স্বামীর জামিন করানোর প্রলোভনে নারীকে ধর্ষণচেষ্টা: যুবদল নেতা অভিযোগে জড়িত ব্যক্তি

ময়মনসিংহের ফুলবাড়ীয়া উপজেলায় স্বামীর জামিন করানোর প্রলোভন দেখিয়ে এক নারীকে কুপ্রস্তাব দেওয়া এবং শারীরিকভাবে হেনস্তা ও ধর্ষণের চেষ্টার অভিযোগ উঠেছে। এ ঘটনায় অভিযুক্ত ব্যক্তি হলেন পুটিজানা ইউনিয়ন যুবদলের সাবেক সাংগঠনিক সম্পাদক হযরত আলী মন্ডল। ভুক্তভোগী জাহানারা খাতুন (৪৫) বিষয়টি নিয়ে থানায় অভিযোগ দিলে পুলিশ তা নিয়মিত মামলা হিসেবে নথিভুক্ত করে।
অভিযোগ সূত্রে জানা গেছে, গত মঙ্গলবার বেলা ১১টার দিকে উপজেলার পুটিজানা ইউনিয়নের বৈলাজান গ্রামের কর্মকার বাড়িতে এই ঘটনা ঘটে। জাহানারা খাতুনের স্বামী দুলাল মিয়া বিদেশি মুদ্রা লেনদেনসংক্রান্ত একটি মামলায় কারাভোগ করছিলেন। প্রায় দেড় মাস জেলে থাকার পর তিনি বর্তমানে জামিনে মুক্ত। ভুক্তভোগীর অভিযোগ, দুলাল মিয়াকে দ্রুত কারাগার থেকে বের করে দেওয়ার প্রতিশ্রুতি দিয়ে হযরত আলী তার সঙ্গে অনৈতিক সম্পর্ক স্থাপনের চেষ্টা করেন। একপর্যায়ে তিনি ওই নারীকে শারীরিকভাবে হেনস্তা করেন এবং শরীরের বিভিন্ন স্থানে স্পর্শ করেন। নিজেকে রক্ষার জন্য ওই নারী বাধা দেন বলে জানা গেছে।
ভুক্তভোগী জাহানারা অতীতে সংরক্ষিত নারী সদস্য পদে নির্বাচন করেছিলেন। তিনি অভিযোগ করেন যে, দীর্ঘদিন ধরেই অভিযুক্ত যুবদল নেতা তাকে নানাভাবে উত্ত্যক্ত করে আসছিলেন। বর্তমানে নিরাপত্তার কারণে তিনি বাড়ি ছেড়ে অন্যত্র রয়েছেন। ভুক্তভোগীর পুত্রবধূ ও মা খাদিজা বিষয়টি নিশ্চিত করে জানান, মিথ্যা প্রলোভন দেখিয়ে তার ওপর এই পাশবিক নির্যাতনের চেষ্টা করা হয়েছে। তারা দ্রুত এই ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত ও অভিযুক্তের বিচার দাবি করেছেন।
এলাকার সাধারণ মানুষের মধ্যেও এই ঘটনায় তীব্র ক্ষোভ দেখা দিয়েছে। স্থানীয়রা দাবি করছেন, অপরাধী যেই হোক, তদন্ত সাপেক্ষে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া প্রয়োজন। হযরত আলীর বিরুদ্ধে এর আগেও নানা অপকর্মের অভিযোগ ছিল বলে অনেকে জানিয়েছেন। অভিযোগের বিষয়ে জানতে অভিযুক্ত হযরত আলীর মুঠোফোনে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও সেটি বন্ধ পাওয়ায় তার বক্তব্য নেওয়া সম্ভব হয়নি।
ফুলবাড়ীয়া উপজেলা যুবদলের সভাপতি কামরুজ্জামান মীর আজাদ জানান, বিষয়টি জেলা নেতাদের সঙ্গে আলোচনা করা হয়েছে। আগামীতে বৈঠক করে এ ব্যাপারে সাংগঠনিকভাবে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে। অপরদিকে, ফুলবাড়ীয়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) রাশিদুল হাসান বলেন, ভুক্তভোগীর অভিযোগের ভিত্তিতে থানায় নিয়মিত মামলা রুজু হয়েছে। অভিযুক্তকে খুঁজে বের করতে এবং গ্রেপ্তারের জন্য পুলিশের অভিযান অব্যাহত রয়েছে।