বাবা: কিছু একটা নিয়ে আতঙ্কিত ছিলেন তাহসিফ


  প্রকাশিত হয়েছেঃ   ২৯ অক্টোবর ২০২৬, ৫:৫৩ পিএম

বাংলাদেশ বিমানবাহিনীর সাবেক ফ্লাইট লেফটেন্যান্ট কে এম তাহসিফ সাউরির রহস্যজনক মৃত্যুতে শোকের ছায়া নেমে এসেছে তার পরিবারে। সম্প্রতি রাজধানীর উত্তরখানের রাজাবাড়ী ঘাটসংলগ্ন তুরাগ নদ থেকে তার নিথর দেহ উদ্ধার করে পুলিশ। মৃত্যুর আগে তাহসিফ কোনো একটি বিষয় নিয়ে বেশ আতঙ্কিত ছিলেন বলে দাবি করেছেন তার বাবা কে এম এনায়েতুল করিম। তবে কী কারণে বা কোন পরিস্থিতির শিকার হয়ে তিনি আতঙ্ক বোধ করছিলেন, সে বিষয়ে স্পষ্ট কোনো ধারণা নেই পরিবারের কাছে। এনায়েতুল করিম বলেন, ‘এটা হলো রাজাবাড়ী ঘাট, আর কিপাড়া দিয়ে যেতে হয়। দ্বীপের সঙ্গে কথা বলে আসার কথা জানিয়ে তাহসিফ নিচে নেমে যান।

ঘটনার বিবরণ দিয়ে স্বজনরা জানান, উত্তরার ১৮ নম্বর সেক্টরের রাজউক অ্যাপার্টমেন্ট প্রকল্পের ‘করবী’ ভবনে পরিবারের সঙ্গে থাকতেন তাহসিফ। ২৭ অক্টোবর মঙ্গলবার সারাদিন মায়ের সঙ্গে কেনাকাটা করেন তিনি। বাবার জন্যও উপহার হিসেবে কিছু জিনিস কিনেছিলেন। ওইদিন সন্ধ্যার পর দ্বীপ নামের পরিচিত এক ছোট ভাই বাসায় এসে তাহসিফকে ডাকলে তিনি নিচে নামেন। এর পর থেকে আর ঘরে ফেরেননি তিনি। রাতে মাকে একটি মেসেজ পাঠিয়ে দ্রুত বাসায় ফেরার বার্তা দিলেও শেষ পর্যন্ত তার কোনো খোঁজ মেলেনি। তিনি আরও বলেন, ‘এর মধ্যে ওর মা অনেকবার চেষ্টা করেছে, কিন্তু ও ফেরে নাই এবং রাত ১টা ৩৫ মিনিটে সে মেসেজ দিয়েছে যে সে আসছে, আম্মু আমি আসছি—এরম গোছের একটা ব্যস্ত মেসেজ দিয়েছে। তো এনিওয়ে, সন্ধ্যার পরে ওর একটা জুনিয়র মানে বন্ধু, ছোট ভাই উঠে এসে নিচ থেকে ডাকে যে কথা বলতে।

নিখোঁজ হওয়ার পরদিন বুধবার বিকালে তুরাগ নদ থেকে তাহসিফের মরদেহ উদ্ধারের খবর পাওয়া যায়। এ বিষয়ে তার বাবা এনায়েতুল করিম বলেন, ছেলের খোঁজে বুধবার দুপুরে উত্তরা থানায় গিয়েছিলাম। তখন কোনো সুসংবাদ পাওয়া যায়নি। পরবর্তীতে সন্ধ্যার দিকে উত্তরখান থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) ফোন করে বিষয়টি জানান। তাহসিফের বাবা আরও জানান, তার ছেলে সাধারণত রাজাবাড়ী ঘাটের ওই এলাকায় যাতায়াত করতেন না। এটি তার জন্য অপরিচিত এক এলাকা। ছেলের নিখোঁজ হওয়ার আগের ঘটনা বর্ণনা করে এনায়েতুল করিম বলেন, ‘যেদিনের ঘটনা ২৭ তারিখ সন্ধ্যার পরে, সারাদিন আমার মায়ের সঙ্গে ছিল। এরপর থেকে তার আর লোকেট করতে পারিনি।’।

এদিকে তাহসিফের ব্যবহৃত মোটরসাইকেলটিরও এখন পর্যন্ত কোনো হদিস মেলেনি। স্বজনদের মতে, বাসা থেকে বের হওয়ার সময় ওই মোটরসাইকেলটিই তার সঙ্গে ছিল। পরিবারের সদস্যরা এখন পুলিশি তদন্ত এবং ময়নাতদন্তের প্রতিবেদনের দিকে তাকিয়ে আছেন। তাহসিফের মৃত্যুর প্রকৃত কারণ ও রহস্য উদঘাটনে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী কাজ করছে বলে আশা প্রকাশ করেছেন ভুক্তভোগী পরিবার।

অকাল এই মৃত্যুর ঘটনায় পরিবারের সদস্য ও পরিচিত মহলে চরম বিভ্রান্তি ও প্রশ্ন তৈরি হয়েছে। কেন তিনি আতঙ্কিত ছিলেন এবং তুরাগ নদের সেই এলাকায় তিনি কীভাবে পৌঁছালেন, তা নিয়ে তদন্ত চলছে। ময়নাতদন্ত সম্পন্ন হলে মৃত্যুর কারণ সম্পর্কে নিশ্চিত তথ্য পাওয়া সম্ভব হবে বলে ধারণা করা হচ্ছে।