২ বিলিয়ন ডলার ব্যয়ের পর বিশ্বকাপে সৌদি আরব!

অনলাইন ডেস্ক অনলাইন ডেস্ক
  প্রকাশিত হয়েছেঃ   ১০ জুন ২০২৬, ৯:৪৭ পিএম

বিপুল অর্থ ব্যয়ে বিশ্ব ফুটবলের বড় বড় তারকা খেলোয়াড় ক্লাবে টেনে আনার পরও সৌদি আরবের জাতীয় দল কাঙ্ক্ষিত সাফল্য পাচ্ছে না। ফলে বিশ্বকাপে তারা এখন খারাপ ফলের ধারাবাহিকতা কাটিয়ে ওঠার কঠিন চ্যালেঞ্জ নিয়ে নামছে।

তেলসমৃদ্ধ এই দেশ গত তিন বছরে ফুটবলে প্রায় ২ বিলিয়ন ডলার বিনিয়োগ করেছে। এর মাধ্যমে ক্রিস্টিয়ানো রোনালদো, নেইমার ও করিম বেনজেমার মতো বিশ্ব তারকাদের বিপুল অর্থে সৌদি লিগে আনা হয়েছে, যাতে এটিকে বিশ্বের অন্যতম সেরা লিগে পরিণত করা যায়। একই সঙ্গে ২০৩৪ বিশ্বকাপ আয়োজনের স্বত্বও পেয়েছে সৌদি আরব, যা দেশটির অর্থনীতিকে পর্যটন ও ব্যবসার মাধ্যমে বৈচিত্র্য আনার পরিকল্পনায় বড় সাফল্য হিসেবে দেখা হচ্ছে।

তবে জাতীয় দলের পারফরম্যান্স সেই সাফল্যের সঙ্গে তাল মেলাতে পারেনি। ২০২২ বিশ্বকাপে পরবর্তীতে চ্যাম্পিয়ন হওয়া আর্জেন্টিনাকে চমকে দিলেও এরপর থেকেই দলটি ধারাবাহিকভাবে দুর্বল ফল করছে।

সৌদি আরব এবার ৪৮ দলের বিশ্বকাপে প্লে-অফের মাধ্যমে কোনো রকমে জায়গা করে নিয়েছে। ইন্দোনেশিয়া ও ইরাকের সঙ্গে থাকা গ্রুপে গোল পার্থক্যে তারা এগিয়ে থেকে মূল পর্বে ওঠে।

গত মার্চে মিশরের কাছে ৪–০ গোলে হার এবং সার্বিয়ার বিপক্ষে পরাজয়ের পর কোচ হার্ভে রেনার্ডের দ্বিতীয় মেয়াদ শেষ হয়। পরে দায়িত্ব নেন ইতালির সাবেক কোচের স্থলাভিষিক্ত হিসেবে গ্রিসের জর্জিওস ডোনিস।

ডোনিস জানান, ইউরোপ থেকে আসা তারকা খেলোয়াড়দের কারণে স্থানীয় খেলোয়াড়দের ম্যাচ খেলার সুযোগ কমে গেছে, যা তাদের উন্নতিতে বাধা হয়ে দাঁড়াচ্ছে।

তিনি বলেন, বিদেশি অভিজ্ঞ খেলোয়াড়দের কাছ থেকে সৌদি ফুটবলাররা অনেক কিছু শিখছে, যা ইতিবাচক। তবে একই সঙ্গে তারা আগের মতো নিয়মিত খেলার সুযোগ পাচ্ছে না, যা তাদের ছন্দ ও গতি বজায় রাখার জন্য ক্ষতিকর।

তিনি আরও বলেন, `খেলোয়াড়দের নিয়মিত খেলতে হবে, তাদের ছন্দ ও গতি থাকা খুবই গুরুত্বপূর্ণ।‘

তবে তিনি আশাবাদী যে দলটি এখনই হাল ছাড়বে না, কারণ নতুন ফরম্যাটে তৃতীয় স্থানে থাকা আটটি দল নকআউট পর্বে যেতে পারবে।

সৌদি আরব এখন ‘সবুজ বাজপাখি’ নামে পরিচিত দলটি কঠিন গ্রুপে পড়েছে, যেখানে তাদের প্রতিপক্ষ স্পেন, উরুগুয়ে ও কেপ ভার্দে।

ডোনিস বলেন, খেলোয়াড়দের প্রতিভা আছে, তারা যদি কঠোর পরিশ্রম করে এবং সুযোগের জন্য লড়াই করে, তাহলে ভালো কিছু সম্ভব। যদিও কাজটি সহজ নয়।

এশিয়ার অন্যতম শক্তিশালী দল হিসেবে পরিচিত সৌদি আরব এখন পর্যন্ত তিনবার এশিয়ান কাপ জিতেছে এবং এবার নিয়ে সপ্তম বিশ্বকাপে অংশ নিচ্ছে।

ফ্রান্সভিত্তিক ক্রীড়া বিশ্লেষক আমর এলসেরতি বলেন, আগে সৌদি লিগ স্থানীয় খেলোয়াড়দের দিয়েই শক্তিশালী ছিল, কিন্তু এখন বিদেশি খেলোয়াড়ের ভিড়ে স্থানীয়দের জায়গা কমে গেছে, ফলে তাদের নিয়মিত খেলার সুযোগ কমেছে।

বিশ্লেষকদের মতে, জাতীয় দলে নিয়মিত খেলার অভাবই বর্তমান দুর্বল পারফরম্যান্সের অন্যতম প্রধান কারণ।

ল্যান্স ক্লাবের ফুলব্যাক সৌদ আবদুলহামিদ ছাড়া জাতীয় দলের প্রায় কোনো খেলোয়াড়ই বিদেশি ক্লাবে খেলেন না।

ক্রীড়া বিশেষজ্ঞ সাইমন চ্যাডউইকের মতে, কাতার বিশ্বকাপের মতো এবারও সৌদি আরবের ওপর ভালো করার চাপ রয়েছে, কারণ সে সময় আর্জেন্টিনাকে হারালেও গ্রুপ পর্ব থেকেই বিদায় নিতে হয়েছিল।

তিনি বলেন, এবারের বিশ্বকাপ মূলত ২০৩৪ সালের প্রস্তুতির একটি ধাপ। এখন প্রশ্ন হলো, কী লক্ষ্য নির্ধারণ করা হয়েছে এবং সেগুলোর অগ্রগতি কীভাবে মূল্যায়ন করা হবে।