যুবলীগ নেতার প্রতিষ্ঠানকে দেড়শ কোটি টাকার কাজ পাইয়ে দেওয়ার অভিযোগ


  প্রকাশিত হয়েছেঃ   ২ নভেম্বর ২০২৬, ১১:০৩ পিএম

লক্ষ্মীপুরের রামগতি-কমলনগর আঞ্চলিক মহাসড়কের প্রায় দেড়শ কোটি টাকার উন্নয়ন প্রকল্পের কাজ কেন্দ্রীয় যুবলীগ নেতা আবদুল হাইয়ের প্রতিষ্ঠান আসিফ ইনফ্রাস্ট্রাকচার লিমিটেডকে অনৈতিকভাবে পাইয়ে দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে। লক্ষ্মীপুর সড়ক ও জনপথ (সওজ) বিভাগের নির্বাহী প্রকৌশলী মো. নজরুল ইসলামের বিরুদ্ধে এই গুরুতর অভিযোগ তুলেছেন জয়েন্ট ভেঞ্চার বা যৌথ উদ্যোগের সহযোগী প্রতিষ্ঠান রিমি নির্মাণ লিমিটেডের উপব্যবস্থাপনা পরিচালক ওবায়েদুল হক সরকার।

অভিযোগে জানা যায়, লক্ষ্মীপুর-চর আলেকজান্ডার-সোনারপুর সড়কের কমলনগরের হাজিরহাট থেকে আলেকজান্ডারের আজাদনগর পর্যন্ত প্রায় ২৭ কিলোমিটার সড়ক দুই পাশে আড়াই ফুট প্রশস্তকরণের কাজের দরপত্র আহ্বান করা হয়। এই প্রকল্পে আসিফ ইনফ্রাস্ট্রাকচার লিমিটেড ও রিমি নির্মাণ লিমিটেড যৌথভাবে সর্বনিম্ন দরদাতা হিসেবে একশ ৪৬ কোটি ৪৭ লাখ ১১ হাজার টাকার কার্যাদেশ পায়। নিয়ম অনুযায়ী লিড পার্টনার হিসেবে রিমি নির্মাণ লিমিটেডের কাজের তদারকি করার কথা থাকলেও নির্বাহী প্রকৌশলী নজরুল ইসলাম অনৈতিক সুবিধা নিয়ে যুবলীগ নেতা আবদুল হাইয়ের প্রতিষ্ঠানকে এককভাবে কাজ করার অনুমতি প্রদান করেন বলে দাবি করা হয়েছে। তখন প্রধান পার্টনার হিসেবে কাজের সব কার্যক্রম রিমি নির্মাণ লিমিটেডকে বুঝিয়ে দেওয়ার কথা থাকলেও লক্ষ্মীপুর জেলা সড়ক ও জনপথ বিভাগের নির্বাহী প্রকৌশলী মো. নজরুল ইসলাম সম্পূর্ণ অনৈতিকভাবে কেন্দ্রীয় যুবলীগ নেতা আবদুল হাইয়ের প্রতিষ্ঠান আসিফ ইনফ্রাস্ট্রাকচার। 12. মোটা অঙ্কের বিনিময়ে জুলাই হত্যার আসামির সঙ্গে ডিল করে সরকারের মেগা প্রকল্পে অনৈতিক পথ অবলম্বন করে কাজ করছেন।

সূত্রমতে, কেন্দ্রীয় যুবলীগ নেতা আবদুল হাই বিগত আওয়ামী লীগ সরকারের আমলে বিভিন্ন বিতর্কিত কর্মকাণ্ডে জড়িত ছিলেন। সরকার পতনের পর জুলাই হত্যাকাণ্ডসহ তার বিরুদ্ধে একাধিক মামলা দায়ের করা হয়েছে। এছাড়া অতীতে বিভিন্ন সন্ত্রাসবিরোধী মামলায় তিনি কারাবরণও করেছেন। তার বাড়ি নোয়াখালীর সোনাইমুড়ী থানার বদরপুর গ্রামের হাজী গুনাগাজী ব্যাপারী বাড়িতে এবং বর্তমানে তিনি ঢাকার পল্টন থানার শান্তিনগর এলাকার পীর সাহেবের গলিতে বসবাস করেন। আবদুল হাই ৫ আগস্টের পর থেকে আত্মগোপনে রয়েছেন এবং তার মুঠোফোন নম্বরটিও বন্ধ পাওয়া যাচ্ছে। পরে খোঁজ নিয়ে জানতে পারি, আবদুল হাই ৫ আগস্টের পর একাধিক সন্ত্রাসবিরোধী মামলায় জেলে ছিলেন। তিনি যে কেন্দ্রীয় যুবলীগের রাজনীতির সঙ্গে জড়িত ছিলেন, এমন তথ্য গোপন রেখে চুক্তিতে কাজে অংশগ্রহণ করেন। তার সঙ্গে আমার বন্ধুর মাধ্যমে সম্পর্ক হলে সেও আমাকে বলেনি যে আবদুল হাই কেন্দ্রীয় যুবলীগের রাজনীতির সঙ্গে সম্পৃক্ত।

রিমি নির্মাণ লিমিটেডের উপব্যবস্থাপনা পরিচালক ওবায়দুল হক সরকার জানান, আব্দুল হাই নিরুদ্দেশ থাকায় এবং প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন হওয়ায় তারা চুক্তি বাতিলের জন্য সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে আবেদন জানিয়েছিলেন। তিনি জানান, আদালতের নির্দেশনা থাকা সত্ত্বেও নির্বাহী প্রকৌশলী নজরুল ইসলাম কোনো নিয়ম নীতির তোয়াক্কা করেননি। তিনি বলেন, ‘যে ব্যক্তিকে সড়ক ও জনপথ বিভাগ চিঠি ইস্যু করেও খুঁজে পাচ্ছে না, সেই ব্যক্তিকে দিয়ে কাজটি করানো হচ্ছে। এটা চরম পর্যায়ের কারসাজি। লিড পার্টনার হিসেবে কাজের মান খারাপ হলে তার দায়ভার কে নেবে?’ তিনি আরও উল্লেখ করেন যে, তিনি এই কাজটির বিষয়ে আদালতের আদেশ নিয়ে নির্বাহী প্রকৌশলীকে চিঠি দিয়েছিলেন, কিন্তু কোনো লাভ হয়নি। এতে চুক্তিপত্রের নিয়মবহির্ভূত হওয়ায় চরম ক্ষোভ প্রকাশ করেন তিনি। কাজটি বাস্তবায়নের দায়িত্ব (পাওয়ার) দেওয়ার ঠিক ৪২ দিন অতিবাহিত হলেও আবদুল হাই যোগাযোগ করেননি।

এদিকে, এই অনিয়মের অভিযোগের বিষয়ে লক্ষ্মীপুর জেলা সড়ক ও জনপথ বিভাগের নির্বাহী প্রকৌশলী মো. নজরুল ইসলাম নিজের অবস্থান পরিষ্কার করেছেন। তিনি বলেন, প্রকল্পের নিয়ম অনুযায়ী যৌথ উদ্যোগে কাজ পাওয়ার পর ৩০০ টাকার স্ট্যাম্পে উভয় পক্ষ চুক্তিপত্রে স্বাক্ষর করেছে। সেই চুক্তি অনুযায়ী অফিসের যাবতীয় কার্যক্রম ও ব্যাংক সংক্রান্ত বিষয়াদি দেখভালের দায়িত্ব আসিফ ইনফ্রাস্ট্রাকচার লিমিটেডের ওপর ন্যস্ত করা হয়েছে। তিনি আরও দাবি করেন, নিয়ম মেনেই কাজ চলছে এবং তার বিরুদ্ধে উত্থাপিত অভিযোগ ভিত্তিহীন।