সংযুক্ত আরব আমিরাতে পেট্রল ও ডিজেলের দাম হ্রাস

দীর্ঘ চার মাস ধারাবাহিকভাবে জ্বালানি তেলের দাম বাড়ার পর সংযুক্ত আরব আমিরাতে কিছুটা স্বস্তি ফিরছে। মধ্যপ্রাচ্যের চলমান অস্থিতিশীল পরিস্থিতি ও বিশ্ববাজারে অপরিশোধিত তেলের চড়া দামের মধ্যেই জ্বালানি কর্তৃপক্ষ দেশটিতে পেট্রল ও ডিজেলের দাম কমানোর এই সিদ্ধান্ত নিয়েছে। ২০১৫ সাল থেকে আন্তর্জাতিক বাজারের দামের সঙ্গে সমন্বয় রেখে আমিরাতে জ্বালানির খুচরা মূল্য নির্ধারিত হয়ে আসছে, যার ফলে বিশ্ববাজারের অস্থিরতার প্রভাব স্থানীয় বাজারেও বেশ স্পষ্ট।
বিভিন্ন জ্বালানির নতুন দাম ও হার
দ্য ন্যাশনালের এক প্রতিবেদন অনুযায়ী, নভেম্বর মাসে সুপার ৯৮ পেট্রলের দাম প্রতি লিটারে ৪ দশমিক ৪০ দিরহাম থেকে কমিয়ে ৪ দশমিক ১৬ দিরহাম নির্ধারণ করা হয়েছে। অর্থাৎ দাম কমছে ৫ দশমিক ৫ শতাংশ। এছাড়া স্পেশাল ৯৫ পেট্রলের দাম ৪ দশমিক ২৮ দিরহাম থেকে কমিয়ে ৪ দশমিক ০৪ দিরহাম করা হয়েছে, যার ফলে এই জ্বালানিতে দাম কমবে ৫ দশমিক ৬ শতাংশ। সবচেয়ে বেশি মূল্যহ্রাস হয়েছে ই-প্লাস ৯১ পেট্রলের ক্ষেত্রে। প্রতি লিটারে ৫ দশমিক ৭ শতাংশ কমে এর নতুন দাম দাঁড়িয়েছে ৩ দশমিক ৯৭ দিরহাম, যা অক্টোবরে ছিল ৪ দশমিক ২১ দিরহাম। পাশাপাশি ডিজেলের দাম ১ শতাংশ কমিয়ে প্রতি লিটার ৪ দশমিক ৭৫ দিরহাম নির্ধারণ করা হয়েছে, যা অক্টোবরে ছিল ৪ দশমিক ৮০ দিরহাম।
আন্তর্জাতিক বাজারের প্রভাব ও বৈশ্বিক প্রেক্ষাপট
নভেম্বর মাসে এই মূল্যহ্রাস করা হলেও আমিরাতে জ্বালানির বর্তমান দাম গত ফেব্রুয়ারির তুলনায় প্রায় ৮০ শতাংশ বেশি। ইরানের সঙ্গে উত্তেজনার আগে ফেব্রুয়ারিতে জ্বালানি তেলের বাজার ছিল অনেক বেশি স্থিতিশীল। এদিকে অক্টোবরের শেষদিকে বিশ্ববাজারে অপরিশোধিত তেলের দাম গত ছয় মাসের মধ্যে সর্বোচ্চ পর্যায়ে পৌঁছায়। ব্রেন্ট ক্রুডের দাম ২ দশমিক ৪ শতাংশ বেড়ে ব্যারেলপ্রতি ১১৭ দশমিক ৬৪ ডলারে দাঁড়িয়েছে এবং পুরো মাসে এর দাম বেড়েছে প্রায় ১৫ শতাংশ। একই সময়ে যুক্তরাষ্ট্রের বাজারে ডব্লিউটিআই অপরিশোধিত তেলের দাম ২ দশমিক ০৮ শতাংশ বৃদ্ধি পেয়ে ব্যারেলপ্রতি ১০৪ দশমিক ১২ ডলারে পৌঁছেছে।
বিশ্লেষকদের মতামত
- দুবাইভিত্তিক ক্বামার এনার্জির পরামর্শক আহমেদ জাহির জানান, ভূরাজনৈতিক ঝুঁকি ও পরিবহন ব্যয় বৃদ্ধি তেলের দাম বাড়াতে বড় ধরনের ভূমিকা রাখছে।
- বিশ্লেষকদের পূর্বানুমান ছিল নভেম্বরেও দাম বাড়তে পারে, তবে সরবরাহ স্থিতিশীল থাকা এবং চাহিদা কমে যাওয়ায় সেই আশঙ্কা কিছুটা কমেছে।
- কূটনৈতিক সমাধানের সম্ভাবনা তেলের দাম আর না বাড়ার পেছনে গুরুত্বপূর্ণ বাধা হিসেবে কাজ করছে।