বিশ্ববাজারে স্বর্ণের দাম কমে ৪ হাজার ডলারের নিচে

বিশ্ববাজারে স্বর্ণের দামে বড় ধরনের দরপতন ঘটেছে। শুক্রবার বাংলাদেশ সময় দুপুর ১টা ৪০ মিনিটে স্পট মার্কেটে স্বর্ণের দাম শূন্য দশমিক ৯ শতাংশ কমে প্রতি আউন্স ৩ হাজার ৯৮২ ডলার ৮৫ সেন্টে নেমে এসেছে। একই সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্রের ডিসেম্বর ডেলিভারির স্বর্ণের ফিউচার মূল্য ১ শতাংশ কমে দাঁড়িয়েছে ৩ হাজার ৯৯২ ডলার ৫০ সেন্টে। সাপ্তাহিক দরপতনের পাশাপাশি এটি টানা দ্বিতীয় মাসের মতো স্বর্ণের দাম কমার ঘটনা। শুক্রবার (৩০ অক্টোবর) বাংলাদেশ সময় দুপুর ১টা ৪০ মিনিটে স্পট মার্কেটে স্বর্ণের দাম ০ দশমিক ৯ শতাংশ কমে প্রতি আউন্স ৩ হাজার ৯৮২ ডলার ৮৫ সেন্টে দাঁড়িয়েছে।
বাজারে এই পতনের কারণ বিশ্লেষণ করে কেসিএম ট্রেডের প্রধান বাজার বিশ্লেষক টিম ওয়াটারার জানান, স্বর্ণের দাম ৪ হাজার ডলারের গুরুত্বপূর্ণ প্রযুক্তিগত সমর্থন স্তরকে চ্যালেঞ্জের মুখে ফেলেছে। এর আগে দাম কমলে বিনিয়োগকারীদের মধ্যে কেনার প্রবণতা দেখা গিয়েছিল, তবে বর্তমান পরিস্থিতিতে সেই প্রবণতা বাজারকে সহায়তা করতে পারবে কিনা তা নিয়ে অনিশ্চয়তা রয়েছে।
যুক্তরাষ্ট্রের সামষ্টিক অর্থনৈতিক তথ্যগুলো বিশ্লেষণ করে দেখা গেছে, ডিসেম্বরে দেশটির কেন্দ্রীয় ব্যাংক ফেডারেল রিজার্ভের সুদের হার বাড়ানোর সম্ভাবনা প্রায় ৭২ শতাংশে দাঁড়িয়েছে। জ্বালানি তেলের উচ্চ মূল্য এবং ক্রমবর্ধমান মূল্যস্ফীতির কারণে বিনিয়োগকারীরা স্বর্ণের প্রতি আগ্রহ হারাচ্ছেন। উল্লেখ্য, সাধারণত সুদের হার বাড়লে স্বর্ণের মতো মুনাফাবিহীন সম্পদ ধরে রাখার খরচ বেড়ে যায়, যা বিনিয়োগকারীদের দূরে সরিয়ে দেয়। তিনি আরও বলেন, চলতি সপ্তাহে যুক্তরাষ্ট্রের সামষ্টিক অর্থনৈতিক তথ্যগুলোতে এমন কিছু ইতিবাচক ইঙ্গিত পাওয়া গেছে, যা ডিসেম্বরে ফেডের সুদের হার বাড়ানোর সম্ভাবনাকে জোরালো করেছে। এর সঙ্গে জ্বালানি তেলের উচ্চ দাম যুক্ত হওয়ায় মূল্যস্ফীতির দৃষ্টিকোণ থেকে স্বর্ণ বিনিয়োগকারীদের কাছে আকর্ষণ হারাচ্ছে। সিএমইর ফেডওয়াচ টুলের তথ্য অনুযায়ী, ডিসেম্বর মাসে ফেডের সুদের হার বাড়ানোর সম্ভাবনা দেখছেন বাজারের অংশগ্রহণকারীরা।
একই সময়ে অন্যান্য মূল্যবান ধাতুর দামেও নেতিবাচক প্রভাব পড়েছে। শুক্রবার স্পট মার্কেটে রুপার দাম ৩ দশমিক ১ শতাংশ কমে প্রতি আউন্স ৫০ ডলার ৭৪ সেন্টে দাঁড়িয়েছে। এছাড়া প্লাটিনামের দাম ৩ দশমিক ৩ শতাংশ কমে ১ হাজার ৪৩৯ ডলার ৫ সেন্ট এবং প্যালাডিয়ামের দাম ২ দশমিক ৩ শতাংশ কমে ৯৮২ ডলার ৫০ সেন্টে নেমেছে।
এদিকে বিশ্ববাজারে জ্বালানি তেলের দাম টানা চতুর্থ মাসের মতো বাড়ছে। হরমুজ প্রণালিতে তেলবাহী ট্যাংকারে হামলার ঘটনা সরবরাহ ব্যবস্থা নিয়ে উদ্বেগ তৈরি করেছে। অন্যদিকে, জাপানের রাজধানী টোকিওতে অক্টোবরে বার্ষিক মূল মূল্যস্ফীতি কেন্দ্রীয় ব্যাংকের ২ শতাংশ লক্ষ্যমাত্রাকে ছাড়িয়ে গেছে, যা বিশ্ব অর্থনীতিতে নতুন করে মূল্যচাপের সংকেত দিচ্ছে। গত সেপ্টেম্বরে যুক্তরাষ্ট্রে মূল্যস্ফীতি বেড়েছে। পেট্রলসহ বিভিন্ন পণ্যের দাম বেশি হওয়ায় ভোক্তাদের ব্যয় বেড়েছে। হরমুজ প্রণালিতে একটি তেলবাহী ট্যাংকারে হামলার ঘটনা যুক্তরাষ্ট্র-ইসরাইলের সঙ্গে ইরানের যুদ্ধকে কেন্দ্র করে সরবরাহ ঝুঁকির বিষয়টি সামনে এনেছে।