দুধের উৎপাদন খরচ ৪৪ টাকা ৮০ পয়সা, বাজারে বিক্রি ১১০ টাকায়


  প্রকাশিত হয়েছেঃ   ২৮ অক্টোবর ২০২৬, ১০:২১ পিএম

নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্য দুধ, ডিম ও মাংসের বাজারে উৎপাদন খরচের সঙ্গে খুচরা বিক্রয়মূল্যের বড় ধরনের তফাৎ দেখা গেছে। মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ মন্ত্রণালয়ের হিসাব অনুযায়ী, এক লিটার দুধ উৎপাদনে খরচ হয় ৪৪ টাকা ৮০ পয়সা। অথচ সেই দুধ খুচরা বাজারে বিক্রি হচ্ছে ১০০ থেকে ১১০ টাকায়। একই চিত্র সোনালি ও ব্রয়লার মুরগি, ডিম এবং গরু ও খাসির মাংসের ক্ষেত্রেও।

জাতীয় সংসদ ভবনে বুধবার (২৮ অক্টোবর) অনুষ্ঠিত মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ মন্ত্রণালয় সম্পর্কিত সংসদীয় স্থায়ী কমিটির দ্বিতীয় বৈঠকে এসব তথ্য তুলে ধরা হয়। বৈঠকে উপস্থাপিত তথ্যে জানানো হয়, প্রতি কেজি সোনালি মুরগির উৎপাদন খরচ ২৫৩ টাকা, কিন্তু বাজারে তা বিক্রি হচ্ছে ৩০০ থেকে ৩৫০ টাকায়। একইভাবে ১৬১ টাকা ৫৫ পয়সা খরচের ব্রয়লার মুরগি ১৮০ থেকে ২০০ টাকা এবং ১০ টাকা ৮১ পয়সার ডিম বিক্রি হচ্ছে ১২ থেকে ১৩ টাকায়। অন্যদিকে প্রতি কেজি গরুর মাংসের উৎপাদন খরচ ৫৮৭ টাকা ৫০ পয়সা হলেও বাজারমূল্য ৭৮০ থেকে ৮০০ টাকা এবং ৮৭৫ টাকা খরচের খাসির মাংস বিক্রি হচ্ছে ১ হাজার থেকে ১ হাজার ১০০ টাকায়।

উৎপাদন খরচ ও খুচরা মূল্যের এই অস্বাভাবিক ব্যবধানের কারণে বাজারে অযৌক্তিক মূল্যবৃদ্ধি, মধ্যস্বত্বভোগীদের অন্যায্য মুনাফা, কৃত্রিম সংকট ও সরবরাহ ব্যবস্থার অনিয়ম খতিয়ে দেখার সুপারিশ করেছে সংসদীয় স্থায়ী কমিটি। স্থায়ী কমিটি এসব অনিয়ম রোধে কঠোর বাজারভিত্তিক তদন্ত ও নিবিড় তদারকি কার্যক্রম জোরদার করার ওপর তাগিদ দিয়েছে।

বৈঠকে একদিনের বাচ্চা ও ডিমের বাজারমূল্য স্বাভাবিক রাখার কৌশল নিয়েও বিস্তারিত আলোচনা হয়। এ উদ্দেশ্যে প্রাণিসম্পদ অধিদপ্তর থেকে মন্ত্রণালয়ে একটি বিশেষ কৌশলপত্র জমা দেওয়া হয়েছে। এই কৌশলপত্রের মাধ্যমে ডিম ও বাচ্চার সঠিক চাহিদা নিরূপণ করে উৎপাদন ও সরবরাহ বজায় রাখতে প্রাণিসম্পদ অধিদপ্তর, বাণিজ্য মন্ত্রণালয় এবং জাতীয় ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ অধিদপ্তরসহ সংশ্লিষ্ট সব সংস্থাকে সমন্বিতভাবে কাজ করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

পাশাপাশি দেশীয় মাছ ও প্রাণিজ পণ্যের উৎপাদন বৃদ্ধি, ভোক্তা অধিকার সুরক্ষা, জলাশয়ে মাছের অভয়াশ্রম তৈরি এবং প্রান্তিক খামারিদের সুযোগ-সুবিধা বাড়ানোর বিষয়ে জোর দেওয়া হয়। এছাড়া সামুদ্রিক মৎস্যসম্পদ আহরণ ও বিশ্ববাজারে রপ্তানি বৃদ্ধির উদ্দেশ্যে একটি সমন্বিত কর্মপরিকল্পনা প্রস্তুত করে দ্রুত কমিটির কাছে জমা দেওয়ার জন্য বলা হয়েছে।

বৈঠকে মন্ত্রণালয়ের অধীনে চলমান নিয়োগ প্রক্রিয়ার অগ্রগতি পরবর্তী সভায় উপস্থাপন করা, নির্ধারিত মেয়াদে উন্নয়ন প্রকল্প সম্পন্ন করা এবং দায়িত্বপ্রাপ্তদের জবাবদিহিতা নিশ্চিত করার সিদ্ধান্ত হয়। সংসদীয় কমিটির সভাপতি খায়রুল কবির খোকনের সভাপতিত্বে সভায় উপস্থিত ছিলেন সদস্য ও প্রতিমন্ত্রী সুলতান সালাউদ্দিন টুকু, শেখ মো. রেজাউল ইসলাম, অধ্যাপক নজরুল ইসলাম, এম এ হান্নান, আলী আজম, আবু বকর ও আমির হামজা। বিশেষ আমন্ত্রণে মন্ত্রী মোহাম্মদ আমিন উর রশিদ বৈঠকে যোগ দেন।