সিডনি বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষকতায় নিউজিল্যান্ডের সাবেক প্রধানমন্ত্রী জাসিন্ডা


  প্রকাশিত হয়েছেঃ   ২৭ অক্টোবর ২০২৬, ১২:১০ পিএম

অস্ট্রেলিয়ার সিডনি বিশ্ববিদ্যালয়ে এবার নতুন ভূমিকায় অবতীর্ণ হচ্ছেন নিউজিল্যান্ডের সাবেক প্রধানমন্ত্রী জাসিন্ডা আরডার্ন। বিশ্ববিদ্যালয়টির মেডিসিন অ্যান্ড হেলথ অনুষদে তাকে ‘প্রফেসর অব প্র্যাকটিস’ হিসেবে নিয়োগ দেওয়া হয়েছে। এটি কোনো পূর্ণকালীন শিক্ষকতার পদ নয়, বরং তার দীর্ঘ রাজনৈতিক অভিজ্ঞতা এবং প্রতিকূল পরিস্থিতি মোকাবিলার দক্ষতা শিক্ষার্থীদের মাঝে ছড়িয়ে দেওয়াই এই নিয়োগের মূল লক্ষ্য। নতুন এই দায়িত্বে তিনি সহানুভূতিশীল নেতৃত্ব, সামাজিক সংহতি এবং নাগরিক আস্থার মতো গুরুত্বপূর্ণ বিষয়ে কাজ করবেন। পাশাপাশি অতিথি বক্তা হিসেবে মাস্টারক্লাস ও লেকচার পরিচালনার দায়িত্ব পালন করবেন তিনি।

নিজের নতুন এই দায়িত্ব নিয়ে জাসিন্ডা আরডার্ন জানিয়েছেন, সমাজকে আরও কার্যকরভাবে সেবা দেওয়ার উপায় বের করা এবং তা বাস্তবায়নের প্রক্রিয়ায় তিনি সবসময় আগ্রহী। দায়িত্ব ছাড়ার পরবর্তী সময়গুলোতে নেতৃত্বের বিভিন্ন দিক নিয়ে তিনি গভীরভাবে পর্যালোচনা করেছেন। বর্তমান বিশ্বের জটিল সংকটগুলো মোকাবিলায় দক্ষ নেতৃত্ব গড়ে তোলা অত্যন্ত জরুরি বলে মনে করেন তিনি। সিডনি বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য ও প্রেসিডেন্ট মার্ক স্কট এই নিয়োগের প্রতিক্রিয়ায় জানান, জনজীবনে আরডার্নের মানবিকতা ও সাহসের প্রতি তাদের দীর্ঘদিনের শ্রদ্ধা রয়েছে। শিক্ষার্থীরা তার অভিজ্ঞতা থেকে জননেতৃত্ব ও জনসেবা সম্পর্কে হাতে-কলমে শেখার সুযোগ পাবে, যা তাদের ভবিষ্যতের জন্য অত্যন্ত শিক্ষণীয় হবে।

উল্লেখ্য, ২০১৭ সালে মাত্র ৩৭ বছর বয়সে জাসিন্ডা আরডার্ন নিউজিল্যান্ডের প্রধানমন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব গ্রহণ করেন। ২০২৩ সাল পর্যন্ত দীর্ঘ মেয়াদে দায়িত্ব পালনকালে তাকে একাধিক ভয়াবহ সংকটের মোকাবিলা করতে হয়েছে। এর মধ্যে ২০১৯ সালের ক্রাইস্টচার্চ মসজিদে সন্ত্রাসী হামলা, একই বছর হোয়াকারি হোয়াইট আইল্যান্ডে আগ্নেয়গিরির অগ্ন্যুৎপাত এবং পরবর্তীকালে বিশ্বব্যাপী কোভিড-১৯ মহামারি তার নেতৃত্বের বড় পরীক্ষা হিসেবে গণ্য হয়। দায়িত্ব থেকে সরে দাঁড়ানোর কয়েক মাস পর, নিউজিল্যান্ডের প্রতি তার বিশেষ অবদানের স্বীকৃতিস্বরূপ ২০২৩ সালে তাকে ‘ডেমহুড’ উপাধিতে ভূষিত করা হয়।

ব্যক্তিগত জীবনে জাসিন্ডা আরডার্ন ও তার পরিবার বর্তমানে অস্ট্রেলিয়ায় বসবাস করছেন। প্রকাশিত তথ্যানুযায়ী, চলতি বছরের ফেব্রুয়ারিতেই তারা অস্ট্রেলিয়ায় স্থায়ী হওয়ার প্রক্রিয়া শুরু করেন। স্বামী ক্লার্ক গেফোর্ডের সঙ্গে সিডনির নর্দার্ন বিচেস এলাকায় প্রায় ৫.৩ মিলিয়ন ডলার মূল্যে একটি বাড়ি কেনার খবরও বিভিন্ন গণমাধ্যমে উঠে এসেছে। নতুন কর্মস্থলে যোগদানের মাধ্যমে তিনি তার অভিজ্ঞতার ভাণ্ডার শিক্ষার্থীদের মাঝে উন্মুক্ত করে দিতে বদ্ধপরিকর।