৩৪ দিন পর শর্তসাপেক্ষে ক্লাসে ফিরছেন চুয়েট শিক্ষার্থীরা


  প্রকাশিত হয়েছেঃ   ২৫ অক্টোবর ২০২৬, ৬:৩২ পিএম

দীর্ঘ ৩৪ দিনের অচলাবস্থা কাটিয়ে চট্টগ্রাম প্রকৌশল ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের (চুয়েট) শিক্ষক-শিক্ষার্থীরা শ্রেণিকক্ষে ফিরতে চাইছেন। তবে এই ফেরা মানেই আন্দোলন থেকে সরে আসা নয়; সাবেক উপাচার্য অধ্যাপক আবু সাদাত মুহাম্মদ সায়েমকে স্বপদে পুনর্বহালের দাবিতে তারা অনড় অবস্থান বজায় রেখেছেন।

রোববার শিক্ষকদের কাছে পাঠানো এক খোলা চিঠিতে শিক্ষার্থীরা জানিয়েছেন, দীর্ঘ সময় ক্লাস-পরীক্ষা বন্ধ থাকায় তাদের শিক্ষাজীবন বড় ধরনের ক্ষতির সম্মুখীন হচ্ছে। ভবিষ্যতের অনিশ্চয়তা কাটাতে তারা একাডেমিক কার্যক্রম স্বাভাবিক করার পক্ষে। তবে তারা স্পষ্ট করেছেন যে, দাবি আদায় না হওয়া পর্যন্ত আন্দোলন চলবে। একই দিনে শিক্ষক সমিতির সাধারণ সভায় শিক্ষার্থীদের ক্লাসে ফেরার জন্য আহ্বান জানানোর বিষয়ে নীতিগত সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। এদিকে আজ দুপুরে শিক্ষক সমিতির সাধারণ সভা অনুষ্ঠিত হয়।

চিঠিতে শিক্ষার্থীরা আরও হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেছেন, নতুন নিয়োগপ্রাপ্ত উপাচার্য অধ্যাপক শেখ শরীফুল আলম ক্যাম্পাসে প্রবেশ করলে তারা আবারও কঠোর কর্মসূচিতে নামবেন। তারা সংঘাত নয়, বরং পড়াশোনার পাশাপাশি নিজেদের ন্যায্য দাবি শান্তিপূর্ণভাবে আদায় করতে চান। যন্ত্রকৌশল বিভাগের চতুর্থ বর্ষের শিক্ষার্থী মাসুম বিল্লাহ জানান, শিক্ষার্থীরা শিক্ষা কার্যক্রমে ফিরতে আগ্রহী হলেও সায়েম স্যারের পুনর্বহালের দাবিতে অটল রয়েছেন। ন্যায্য দাবি আদায়ে তারা ঐক্যবদ্ধ থাকবেন বলেও উল্লেখ করেন।

শিক্ষক সমিতির যুগ্ম সম্পাদক সামিউন বাসির জানিয়েছেন, শিক্ষার্থীদের আহ্বানের প্রেক্ষিতে শিক্ষক সমিতি তাদের ক্লাসে ফেরার অনুরোধ জানিয়েছে। শিক্ষার্থীরাও ইতিবাচক সাড়া দিয়েছেন। কবে থেকে ক্লাস শুরু হবে, তা সংশ্লিষ্ট বিভাগগুলো নিজ নিজ সিদ্ধান্ত অনুযায়ী নির্ধারণ করবে। পুরো বিষয়টি নিয়ে বিস্তারিত বিবৃতি প্রকাশের কথা রয়েছে। বাকি সিদ্ধান্তগুলো বিবৃতি দিয়ে জানানো হবে।

উল্লেখ্য, গত ২১ সেপ্টেম্বর শিক্ষা মন্ত্রণালয় চুয়েটের উপাচার্য অধ্যাপক আবু সাদাত মুহাম্মদ সায়েমকে সরিয়ে কুয়েটের অধ্যাপক শেখ শরীফুল আলমকে নতুন উপাচার্য হিসেবে নিয়োগ দেয়।

এই সিদ্ধান্তের প্রতিবাদে ২২ সেপ্টেম্বর থেকে শিক্ষার্থীরা ক্যাম্পাসে সর্বাত্মক শাটডাউন ঘোষণা করেন। সেই থেকে শিক্ষক, কর্মকর্তা ও কর্মচারীদের সম্মিলিত কর্মবিরতি ও অসহযোগ আন্দোলনের কারণে বিশ্ববিদ্যালয়ের একাডেমিক ও প্রশাসনিক কার্যক্রম পুরোপুরি স্থবির হয়ে পড়েছিল।