কুবি অধ্যাপকপুত্রের নিহতের ঘটনায় আদালতে অভিযোগপত্র দাখিল


  প্রকাশিত হয়েছেঃ   ২৩ অক্টোবর ২০২৬, ১১:১৮ এএম

কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়ের বাংলা বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক নাহিদা বেগমের ছেলে এবং সপ্তম শ্রেণির শিক্ষার্থী ইশায়াত শাহরিয়ার অপ্রতিম হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় আদালতে অভিযোগপত্র দাখিল করেছে পুলিশ। গত ২০ অক্টোবর পুলিশ চার আসামির বিরুদ্ধে এই প্রতিবেদন জমা দেয়। যদিও মঙ্গলবার এই প্রক্রিয়া সম্পন্ন হয়, তবে শুক্রবার পুলিশের মিডিয়া সেলের পক্ষ থেকে বিষয়টি আনুষ্ঠানিকভাবে নিশ্চিত করা হয়েছে। কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়ের (কুবি) বাংলা বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক নাহিদা বেগমের ছেলে ও ৭ম শ্রেণির স্কুল ছাত্র ইশায়াত শাহরিয়ার অপ্রতিম (১৩) হত্যাকাণ্ডে আদালতে অভিযোগপত্র দাখিল করেছে পুলিশ। তবে এ বিষয়ে মিডিয়া সেল থেকে বিস্তারিত জানার পরামর্শ দেন তিনি।

অতিরিক্ত পুলিশ সুপার মো: লুৎফর রহমান জানিয়েছেন, মামলার তদন্তে চারজনের সংশ্লিষ্টতার প্রাথমিক সত্যতা পাওয়ায় তাদের বিরুদ্ধে দণ্ডবিধির ৩০২, ২০১ ও ৩৪ ধারায় অভিযোগ আনা হয়েছে। অভিযুক্তরা হলো সাইফুল ইসলাম ওরফে তুহিন (১৯), মো. সিয়াম (১৯) এবং ১৫ ও ১৬ বছর বয়সী দুই কিশোর। আইন অনুযায়ী ওই দুই কিশোরকে শিশু হিসেবে উল্লেখ করে অভিযোগপত্রে অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে এবং তারা বর্তমানে গাজীপুর শিশু উন্নয়ন কেন্দ্রে রয়েছে। মোবাইল ফোন ছিনিয়ে নেয়ার পরিকল্পনা থেকেই এ হত্যাকাণ্ড।

তদন্তকারী কর্মকর্তা ও কুমিল্লা সদর দক্ষিণ মডেল থানার পরিদর্শক (তদন্ত) রাজীব আহমেদ জানিয়েছেন, চার্জশিট জমা দেওয়ার প্রক্রিয়া শেষ হয়েছে। এর আগে, মামলার অভিযোগপত্র দ্রুত দাখিলের নির্দেশ ছিল কুমিল্লার পুলিশ সুপার মো. আনিসুজ্জামানের। নিহত অপ্রতিমের বাবা কে এম ফিরোজ শাহরিয়ার জানান, বিষয়টি তিনি বৃহস্পতিবার রাতে জানতে পেরেছেন এবং এখন দ্রুত বিচার সম্পন্ন হওয়ার প্রত্যাশা করছেন।

গত ১৮ সেপ্টেম্বর আইফোন নিয়ে ছবি তুলতে গিয়ে নিখোঁজ হয় অপ্রতিম। তার বাবা এ বিষয়ে থানায় জিডি করেছিলেন। পরদিন ১৯ সেপ্টেম্বর কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়ের অদূরে লালমাই পাহাড়ের সানন্দা এলাকার জঙ্গল থেকে অপ্রতিমের মরদেহ উদ্ধার করে পুলিশ। সিসিটিভি ফুটেজের মাধ্যমে শনাক্ত করে আসামিদের গ্রেপ্তারের পর বিষয়টি দেশজুড়ে ব্যাপক আলোচনার জন্ম দেয়। এই ঘটনায় কিশোর গ্যাং সংশ্লিষ্টতা বেরিয়ে আসায় কুমিল্লাজুড়ে পুলিশের সাড়াশি অভিযান শুরু হয়। পরে পুলিশ সিসিটিভির ফুটেজ দেখে আসামিদের গ্রেপ্তার করে। এ ঘটনা দেশব্যাপী চাঞ্চল্যের সৃষ্টি করে।