“পল্লবী জোনে সার্জেন্ট আবু তালেবের রাজত্ব: ট্রাফিক পুলিশের ঘুষ বাণিজ্যে মাসে আয় লাখে, আইন মানলেই বদলি টিআই!”

অনলাইন ডেস্ক অনলাইন ডেস্ক
  প্রকাশিত হয়েছেঃ   ৮ ডিসেম্বর ২০২৫, ৩:০২ পিএম

মিরপুর-পল্লবী জোনের ট্রাফিক বিভাগে দীর্ঘদিন ধরে এক সার্জেন্টের একচ্ছত্র প্রভাবের অভিযোগ উঠেছে। বহু বছর একই এলাকায় দায়িত্বে থেকে ঘুষ ও মাসোহারা বাণিজ্যে গড়ে তুলেছেন এক অঘোষিত সাম্রাজ্য—যার নাম সার্জেন্ট আবু তালেব।

সূত্র জানায়, মাছের ট্রাক, ডাম্প ট্রাক, পরিবহন, এমনকি সড়কে পার্কিং করা বাস পর্যন্ত—সবই মাসিক চুক্তিতে চলে এই সার্জেন্টের তালিকায়। একাধিক কোম্পানি ও বাজার থেকে প্রতি মাসে লাখ লাখ টাকার অবৈধ আয় হয় বলে অভিযোগ।

অভিযোগের বিস্তারিত:
মিরপুর ৬ নম্বর কাঁচাবাজারের মাছের ট্রাক থেকে ২০ হাজার, রবরব পরিবহন থেকে ২০ হাজার, এমসিপিএল ও ডাম্প ট্রাক ‘মাইশা’ থেকে ২০ হাজার করে—এভাবে মাসিক চাঁদা আদায় হয় নিয়মিত। এছাড়া, জেনিন, গ্রিন ভিউসহ বিভিন্ন বাস ও ট্রাক থেকেও মাসিক অর্থ নেন বলে জানা গেছে।

রাতে সড়কে চেকপোস্ট বসিয়ে ভুয়া মামলা, কাগজপত্র জব্দ, কিংবা গাড়ি ছাড়ার নামে টাকা নেওয়া—সবই এই সিন্ডিকেটের নিত্যদিনের কাজ।

ক্ষমতার প্রভাব:
একই জোনে দীর্ঘদিন কর্মরত থাকায় সার্জেন্ট আবু তালেব এখন এক “অঘোষিত ক্ষমতাধর ব্যক্তি”। নবনিযুক্ত ট্রাফিক ইনস্পেক্টর (টিআই) আব্দুল কাউসার জুন মাসে দায়িত্ব নেওয়ার পর আইনের প্রয়োগে কঠোর হন। তিনি মিরপুর এলাকায় নিয়মিত ট্রাফিক আইন অমান্যকারী মাছের ট্রাক ও ফিটনেসবিহীন গাড়ির বিরুদ্ধে মামলা দিলে, তাতে ক্ষুব্ধ হন সার্জেন্ট আবু তালেব।

অভিযোগ রয়েছে, আবু তালেব ফোন করে ওই টিআই-কে শাসিয়ে বলেন—“আমার তালিকাভুক্ত গাড়িগুলোতে মামলা দেওয়া যাবে না, এটা উর্ধ্বতন কর্মকর্তারাও জানেন।” দুটি কল রেকর্ড এসেছে এ প্রতিবেদকের হাতে।

আইন মানার অপরাধে মাত্র ১৪ দিনের মাথায় বদলি হন টিআই আব্দুল কাউসার।
টিআই-এর ক্ষোভ ও হতাশা:

চোখে জল নিয়ে প্রতিবেদককে তিনি বলেন,
“আমি তো শুধু আমার দায়িত্ব পালন করছিলাম। সকাল ৮টার পর ঢাকায় ট্রাক প্রবেশ নিষেধ—আমি কাগজ চেক করে মামলা দিয়েছি, এটাই আমার অপরাধ। আবু তালেব ফোন করে ম্যানেজ করার চেষ্টা করে, রাজি না হওয়ায় বদলি হয়ে গেলাম। ডিসি স্যারও কিছু জানলেন না। এখন বুঝেছি—এখানে বাপের চেয়েও ছেলের ক্ষমতা বেশি।”
তিনি আরও বলেন, “আমার অবস্থা এমন হয়েছে, যেন বিয়ে করে বাসর রাতে জানতে পারলাম আমি সন্তানের বাপ! কাউকে কিছু জিজ্ঞেস করারও সুযোগ নেই।”

অভ্যন্তরীণ সূত্রের দাবি:

এক সূত্র জানায়, সার্জেন্ট আবু তালেব মাসে গড়ে ১০ লাখ টাকারও বেশি ঘুষ তোলেন। তার কাছে একটি ‘ডায়েরি’ আছে—যেখানে প্রতিটি গাড়ি, কোম্পানির নাম, ফোন নম্বর, এমনকি কত টাকা কে দেয়—সব লিপিবদ্ধ।

একজন সার্জেন্ট যদি উর্ধ্বতন কর্মকর্তাকেও নিয়ন্ত্রণে নিয়ে নিজের ইচ্ছামতো বদলি করাতে পারেন, তাহলে ট্রাফিক বিভাগের শৃঙ্খলা কোথায়?
পল্লবীর জনগণ আজ জানতে চায়—
আইনের রক্ষকই যদি ঘুষের বাণিজ্যে মত্ত থাকে, তবে এই নগরীর নিরাপত্তা কার হাতে?