রূপপুরের প্রথম ইউনিটে পরীক্ষামূলক বিদ্যুৎ উৎপাদন শুরু


  প্রকাশিত হয়েছেঃ   ৩০ অক্টোবর ২০২৬, ৭:৫১ পিএম

ঈশ্বরদীর রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্রের প্রথম ইউনিটে পরীক্ষামূলকভাবে বিদ্যুৎ উৎপাদনের কার্যক্রম আনুষ্ঠানিকভাবে শুরু হয়েছে। শুক্রবার (৩০ অক্টোবর) বিকালে বিজ্ঞান ও প্রযুক্তিমন্ত্রী ফকির মাহবুব আনাম এই বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন। তিনি জানান, একই দিন দুপুর ১২টার দিকে দ্বিতীয় দফায় পারমাণবিক বিক্রিয়া সফলভাবে সম্পন্ন হয়, যার ধারাবাহিকতায় নিয়ন্ত্রিত উপায়ে বিদ্যুৎ উৎপাদনের প্রক্রিয়া এগিয়ে চলছে।

এর আগে বৃহস্পতিবার (২৯ অক্টোবর) বাংলাদেশ পরমাণু শক্তি নিয়ন্ত্রণ কর্তৃপক্ষ (বায়েরা) প্রথম ইউনিটে বিদ্যুৎ উৎপাদনের অনুমোদন প্রদান করে। এই অনুমোদনের মাধ্যমে কেন্দ্রে প্রথমবারের মতো স্বয়ংসম্পূর্ণ চেইন রিঅ্যাকশন বা পরমাণুর বিভাজন প্রক্রিয়া চালু করা হয়েছে। এর মাধ্যমে চুল্লির ভেতরে অত্যন্ত স্থিতিশীল ও নিরাপদ পরিবেশে শক্তির উৎপাদন শুরু হয়েছে বলে সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে।

প্রকল্প সংশ্লিষ্টরা জানিয়েছেন, আন্তর্জাতিক পারমাণবিক শক্তি সংস্থার (আইএইএ) নির্দেশিকা মেনে রাশিয়ার কারিগরি সহযোগিতায় প্রথম ইউনিটের ‘বি-১’ পর্যায়ের কার্যক্রম সফলভাবে সমাপ্ত হয়েছে। বিশেষ করে স্বয়ংক্রিয় চাপ প্রশমন ভালভ পরীক্ষার মতো জটিল কারিগরি চ্যালেঞ্জগুলোও কাটিয়ে ওঠা সম্ভব হয়েছে। বর্তমানে কেন্দ্রটি ‘বি-২’ পর্যায়ের দিকে অগ্রসর হচ্ছে, যেখানে প্রাথমিক পরিচালনার জন্য চুল্লিকে পুরোপুরি প্রস্তুত করা হচ্ছে। সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, আন্তর্জাতিক পারমাণবিক শক্তি সংস্থার (আইএইএ) নির্দেশনা অনুযায়ী রাশিয়ার সহযোগিতায় নির্মিত প্রকল্পটির প্রথম ইউনিটের ‘বি-১’ পর্যায়ের কাজ সফলভাবে শেষ হয়েছে।

বিদ্যুৎ উৎপাদনের এই ধারা অব্যাহত রেখে যখন উৎপাদন সক্ষমতা ৩০০ মেগাওয়াটে পৌঁছাবে, তখনই বাণিজ্যিকভাবে জাতীয় সঞ্চালন লাইনে বিদ্যুৎ সরবরাহ শুরু হবে। আশা করা হচ্ছে, আগামী নভেম্বরের মধ্যেই এই বিদ্যুৎ জাতীয় গ্রিডে যুক্ত হবে। এদিকে, দ্বিতীয় ইউনিটের কার্যক্রমও এগিয়ে চলছে। রাশিয়ার পরমাণু শক্তি সংস্থা রসাটম জানিয়েছে, দ্বিতীয় ইউনিটের ভিভিইআর-১২০০ রিঅ্যাক্টরের জন্য প্রাথমিক জ্বালানি লোডিংয়ের প্রক্রিয়া শুরু হয়েছে।