১৫০ কিমি গতিতে এগোচ্ছে অর্ণব, জানাল আবহাওয়া অধিদপ্তর

বঙ্গোপসাগরে সৃষ্ট অতি প্রবল ঘূর্ণিঝড় ‘অর্ণব’ ভারতের অন্ধ্র প্রদেশের উপকূলের দিকে ধেয়ে চলেছে। এটি বুধবার দুপুর নাগাদ ভারতের অন্ধ্র উপকূল অতিক্রম করতে পারে বলে জানিয়েছে বাংলাদেশ আবহাওয়া অধিদপ্তর। ঘূর্ণিঝড়টির গতিপথ ও সম্ভাব্য প্রভাব নিয়ে মঙ্গলবার এক সংবাদমাধ্যমে কথা বলেন অধিদপ্তরের আবহাওয়াবিদ ড. মুহাম্মদ আবুল কালাম মল্লিক। তার ভাষ্য অনুযায়ী, এই ঝড়ের সরাসরি বড় কোনো আঘাত বাংলাদেশে পড়ার আশঙ্কা নেই। মঙ্গলবার (২৭ অক্টোবর) ঘূর্ণিঝড়টির গতিপথ ও বাংলাদেশের ওপর সম্ভাব্য প্রভাব নিয়ে গণমাধ্যমের সঙ্গে কথা বলেন বাংলাদেশ আবহাওয়া অধিদপ্তরের আবহাওয়াবিদ ড. মুহাম্মদ আবুল কালাম মল্লিক। তিনি জানান, বুধবার (২৮ অক্টোবর) দুপুর নাগাদ ভারতের অন্ধ্র উপকূল অতিক্রম করতে পারে ঘূর্ণিঝড় অর্ণব।
আবহাওয়া অধিদপ্তরের বিশেষ বিজ্ঞপ্তির ১২ নম্বর বুলেটিনে জানানো হয়েছে, পশ্চিমমধ্য বঙ্গোপসাগর ও তৎসংলগ্ন এলাকায় অবস্থানরত অতি প্রবল ঘূর্ণিঝড়টি পশ্চিম-উত্তরপশ্চিম দিকে অগ্রসর হচ্ছে। মঙ্গলবার দুপুর ১২টার তথ্য অনুযায়ী, এটি চট্টগ্রাম সমুদ্রবন্দর থেকে ১ হাজার ১৩০ কিলোমিটার, কক্সবাজার থেকে ১ হাজার ৯৫ কিলোমিটার, মোংলা সমুদ্রবন্দর থেকে ৯৬৫ কিলোমিটার এবং পায়রা সমুদ্রবন্দর থেকে ৯৮৫ কিলোমিটার দক্ষিণ-পশ্চিমে অবস্থান করছিল।
ঘূর্ণিঝড় কেন্দ্রের ৬৪ কিলোমিটারের মধ্যে বাতাসের একটানা সর্বোচ্চ গতিবেগ ঘণ্টায় ১৩০ কিলোমিটার পর্যন্ত রয়েছে। এছাড়া দমকা অথবা ঝোড়ো হাওয়ার আকারে এর গতিবেগ ঘণ্টায় ১৫০ কিলোমিটার পর্যন্ত বৃদ্ধি পাচ্ছে। কেন্দ্রের নিকটবর্তী এলাকায় সাগর অত্যন্ত বিক্ষুব্ধ থাকায় দেশের চারটি সমুদ্রবন্দরকে ৩ নম্বর স্থানীয় সতর্কসংকেত দেখাতে বলা হয়েছে। একই সঙ্গে সাগরে থাকা মাছ ধরার নৌকা ও ট্রলারগুলোকে উপকূলের কাছাকাছি থেকে সাবধানে চলাচল করতে বলা হয়েছে।
ড. মুহাম্মদ আবুল কালাম মল্লিক জানান, ঘূর্ণিঝড়ের প্রভাবে ইতিমধ্যে চট্টগ্রামের মিরসরাইসহ উপকূলীয় কিছু অঞ্চলে ঝোড়ো হাওয়াসহ বৃষ্টি শুরু হয়েছে। আগামী তিন দিন দেশের বিভিন্ন এলাকায় থেমে থেমে হালকা থেকে মাঝারি বৃষ্টিপাত অব্যাহত থাকতে পারে। এই বৃষ্টি ও দমকা আবহাওয়ার কারণে বুধবার থেকে দেশের তাপমাত্রা কিছুটা হ্রাস পেতে পারে।
তবে এই বৃষ্টির পর পরই দেশে শীতের আমেজ নামার সম্ভাবনা নেই বলে স্পষ্ট করেছেন এই আবহাওয়াবিদ। তিনি উল্লেখ করেন, নভেম্বরের শেষভাগের দিকে শীতের অনুভূতি বাড়তে পারে। বর্তমান কার্তিক মাসে ভোর থেকে সকালের দিকে কুয়াশা এবং হালকা শীত অনুভূত হওয়া স্বাভাবিক প্রক্রিয়া।