বরিশালে ৬ রুটে বাস চলাচল বন্ধ, চরম ভোগান্তিতে যাত্রীরা

সড়ক থেকে থ্রি-হুইলার ও ব্যাটারিচালিত অটোরিকশা উচ্ছেদের দাবিতে বরিশাল সদর উপজেলার চরকাউয়া বাস টার্মিনাল থেকে ছয়টি রুটে বাস চলাচল অনির্দিষ্টকালের জন্য বন্ধ রেখেছেন বাস মালিক সমিতি ও শ্রমিক ইউনিয়নের নেতারা। সোমবার (২ নভেম্বর) সকাল থেকে এই কর্মসূচি শুরু হওয়ার ফলে টার্মিনালকেন্দ্রিক পরিবহন ব্যবস্থা স্থবির হয়ে পড়েছে। চরকাউয়া টার্মিনাল থেকে ডিসি রোড, লক্ষ্মীপাশা, লাহারহাট, কাটাড়িয়া, হলতা ও সিদ্দিক বাজার রুটে প্রায় ৭০টি বাস নিয়মিত চলাচল করে, যার ওপর প্রতিদিন কয়েক হাজার যাত্রী নির্ভরশীল।
হঠাৎ এই ধর্মঘটের কারণে সাধারণ যাত্রীরা পড়েছেন চরম দুর্ভোগে। অনেকে গন্তব্যে পৌঁছাতে বাধ্য হয়ে কয়েকগুণ বেশি ভাড়ায় মোটরসাইকেল বা রিকশায় চড়ছেন। সোহরাব হাওলাদার নামে এক যাত্রী জানান, বরিশাল থেকে নেহালগঞ্জ যাওয়ার উদ্দেশ্যে টার্মিনালে এসে তিনি বাস বন্ধ দেখতে পান। বাধ্য হয়ে অতিরিক্ত টাকা খরচ করে বিকল্প পথে তাকে রওনা হতে হচ্ছে। একই অভিজ্ঞতার কথা জানিয়েছেন আমেনা খাতুন নামে আরেক যাত্রী, যিনি জরুরি কাজে বের হয়ে চরম বিড়ম্বনায় পড়েছেন। এখন বিকল্প উপায়ে গন্তব্যে যেতে অতিরিক্ত খরচ ও পোহাতে হচ্ছে বাড়তি ভোগান্তি।
পরিবহন মালিক ও শ্রমিকদের দাবি, মহাসড়ক ও আঞ্চলিক সড়কে থ্রি-হুইলার এবং অটোরিকশার অবাধ চলাচলের কারণে সড়কপথে প্রতিনিয়ত দুর্ঘটনা বাড়ছে। বাসগুলোর সঙ্গে পাল্লা দিয়ে এই অবৈধ যানগুলো চলার ফলে বড় ধরনের ঝুঁকির সৃষ্টি হচ্ছে। গত রোববার মালিক ও শ্রমিকদের মধ্যে বিরোধের জের ধরেই মূলত এই সংকট ঘনীভূত হয়েছে। তারা অনতিবিলম্বে এসব অননুমোদিত যান সড়ক থেকে সরিয়ে নেওয়ার জন্য প্রশাসনের প্রতি জোর দাবি জানিয়েছেন। তাদের অভিযোগ, থ্রি-হুইলারের কারণে প্রায়শই দুর্ঘটনা ঘটছে।
অন্যদিকে, বাস মালিক সমিতির সভাপতি মামুন খন্দকার জানিয়েছেন, সোমবার সকাল থেকে তাঁরা বাস চালানোর চেষ্টা করলেও থ্রি-হুইলার ও অটোরিকশা চালকদের বাধার মুখে পড়তে হয়েছে। তাদের অসহযোগিতার কারণেই মূলত যাত্রী পরিবহন সেবা ব্যাহত হচ্ছে। উদ্ভুত এই অচলাবস্থা নিরসনে দ্রুত প্রশাসনের জরুরি হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন পরিবহন নেতারা।