সাগর-রুনি মামলায় আরও ছয় মাস সময় পেল উচ্চ পর্যায়ের টাস্কফোর্স


  প্রকাশিত হয়েছেঃ   ২৭ অক্টোবর ২০২৬, ৮:৪৮ পিএম

সাংবাদিক দম্পতি সাগর-রুনি হত্যাকাণ্ডের তদন্তে বড় ধরনের মোড় নেওয়ার আভাস মিলেছে। মামলার তদন্তে নিয়োজিত উচ্চ পর্যায়ের টাস্কফোর্সকে ছয় মাসের সময় দিয়েছে হাইকোর্ট। বিচারপতি শিকদার মাহমুদুর রাজী ও বিচারপতি ফাতেমা আনোয়ারের সমন্বয়ে গঠিত হাইকোর্ট বেঞ্চ মঙ্গলবার (২৭ অক্টোবর) এই আদেশ প্রদান করেন। এটি নিয়ে চতুর্থবারের মতো সময় পেল টাস্কফোর্স। পরবর্তী আদেশের জন্য আদালত ২৯ এপ্রিল তারিখ ধার্য করেছে এবং সেদিন তদন্ত সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিকে আদালতে উপস্থিত থাকার নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে।

আদালতে প্রতিবেদনের অংশবিশেষ তুলে ধরে শুনানি করেন অ্যাটর্নি জেনারেল মো. রুহুল কুদ্দুস কাজল। তার সাথে ছিলেন অতিরিক্ত অ্যাটর্নি জেনারেল মোহাম্মদ আরশাদুর রউফ এবং ডেপুটি অ্যাটর্নি জেনারেল নূর মোহাম্মদ আজমী। এ সময় শুনানিতে বাদীপক্ষের প্রতিনিধিত্ব করেন জ্যেষ্ঠ আইনজীবী মো. শিশির মনির এবং রিট আবেদনকারীর পক্ষে ছিলেন জ্যেষ্ঠ আইনজীবী মনজিল মোরসেদ। পরে নিজ কার্যালয়ে অ্যাটর্নি জেনারেল মো।

তদন্ত প্রতিবেদনের তথ্য অনুযায়ী, টাস্কফোর্সের সদস্য এবং আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের চিফ প্রসিকিউটর আমিনুল ইসলাম ও প্রসিকিউটর তানভীর হাসান জোহা গত আগস্টের শেষ দিকে গণমাধ্যমে বক্তব্য দিয়েছিলেন। সেখানে তারা দাবি করেন, এনটিএমসির সাবেক পরিচালক মেজর জেনারেল (অব.) জিয়াউল আহসানের বরিশালের বাসায় দুদকের অভিযানের সময় বেশ কিছু ডিজিটাল আলামত উদ্ধার হয়েছে। এসব তথ্যের মধ্যে জিও লোকেশন, এসএমএস ও সিডিআরের মতো গুরুত্বপূর্ণ ডিজিটাল প্রমাণাদি রয়েছে। রাষ্ট্রপক্ষের সময় আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে তদন্ত শেষ করতে আরও ছয় মাস সময় পেয়েছে টাস্কফোর্স। এই মামলার তদন্তে আদালতের নির্দেশে গঠিত টাস্কফোর্সের কার্যক্রমে ইতিমধ্যে উল্লেখযোগ্য একটি অগ্রগতি সাধিত হয়েছে উল্লেখ করে অ্যাটর্নি জেনারেল বলেন, ‘অক্টোবর মাসে, সেটা হচ্ছে সাগর-রুনি হত্যা মামলা নিয়ে গত ৩০ আগস্ট বিভিন্ন ইলেকট্রনিক মিডিয়া এবং সামাজিক। সেগুলোর মধ্যে বিভিন্ন রকম জিও লোকেশন, এসএমএস, সিডিআরের প্রিন্টেড ভার্সন পাওয়া যায়।’। তিনি বলেন, ‘তাদের কাছে কী আলামত আছে তা চেয়েছেন এবং তারা একটা চিঠিও দিয়েছেন।

প্রাথমিক তদন্তে সাগর-রুনি হত্যাকাণ্ডের সাথে সাবেক সামরিক কর্মকর্তা জিয়াউল আহসান এবং নিষিদ্ধ ঘোষিত আওয়ামী লীগের নেত্রী ও অভিনেত্রী রোকেয়া প্রাচীর সংশ্লিষ্টতার প্রমাণ পাওয়ার বিষয়টি প্রসিকিউশন আদালতে নিশ্চিত করেছে।

পিবিআইয়ের তদন্তকারী কর্মকর্তার সাথে সমন্বয় করে এই যাচাই-বাছাই কার্যক্রম চলছে। প্রাথমিক তদন্ত শেষ হওয়ার পর প্রাপ্ত সব তথ্য পিবিআইয়ের কাছে হস্তান্তর করা হবে বলে টাস্কফোর্সের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে। এছাড়া পিবিআই তদন্ত দল ইতিমধ্যে সংশ্লিষ্ট আইনজীবী ও প্রসিকিউটরদের সাথে সাক্ষাৎ করে প্রয়োজনীয় আলামত চেয়ে চিঠি দিয়েছে।

উল্লেখ্য, ২০২৪ সালের ৩০ সেপ্টেম্বর হাইকোর্টের নির্দেশনায় দীর্ঘদিনের তদন্তভার র‍্যাবের কাছ থেকে সরিয়ে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের অধীনে একটি উচ্চপর্যায়ের টাস্কফোর্সের হাতে ন্যস্ত করা হয়। সেসময় আদালত ২০২৫ সালের ৬ এপ্রিলের মধ্যে প্রতিবেদন জমা দেওয়ার নির্দেশ দিয়েছিলেন। তবে আদালতে অবকাশকালীন ছুটির কারণে নির্ধারিত সময়ে অগ্রগতি প্রতিবেদন দাখিল করা সম্ভব হয়নি। এই টাস্কফোর্স গঠিত হওয়ার পর থেকে ২০২৬ সাল পর্যন্ত মোট ৯০ জন সাক্ষীকে পুনরায় জিজ্ঞাসাবাদ করা হয়েছে এবং ২৪ জনের জবানবন্দী রেকর্ড করা হয়েছে। এই চিঠিটা আমি আপনাকে বলি যে আমরা আজকে যে হাইকোর্টের আদেশের ভিত্তিতে যে অগ্রগতি প্রতিবেদন দেওয়ার কথা ছিল সেই অগ্রগতি প্রতিবেদনে এ কথাটি তদন্তকারী কর্মকর্তা মো. আজিজুল হক লিখেছেন।