মিরপুরে পুলিশ-শ্রমিক সংঘর্ষ, বন্ধ মেট্রোরেল স্টেশন


  প্রকাশিত হয়েছেঃ   ৩ নভেম্বর ২০২৬, ১১:৩১ এএম

রাজধানীর মিরপুর-১১ এলাকায় মঙ্গলবার (৩ নভেম্বর) সকাল সোয়া ১০টার দিকে সড়ক অবরোধ করে বিক্ষোভ প্রদর্শন করেন আন্দোলনরত পোশাক শ্রমিকরা। তাদের সড়ক থেকে সরিয়ে দিতে পুলিশ সাউন্ড গ্রেনেড ও টিয়ারশেল নিক্ষেপ করে। জবাবে শ্রমিকরাও পুলিশকে লক্ষ্য করে ইট-পাটকেল নিক্ষেপ করলে দুই পক্ষের মধ্যে তীব্র পাল্টাপাল্টি ধাওয়া শুরু হয়। উদ্ভূত পরিস্থিতির কারণে নিরাপত্তার স্বার্থে মিরপুর মেট্রোরেল স্টেশন বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে।

নূন্যতম মজুরি ৩০ হাজার টাকা নির্ধারণের দাবিতে এই আন্দোলনের সূচনা হয়, যা ছড়িয়ে পড়ে দেশের প্রধান তিনটি শিল্পাঞ্চলে। শ্রমিকদের অসন্তোষ এবং কাজ বন্ধ করে কারখানা ত্যাগ করার কারণে দেশের শিল্পাঞ্চলগুলোর পরিস্থিতির অবনতি ঘটে। এর ফলে রাজধানীর মিরপুর, গাজীপুর-ময়মনসিংহ এবং সাভার-আশুলিয়া-জিরানী অঞ্চলের অন্তত ৬৭৯টি পোশাক কারখানার উৎপাদন কার্যক্রম বন্ধ হয়ে যায়। কাজ না পেয়ে কারখানা থেকে নিজ নিজ বাসায় ফিরে যেতে বাধ্য হন ১৬ লাখ ৮০ হাজার ৫৭২ জন শ্রমিক।

বিজিএমইএ সূত্রের তথ্য অনুযায়ী, দেশের পাঁচটি শিল্পাঞ্চলে মোট ২ হাজার ১৩৪টি কারখানার মধ্যে সোমবার বেলা সাড়ে ৩টা পর্যন্ত ১ হাজার ৪৫৫টি কারখানা চালু ছিল। অন্যদিকে শ্রমিক আন্দোলনের জেরে বন্ধ হয়ে যায় ৬৭৯টি কারখানা। শুধুমাত্র মিরপুরের ৩২০টি কারখানার মধ্যে ৫৫টি থেকে প্রায় ৫৩ হাজার ৮৪০ জন শ্রমিক কাজ না করে বেরিয়ে যান। সোমবার বিজিএমইএ সূত্রে এসব তথ্য জানা গেছে। কাজ না করে চলে যাওয়া শ্রমিকের সংখ্যা ৫৩ হাজার ৮৪০ জন।

অন্যান্য পোশাক শিল্পাঞ্চলের মধ্যে গাজীপুর ও ময়মনসিংহ অঞ্চলের ৮৩৬টি কারখানার মধ্যে ৩৮২টি কারখানায় উৎপাদন বন্ধ ছিল। এছাড়া সাভার, আশুলিয়া ও জিরানী এলাকার ৪৪১টি কারখানার মধ্যে ২২৩টির প্রায় ৭ লাখ ৪৩ হাজার শ্রমিক কাজ বন্ধ রাখেন। নারায়ণগঞ্জের ১৯৯টি কারখানার মধ্যে ৯টি থেকে শ্রমিক বের হয়ে যাওয়ার ঘটনা ঘটলেও চট্টগ্রামের ৩৪০টি কারখানায় আন্দোলন বা অসন্তোষের প্রভাব পড়েনি। বর্তমানে শিল্পাঞ্চলগুলোতে থমথমে অবস্থা বিরাজ করছে এবং আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী ও সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখতে তৎপর রয়েছে। দুইপক্ষের পালটাপালটি ধাওয়া চলমান রয়েছে।