আন্তর্জাতিক বাজারে স্বর্ণের দামে বড় উত্থান


  প্রকাশিত হয়েছেঃ   ২ নভেম্বর ২০২৬, ৬:০২ পিএম

আন্তর্জাতিক বাজারে স্বর্ণের দামে ফের ঊর্ধ্বমুখী প্রবণতা লক্ষ্য করা গেছে। শুক্রবার দরপতনের ফলে স্বর্ণের বাজার যখন ২০২৫ সালের অক্টোবরের পর সর্বনিম্ন পর্যায়ে নেমে গিয়েছিল, সোমবার সেখান থেকেই ঘুরে দাঁড়িয়েছে মূল্যবান এই ধাতু। সোমবার বাংলাদেশ সময় বিকাল ৪টার দিকে স্পট মার্কেটে প্রতি আউন্স স্বর্ণের দাম ০ দশমিক ৭ শতাংশ বেড়ে ৩ হাজার ৯০০ ডলার ১৪ সেন্টে পৌঁছায়। একই সময়ে ডিসেম্বর সরবরাহের জন্য যুক্তরাষ্ট্রের স্বর্ণের ফিউচার মূল্য ০ দশমিক ৩ শতাংশ বেড়ে প্রতি আউন্স ৩ হাজার ৯০৯ ডলার ২০ সেন্টে লেনদেন হয়েছে। এর আগে শুক্রবার দাম ৩ দশমিক ৬ শতাংশ কমে ২০২৫ সালের অক্টোবরের পর সর্বনিম্ন পর্যায়ে নেমেছিল। তবে এই ঊর্ধ্বমুখী প্রবণতা বেশিদিন স্থায়ী নাও হতে পারে।

বিনিয়োগকারীরা মূলত আগামী ৩ নভেম্বর অনুষ্ঠিত হতে যাওয়া যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যবর্তী নির্বাচনের ফলাফলের অপেক্ষায় রয়েছেন। পাশাপাশি চলতি সপ্তাহের যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যবর্তী নির্বাচন এবং এর সম্ভাব্য অর্থনৈতিক ও রাজস্বনীতিগত প্রভাবের দিকে নজর রাখছেন বিনিয়োগকারীরা।

এই নির্বাচন দেশটির রাজস্বনীতি ও সামগ্রিক অর্থনৈতিক পরিস্থিতির ওপর কেমন প্রভাব ফেলবে, তা নিয়ে বাজারে এক ধরনের সতর্কতা কাজ করছে। আর্থিক বাজার বিশ্লেষক নিকোস জাবোরাস জানান, যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে কূটনৈতিক সমঝোতার সম্ভাবনা এবং এআই খাতের প্রবৃদ্ধি নিয়ে নতুন উদ্বেগের কারণে ফেডারেল রিজার্ভের সুদহার নীতি নিয়ে অনিশ্চয়তা তৈরি হয়েছে, যা স্বর্ণের দাম বৃদ্ধিতে সহায়তা করছে। তবে এই প্রবণতা দীর্ঘমেয়াদী কি না, তা নিয়ে সংশয় রয়েছে।

বাজারে স্বর্ণের চাহিদার পেছনে তেলের দরপতন একটি বড় ভূমিকা পালন করেছে। সোমবার আন্তর্জাতিক বাজারে অপরিশোধিত তেলের দাম ৩ শতাংশের বেশি কমেছে। মূলত ইরান ও কাতারের কর্মকর্তাদের মধ্যে যুদ্ধবিরতি নিয়ে আলোচনার অগ্রগতির পর তেলের বাজারে এই দরপতন ঘটে। জ্বালানি তেলের দাম কমায় মূল্যস্ফীতির চাপ কিছুটা কমেছে, যা সুদের হার উচ্চ পর্যায়ে থাকার আশঙ্কা হ্রাস করে। এতে সুদবিহীন সম্পদ হিসেবে স্বর্ণের প্রতি বিনিয়োগকারীদের আগ্রহ বেড়েছে। আর সুদবিহীন সম্পদ হওয়ায় স্বর্ণ ধরে রাখার সুযোগব্যয় কমলে এ ধাতুর চাহিদা বাড়তে পারে।

অন্যান্য মূল্যবান ধাতুর ক্ষেত্রেও সোমবার ইতিবাচক পরিবর্তন দেখা গেছে। শুক্রবার ১১ মাসের মধ্যে প্রথমবারের মতো ৫০ ডলারের নিচে নেমে যাওয়া রুপার দাম সোমবার ২ দশমিক ৫ শতাংশ বেড়ে প্রতি আউন্স ৫০ ডলার ৩৫ সেন্টে দাঁড়িয়েছে। একই সাথে প্লাটিনামের দাম ০ দশমিক ০১ শতাংশ বেড়ে প্রতি আউন্স ১ হাজার ৪৩১ ডলার ৭ সেন্ট এবং প্যালাডিয়ামের দাম ০ দশমিক ৩ শতাংশ বেড়ে ৯৭৯ ডলার ২৫ সেন্টে পৌঁছেছে। উল্লেখযোগ্য যে, গত শুক্রবার প্লাটিনাম ও প্যালাডিয়ামের দাম যথাক্রমে ১৩ ও ১৭ মাসের মধ্যে সর্বনিম্ন পর্যায়ে নেমে গিয়েছিল।