সংসদ সদস্যের নির্বাচনী প্রচারণায় হাততালি দিয়ে সমালোচনায় ঠাকুরগাঁওয়ের ইউএনও


  প্রকাশিত হয়েছেঃ   ২৪ অক্টোবর ২০২৬, ৭:৪১ পিএম

ঠাকুরগাঁওয়ের পীরগঞ্জ উপজেলার নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) গোলাম রব্বানী সরদারের একটি ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ার পর তীব্র সমালোচনার সৃষ্টি হয়েছে। ভিডিওটিতে দেখা যায়, ঠাকুরগাঁও-৩ আসনের সংসদ সদস্য জাহিদুর রহমান একটি রাজনৈতিক বক্তব্য রাখছেন আর ইউএনও তার পাশে বসে হাততালি দিয়ে সমর্থন জানাচ্ছেন। ওই অনুষ্ঠানে সংসদ সদস্য আগামী ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনে স্থানীয় চেয়ারম্যান সাইদুর রহমানকে বিএনপির প্রার্থী হিসেবে ঘোষণা করেন এবং তার পক্ষে উপস্থিত জনতাকে ভোট দেওয়ার আহ্বান জানান। এ সময় এমপি বলেন, আপনারা ধানের শীষে ভোট দিয়ে আমাকে নির্বাচিত করেছেন, আগামীতেও সাইদুর রহমানকে নির্বাচিত করবেন। সম্প্রতি ঠাকুরগাঁও-৩ আসনের সংসদ সদস্য জাহিদুর রহমান পীরগঞ্জ উপজেলার ৯ নম্বর সেনগাঁও ইউনিয়নের আমতলী শ্রী শ্রী দুর্গা মন্দির পরিদর্শনে যান।

দুই মিনিটের বেশি সময়ের ওই ভিডিও ক্লিপটিতে ইউএনও গোলাম রব্বানী সরদারকে এমপির বক্তব্যের বিভিন্ন অংশে উৎসাহের সাথে করতালি দিতে দেখা গেছে। একজন সরকারি কর্মকর্তা হিসেবে রাজনৈতিক দলীয় কর্মসূচিতে এমন আচরণ নিয়ে সাধারণ মানুষ ও বিভিন্ন মহলে প্রশ্ন উঠেছে। সরকারি কর্মকর্তাদের নিরপেক্ষতা এবং আচরণবিধির বিষয়টি সামনে আসায় এই ঘটনাটি নিয়ে বেশ বিতর্ক তৈরি হয়েছে।

সমালোচনার মুখে নিজের অবস্থানের ব্যাখ্যা দিয়ে ইউএনও গোলাম রব্বানী সরদার এক সাংবাদিককে বলেন, প্রয়োজনে লিখে দিন যে এমপির সঙ্গে ইউএনও নির্বাচনী প্রচারণায় অংশ নিয়েছেন। তিনি দাবি করেন, ইউএনও এখন ‘নাউ ওয়ান অব দ্য বিএনপি লিডারস অব পীরগঞ্জ’ বা পীরগঞ্জের বিএনপি নেতাদের একজন। নিজের অদ্ভুত এই অবস্থানের ব্যাখ্যা দিতে গিয়ে তিনি আরও বলেন, যে সরকার বা যে দলের সরকার ক্ষমতায় থাকে, তিনি সেই দলেরই নেতা। তিনি দাবি করেন, তার আদর্শ সরকারি দলের আদর্শই।

এ ঘটনার বিষয়ে নিজের ক্ষোভ প্রকাশ করে বাংলাদেশের কমিউনিস্ট পার্টির (সিপিবি) ঠাকুরগাঁও জেলা শাখার সাধারণ সম্পাদক আবু সায়েম বলেন, একজন সরকারি কর্মকর্তা কীভাবে এমপির রাজনৈতিক বক্তব্যে এভাবে হাততালি দিতে পারেন? এমপি যখন প্রকাশ্য জনসভায় দলীয় প্রার্থীর নাম ঘোষণা করছেন, তখন ইউএনওর মতো প্রশাসনিক কর্মকর্তার এমন অতিউৎসাহী সমর্থন কোনোভাবেই কাম্য নয়।

ইউএনও গোলাম রব্বানী সরদার সংবাদকর্মীদের এ বিষয়টি সারা দেশে ভাইরাল করে দিতে বলেন। তিনি বলেন, তার এ বক্তব্যের অংশটি যেন ক্লিপ করে প্রচার করা হয়। তিনি দাবি করেন, উপজেলা পর্যায়ে তাকে অনেক সীমাবদ্ধতার মধ্যে কাজ করতে হয় এবং ডিসি কিংবা কমিশনার স্যারেরও এর বাইরে যাওয়ার ক্ষমতা নেই। তিনি নিজেকে পরিষদের প্রশাসনিক কর্মকর্তা হিসেবে উল্লেখ করে বলেন, সব কাজ সংসদ সদস্যের নির্দেশনা অনুযায়ী করতে হয় এবং তার কাছে এ সংক্রান্ত নথিপত্র রয়েছে। এরপর সাংবাদিককে উদ্দেশ করে তিনি বলেন, ‘তাহলে আপনার ওই অংশটুকুই খালি ক্লিপে বের করেন আর লিখে দেন, যাতে করে আমি একটু ভাইরাল হই সারা দেশে। এগুলোর বাইরে যাওয়ার ক্ষমতা আমার কেন, আমার সেক্রেটারিরই নাই, আমার ডিসি স্যারের নাই, আমার কমিশনার স্যারের নাই।