কূটনৈতিক তৎপরতায় বিশ্ববাজারে তেলের দামে বড় পতন


  প্রকাশিত হয়েছেঃ   ২ নভেম্বর ২০২৬, ১০:৩২ পিএম

ইরান ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যকার চলমান সংঘাত নিরসনে কূটনৈতিক প্রচেষ্টার ইতিবাচক সংকেত পাওয়ায় সোমবার বিশ্ববাজারে অপরিশোধিত তেলের দাম উল্লেখযোগ্য হারে হ্রাস পেয়েছে। পারস্য উপসাগরীয় অঞ্চল থেকে জ্বালানি সরবরাহ বিঘ্নিত হওয়ার আশঙ্কা কিছুটা কমে আসায় একদিনেই জ্বালানি তেলের বৈশ্বিক বাজারদর প্রায় ৬ শতাংশ নিচে নেমে এসেছে। গ্রিনিচ মান সময় সোমবার বেলা ২টার হিসাব অনুযায়ী, ব্রেন্ট ক্রুড তেলের দাম ব্যারেলপ্রতি ৬ ডলার ৯০ সেন্ট কমে ১০৬ ডলার ৫০ সেন্টে দাঁড়িয়েছে। একই সময়ে যুক্তরাষ্ট্রের ওয়েস্ট টেক্সাস ইন্টারমিডিয়েট (ডব্লিউটিআই) তেলের দাম ব্যারেলপ্রতি ৬ ডলার ২৫ সেন্ট কমে ৯৭ ডলার ৮৭ সেন্টে নেমেছে।

চলমান সংকট অবসানে তেহরানের নমনীয় অবস্থানের প্রতিফলন পাওয়া গেছে দেশটির রাষ্ট্রীয় বার্তা সংস্থা আইআরএনএর প্রতিবেদনে। এতে জানানো হয়েছে, কূটনৈতিক উদ্যোগের প্রতি সম্মতি প্রকাশ করেছেন ইরানের সর্বোচ্চ নেতা মোজতবা খামেনি। এ লক্ষ্যে ইরানের উপপররাষ্ট্রমন্ত্রী কাজেম গারিবাবাদি কাতারের মধ্যস্থতায় দোহা সফর করেছেন বলে নিশ্চিত করেছেন ইরানের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র ইসমাঈল বাঘাই। তিনি জানান, ইরানের ওপর থেকে সামরিক ও নৌ অবরোধ প্রত্যাহারের শর্তের পাশাপাশি হরমুজ প্রণালি পুনরায় সচল রাখার বিষয়টিও আলোচনায় গুরুত্ব পাচ্ছে।

মার্কিন সংবাদমাধ্যম এক্সিওসের প্রতিবেদন অনুযায়ী, কূটনৈতিক সমাধানের প্রচেষ্টাকে আরও কিছুটা সময় দেওয়ার ইঙ্গিত দিয়েছেন যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেঞ্জামিন নেতানিয়াহুর সঙ্গে ফোনালাপে তিনি স্পষ্ট করেছেন যে, ইরানের ওপর নতুন কোনো সামরিক হামলার চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেওয়ার আগে তিনি কূটনৈতিক পথগুলো যাচাই করে দেখতে চান।

এদিকে তেলের দামের অস্থিরতা মোকাবিলায় এবং সরবরাহ নিয়ন্ত্রণে রাখতে রোববার বৈঠকে মিলিত হয়েছিল ওপেক প্লাস জোটের সাত সদস্যদেশ। ওই বৈঠকে ডিসেম্বরের পুরো সময় জুড়ে উৎপাদন বর্তমান পর্যায়েই অপরিবর্তিত রাখার সিদ্ধান্ত গৃহীত হয়েছে। এর ফলে অক্টোবর থেকে তেল উৎপাদন বৃদ্ধির পরিকল্পনা স্থগিত রাখার যে ঘোষণা ছিল, তার মেয়াদ আরও এক মাস বাড়ানো হলো।