩ পেয়ে সফলভাবে উত্তীর্ণ হয়েছেন। তার এই অদম্য আগ্রহ ও শিক্ষাজীবনে ফেরার গল্প এখন অনেকের কাছে অনুপ্রেরণার উৎস। ১৯৯৯ সালে মাওনা বহুমুখী উচ্চ বিদ্যালয় থেকে এসএসসি পাসের দীর্ঘ ২৬ বছর পর তিনি আবারও পড়াশোনায় ফিরে এ অনন্য নজির গড়েছেন। ৪৭ বছর বয়সে এইচএসসি পাস করা ওই ইউপি সদস্যে নাম আমিনুল ইসলাম। তিনি গাজীপুরের শ্রীপুর উপজেলার মাওনা ইউনিয়নের চকপাড়া গ্রামের তোরাব আলীর ছেলে।
পরিবার ও জনপ্রতিনিধি হিসেবে ব্যস্ততার মাঝেও পড়াশোনার অদম্য ইচ্ছা তাকে দমিয়ে রাখতে পারেনি। দীর্ঘ সময় কর্মজীবন ও সংসার নিয়ে ব্যস্ত থাকায় শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান থেকে দূরে ছিলেন তিনি। তবে জনপ্রতিনিধি হিসেবে দায়িত্ব পালন করতে গিয়ে শিক্ষার প্রয়োজনীয়তা নতুন করে অনুভব করেন আমিনুল। এই তাড়না থেকেই ২০২৪-২৫ শিক্ষাবর্ষে তিনি গাজীপুর মহানগরীর পুবাইল এলাকার সিটি ইনফরমেশন টেকনোলজি অ্যান্ড ইনস্টিটিউটে ভর্তি হন। শেখার অদম্য ইচ্ছাই তাকে সফলতা এনে দিয়েছে। সংসার ও কর্মজীবনের ব্যস্ততায় আর ফেরা হয়নি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে। তখন নিজেকে শিক্ষিত করে গড়ে তোলার ইচ্ছা জাগে।’।
নিজের এই সাফল্য নিয়ে আমিনুল ইসলাম বলেন, ১৯৯৯ সালে এসএসসি পাসের পর জীবিকার তাগিদে তাকে পড়াশোনা ছাড়তে হয়েছিল। পরবর্তীতে মাওনা ইউনিয়ন পরিষদের নির্বাচনে বিপুল ভোটে নির্বাচিত হওয়ার পর নিজের শিক্ষার ঘাটতিগুলো বুঝতে পারেন। তিনি মনে করেন, শেখার কোনো নির্দিষ্ট বয়স নেই। তাই দিনের বেলা মানুষের সেবা এবং কর্মব্যস্ততা শেষে রাতে বই নিয়ে অধ্যবসায়ের মাধ্যমেই তিনি এই ফলাফল অর্জন করেছেন। ভবিষ্যতে সুযোগ পেলে স্নাতক পর্যায়ে ভর্তি হয়ে উচ্চশিক্ষা গ্রহণের লক্ষ্য রয়েছে তার। এরপর শুরু হয় নতুন করে শিক্ষাজীবনের পথচলা। নিয়মিত চেষ্টা ও অধ্যবসায়ের ফলেই এই সাফল্য এসেছে।’।
আমিনুল ইসলামের এই অর্জন স্থানীয় পর্যায়ে বেশ প্রশংসিত হচ্ছে। মাওনা ইউনিয়ন পরিষদের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান মো. মতিউর রহমান জানান, আমিনুলের এই সাফল্য কেবল ব্যক্তিগত নয়, বরং পুরো ইউনিয়ন পরিষদের জন্য গর্বের বিষয়। একই প্রতিক্রিয়া ব্যক্ত করেছেন শ্রীপুর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) নাহিদ ভূঞা। তিনি মন্তব্য করেন, এই বয়সে কঠোর পরিশ্রম করে পড়াশোনায় ভালো ফলাফল করা বর্তমান সমাজের জন্য সত্যিই একটি প্রশংসনীয় দৃষ্টান্ত।
শনিবার এইচএসসি পরীক্ষার ফলাফল প্রকাশের পর তার সাফল্যের খবর ছড়িয়ে পড়লে স্থানীয় এলাকায় আনন্দঘন পরিবেশের সৃষ্টি হয়। অনেক স্থানীয় বাসিন্দাই আমিনুল ইসলামের এই উদ্যোগকে ইতিবাচক দৃষ্টিতে দেখছেন এবং তার উচ্চশিক্ষার এই পথচলাকে স্বাগত জানিয়েছেন। তবে মনের ভেতর উচ্চশিক্ষার স্বপ্নটি বেঁচে ছিল।