ইরানের কেশম দ্বীপে যুক্তরাষ্ট্রের গোপন হামলা, হরমুজে আতঙ্ক


  প্রকাশিত হয়েছেঃ   ৩ নভেম্বর ২০২৬, ৮:৩১ এএম

ইরানের হরমুজ প্রণালির কেশম দ্বীপে মার্কিন সামরিক বাহিনী গোপনে হামলা চালিয়েছে বলে খবর পাওয়া গেছে। সম্প্রতি দেশটিতে চালানো একাধিক সীমিত সামরিক অভিযানের অংশ হিসেবেই এই হামলা করা হয়েছে বলে মার্কিন সংবাদমাধ্যম ওয়াল স্ট্রিট জার্নাল এক প্রতিবেদনে জানিয়েছে। যদিও মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প একই সময়ে ইরানের সঙ্গে কূটনৈতিক সমঝোতার সম্ভাবনার কথা বলছিলেন, তবুও দেশটির ভেতর ওয়াশিংটন গোপনে ধারাবাহিকভাবে এই অভিযানগুলো চালিয়েছে বলে নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক মার্কিন কর্মকর্তাদের উদ্ধৃতি দিয়ে জানিয়েছে সংবাদমাধ্যমটি।

মঙ্গলবার ভোরে ইরানের দক্ষিণাঞ্চলে একাধিক বিস্ফোরণের শব্দ শোনা গেছে।

বিশেষ করে হরমুজ প্রণালির কেশম দ্বীপ এবং হরমোজগান প্রদেশের উপকূলীয় শহর বন্দর লেঙ্গেহতে এসব বিস্ফোরণ ঘটে। ইরানের রাষ্ট্রীয় সংবাদ সংস্থা ইরনা জানিয়েছে, কেশম দ্বীপে অন্তত পাঁচটি বিস্ফোরণের শব্দ শোনা গেছে। এছাড়া আধা সরকারি সংবাদ সংস্থা ফারস জানিয়েছে, বন্দর লেঙ্গেহ শহরে সাগরের দিক থেকে বিস্ফোরণের আওয়াজ ভেসে আসে। তবে তাৎক্ষণিকভাবে এসব ঘটনায় কোনো ক্ষয়ক্ষতি বা প্রাণহানির তথ্য পাওয়া যায়নি এবং মার্কিন প্রতিরক্ষা দপ্তর এ বিষয়ে কোনো মন্তব্য না করে প্রশ্নগুলো যুক্তরাষ্ট্রের কেন্দ্রীয় কমান্ড বা সেন্টকমের কাছে পাঠিয়ে দিয়েছে। তবে হামলার কারণ, হতাহত ও ক্ষয়ক্ষতির বিষয়ে তাৎক্ষণিকভাবে কিছু জানা যায়নি। বিস্ফোরণের কারণ সম্পর্কে এখনো নিশ্চিত হওয়া যায়নি।

এদিকে ওয়াল স্ট্রিট জার্নালের প্রতিবেদন অনুযায়ী, এক মার্কিন কর্মকর্তা বলেছেন যে মধ্যপ্রাচ্যে মার্কিন সেনাদের নিরাপত্তার হুমকি মোকাবিলায় ওয়াশিংটন ধারাবাহিকভাবে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নিচ্ছে। উল্লেখ্য, গত ২৮ ফেব্রুয়ারি যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরাইল ইরানে হামলা শুরু করলে পালটা জবাব হিসেবে ইরান ইসরাইল এবং মধ্যপ্রাচ্যে থাকা মার্কিন স্থাপনাগুলোতে আক্রমণ চালায়। পরে চলতি বছরের এপ্রিলে দুই পক্ষ একটি যুদ্ধবিরতি চুক্তিতে সম্মত হয়েছিল।

তীব্র উত্তেজনার মধ্যেই গত ১৮ জুন হরমুজ প্রণালিতে জাহাজ চলাচলের স্বাধীনতা নিশ্চিতে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরান একটি সমঝোতা স্মারকে স্বাক্ষর করেছিল, কিন্তু প্রণালির নিরাপত্তা নিয়ে মতপার্থক্য থাকায় সেটি আর বাস্তবায়ন হয়নি। তবে প্রণালিটির নিরাপত্তা নিয়ে মতবিরোধের কারণে চুক্তিটির বাস্তবায়ন থমকে যায়।

চলমান পরিস্থিতিতে ইরানের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র ইসমাইল বাঘাই সোমবার জানিয়েছেন, দুই দেশের মধ্যে মধ্যস্থতাকারীদের মাধ্যমে বার্তা আদান-প্রদান এখনও চলমান।

এই যোগাযোগ প্রক্রিয়া আরও সহজ করতে ইরানের উপপররাষ্ট্রমন্ত্রী কাজেম ঘারিবাবাদি বর্তমানে দোহা সফর করছেন বলে তিনি উল্লেখ করেন।

মার্কিন মধ্যবর্তী নির্বাচনের পর ইরান নিয়ে ট্রাম্পের যুদ্ধের সম্ভাবনা নাকচ করা মন্তব্যের ঠিক পরই এই হামলার খবরটি সামনে এল।