টঙ্গীর ঘটনায় আলোচিত শাহজালাল রুমির খোঁজ মিলছে না


  প্রকাশিত হয়েছেঃ   ২৭ অক্টোবর ২০২৬, ৫:২৭ পিএম

টঙ্গীর ক্বারিউল কুরআন মাদরাসায় এক শিশু শিক্ষার্থীকে নিপীড়নের ঘটনার প্রতিবাদ করে আলোচনায় আসা শাহজালাল রুমি বর্তমানে কোথায় আছেন, তা নিয়ে রহস্য সৃষ্টি হয়েছে। গাজীপুরের টঙ্গীতে ক্বারিউল কুরআন মাদরাসায় এক শিশু শিক্ষার্থীকে যৌন নিপীড়নের প্রতিবাদ করে আলোচনায় সেই শাহজালাল রুমির খোঁজ মিলছে না।

মঙ্গলবার সকালে টঙ্গীর আউচপাড়া এলাকার শফিউদ্দিন একাডেমি রোডের ১৩০ নম্বর ভবনের ৭৪/১ হোল্ডিংয়ের ৬/বি ফ্ল্যাটে গিয়ে দেখা যায়, সেটি তালাবদ্ধ অবস্থায় রয়েছে। ভবনের তত্ত্বাবধায়ক মো. হাবিবুর রহমানের ভাষ্যমতে, গত শুক্রবার থেকেই ভুক্তভোগী শিশুর পরিবার বাসায় নেই। রুমি মাঝেমধ্যে সেখানে যাতায়াত করতেন এবং দ্বিতীয় স্ত্রী ও পরিবার নিয়ে ঢাকায় থাকতেন বলে জানালেও, বর্তমানে তার সুনির্দিষ্ট অবস্থানের বিষয়ে কোনো তথ্য জানাতে পারেননি তত্ত্বাবধায়ক।

শাহজালাল রুমির শ্বশুর আলহাজ মোকারম আলী মুঠোফোনে জানান, রুমি দেশে আছেন নাকি বিদেশে, সে সম্পর্কে তার কোনো ধারণা নেই। এছাড়া তাদের পরিবারও আগের বাসা ছেড়ে অন্যত্র চলে গেছে। তবে সোমবার রাতে হোয়াটসঅ্যাপে গণমাধ্যমের প্রশ্নের জবাবে রুমি একটি বার্তায় জানান, তিনি বর্তমানে দেশের বাইরে আছেন এবং এসব বিষয় নিয়ে নতুন করে ভাবছেন না। এই পরিস্থিতিতে টঙ্গী পশ্চিম থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. আরিফুর রহমান জানান, রুমি দেশে না বিদেশে অবস্থান করছেন তা পুলিশের কাছে স্পষ্ট নয়, তবে তার বাসায় কাউকে পাওয়া যায়নি। তবে হোয়াটসঅ্যাপে এক প্রশ্নের জবাবে সোমবার রাতে এক খুদে বার্তায় রুমি সাংবাদিকদের জানান, ‘ভাই, আমি এই দেশেই আর নাই; সুতরাং আমি এগুলো নিয়ে আর ভাবছি না। তবে বাসায় গিয়ে তাকে পাওয়া যায়নি।

তদন্তের স্বার্থে ওই শিশুটিকে শিক্ষকের চুমু দেওয়ার অভিযোগের বিষয়ে কোনো মন্তব্য করতে অস্বীকৃতি জানান ওসি আরিফুর রহমান। প্রসঙ্গত, গত ২১ অক্টোবর অভিযুক্ত শিক্ষক মো. মোসলেম উদ্দিনকে মারধর করে পুলিশের হাতে তুলে দিয়েছিলেন শিশুটির বাবা শাহজালাল রুমি। ওই ঘটনার ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়লে ব্যাপক প্রতিক্রিয়া সৃষ্টি হয়। পরবর্তীতে রুমি বাদী হয়ে টঙ্গী পশ্চিম থানায় শিশু নিপীড়নের অভিযোগে মামলা দায়ের করেন। এর বিপরীতে মাদরাসার অধ্যক্ষের পক্ষ থেকেও রুমির বিরুদ্ধে মাদরাসা ভাঙচুর ও ১৭ লাখ টাকা চুরির অভিযোগে পাল্টা মামলা দায়ের করা হয়েছে। এর পর মাদ্রাসার অধ্যক্ষের পক্ষ থেকে দায়ের করা পাল্টা মামলায় রুমির বিরুদ্ধে মাদরাসায ভাঙচুর ও ১৭ লাখ টাকা চুরিসহ বিভিন্ন অভিযোগ আনা হয়।