রমজানে তেলের দাম বাড়ার পরিকল্পনা নেই: বাণিজ্যমন্ত্রী


  প্রকাশিত হয়েছেঃ   ২৮ অক্টোবর ২০২৬, ৫:৪০ পিএম

আসন্ন পবিত্র রমজান মাসে নিত্যপণ্যের সরবরাহ স্বাভাবিক রাখতে পর্যাপ্ত পণ্য আমদানি পাইপলাইনে রয়েছে বলে জানিয়েছেন বাণিজ্যমন্ত্রী খন্দকার আব্দুল মুক্তাদির। বুধবার বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের সম্মেলনকক্ষে আমদানিকারক ও ব্যবসায়ীদের সঙ্গে আয়োজিত এক গুরুত্বপূর্ণ সভার আগে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে তিনি এ কথা বলেন। এ সময় বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের সচিব শরফ উদ্দিন আহমদ চৌধুরী ও বাংলাদেশ ট্রেড অ্যান্ড ট্যারিফ কমিশনের চেয়ারম্যান নাসির উদ দৌলাসহ সংশ্লিষ্ট ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।

রমজানের চাহিদাকে সামনে রেখে ভোজ্য তেল, চিনি, ছোলা ও ডালসহ আমদানিনির্ভর পণ্যগুলোর বর্তমান পরিস্থিতি পর্যালোচনা করা হয়েছে। এ বিষয়ে বাণিজ্যমন্ত্রী বলেন, দেশের বাজারে পণ্যের সরবরাহ স্থিতিশীল রাখার জন্য পাইপলাইনে প্রয়োজনীয় পণ্য মজুদ রয়েছে। তিনি স্পষ্টভাবে জানান, রমজান বা এর আগে-পরে বাজারে পণ্যের কোনো ঘাটতি হওয়ার আশঙ্কা নেই। একই সঙ্গে এই মুহূর্তে সরকার ভোজ্য তেলের দাম বাড়ানোর কোনো পরিকল্পনা করছে না বলেও মন্ত্রী নিশ্চিত করেছেন। তবে আন্তর্জাতিক বাজারে পণ্যমূল্য ও জাহাজভাড়ার পরিবর্তনের বিষয়টি দেশের বাজারে প্রভাব ফেলে বলে তিনি উল্লেখ করেন।

এলসি বা ঋণপত্র খোলা নিয়ে ব্যবসায়ীদের কোনো জটিলতা রয়েছে কিনা জানতে চাইলে মন্ত্রী বলেন, এখন পর্যন্ত বড় ধরনের কোনো অভিযোগ পাওয়া যায়নি। তবে কোনো আমদানিকারক ব্যাংকিং জটিলতায় পড়লে বাংলাদেশ ব্যাংকের সঙ্গে আলোচনা করে দ্রুত সমাধানের আশ্বাস দিয়েছেন তিনি। এছাড়া আন্তর্জাতিক বাজারে ছোলার দাম বাড়ার বিষয়টিও আমদানিকারকদের সাথে আলোচনার মাধ্যমে পর্যবেক্ষণ করা হচ্ছে বলে জানান মন্ত্রী।

বাণিজ্য সম্প্রসারণের বিষয়ে খন্দকার আব্দুল মুক্তাদির জানান, মালয়েশিয়ার সঙ্গে প্রস্তাবিত মুক্ত বাণিজ্য চুক্তি (এফটিএ) নিয়ে আনুষ্ঠানিক আলোচনা শুরু হয়েছে। ২০২৭ সালের ডিসেম্বরের মধ্যে এই চুক্তি সম্পন্ন করার লক্ষ্য নির্ধারণ করা হয়েছে। একই সাথে সংযুক্ত আরব আমিরাত, ইন্দোনেশিয়া, ওমান, নিউজিল্যান্ড ও ইউরোপীয় ইউনিয়নের সাথেও অগ্রাধিকারমূলক বাণিজ্য চুক্তি নিয়ে আলোচনা চলছে।

স্বল্পোন্নত দেশ বা এলডিসি থেকে উত্তরণের পর আন্তর্জাতিক বাজারে শুল্কমুক্ত সুবিধা ধরে রাখা বাংলাদেশের জন্য বড় চ্যালেঞ্জ হবে বলে মন্তব্য করেন বাণিজ্যমন্ত্রী। তিনি বলেন, বিভিন্ন দেশের সাথে মুক্ত বাণিজ্য চুক্তি সম্পাদন করলে রপ্তানি সক্ষমতা ও প্রতিযোগিতামূলক বাজারে টিকে থাকা সহজ হবে। এটি তৈরি পোশাকসহ দেশের রপ্তানি পণ্যের বাজার বাড়াতে এবং নতুন বিনিয়োগ আকর্ষণে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে বলে তিনি আশা প্রকাশ করেন।