ছেলের এইচএসসি পাস নিয়ে বিতর্কে পদ হারালেন চুয়াডাঙ্গা ছাত্রদল সভাপতি


  প্রকাশিত হয়েছেঃ   ১ নভেম্বর ২০২৬, ১০:৩৫ পিএম

চুয়াডাঙ্গা জেলা ছাত্রদলের সভাপতি শাহজাহান খানের ছেলের এইচএসসি পরীক্ষায় পাস করার বিষয়টি সামনে আসার পর নতুন করে আলোচনার জন্ম দিয়েছে।

শনিবার পরীক্ষার ফল প্রকাশের পর বিভিন্ন গণমাধ্যমে তার ব্যক্তিগত জীবন ও পদ নিয়ে সংবাদ প্রকাশিত হয়। একই সঙ্গে, এক অনলাইন সাংবাদিকের সঙ্গে শাহজাহান খানের কথোপকথনের একটি অডিও রেকর্ড সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ে। অডিও ক্লিপটিতে তাকে ছাত্রদলে তার অবস্থান, বিবাহিত জীবন ও সন্তান থাকা নিয়ে সাংবাদিকদের প্রশ্নের মুখে পড়তে দেখা যায়। এসময় তিনি পাল্টা প্রশ্ন রেখে বলেন, মানুষ বিয়ে করলে বা সন্তান হলে তা অস্বীকার করার কিছু নেই। সেখানে ছাত্রদলে তার পদে থাকা, বিবাহিত হওয়া এবং সন্তানের প্রসঙ্গ নিয়ে প্রশ্নের জবাব দেন তিনি। সাংবাদিককে তিনি প্রশ্ন করেন, মানুষ কি বিয়েশাদি করবে না, বাচ্চাকাচ্চা হবে না। এখনো পর্যন্ত দল আমাকে ছাত্রদলে রেখেছে।

ঘটনার পরপরই রোববার কেন্দ্রীয় ছাত্রদল একটি জরুরি সিদ্ধান্ত নিয়েছে। কেন্দ্রীয় দপ্তর সম্পাদক ও সহসভাপতি পদমর্যাদার মো. জাহাঙ্গীর আলম স্বাক্ষরিত এক বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়, চুয়াডাঙ্গা ও মেহেরপুর জেলা ছাত্রদলের বর্তমান কমিটি বিলুপ্ত ঘোষণা করা হয়েছে। বিবৃতিতে কারণ হিসেবে কমিটির মেয়াদোত্তীর্ণ হওয়ার কথা উল্লেখ করা হয়েছে। ছাত্রদলের সভাপতি রাকিবুল ইসলাম রাকিব ও সাধারণ সম্পাদক নাছির উদ্দীন নাছির এই সিদ্ধান্ত অনুমোদন করেছেন। শিগগিরই সংশ্লিষ্ট জেলা ইউনিটগুলোতে নতুন নেতৃত্ব নির্বাচন ও কমিটি ঘোষণার কথাও জানানো হয়েছে বিজ্ঞপ্তিতে। বিবৃতিতে বলা হয়, বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী ছাত্রদলের কেন্দ্রীয় সংসদের সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, মেয়াদোত্তীর্ণ হওয়ায় চুয়াডাঙ্গা ও মেহেরপুর জেলা শাখার কমিটি বিলুপ্ত ঘোষণা করা হয়েছে।

নিজের সন্তান থাকা ও বিবাহিত হওয়ার বিষয়টি নিয়ে শাহজাহান খান জানান, তিনি ব্যক্তিগত বিষয় নিয়ে কোনো লুকোচুরি করছেন না। তার ভাষ্য, সন্তানের বিষয়টি তিনি অস্বীকার করছেন না কারণ দল তাকে যোগ্য মনে করেই দায়িত্বে রেখেছিল। কমিটি গঠনের সময় এই বিষয়গুলো দল জানত বলেও তিনি দাবি করেন। শাহজাহান খানের মতে, যখন কমিটি গঠন করা হয়, তখন বিবাহিত বা অবিবাহিত হওয়ার বিষয়টি শর্ত বা বিবেচ্য ছিল না। এটি পুরোপুরি দলীয় সিদ্ধান্ত উল্লেখ করে তিনি বলেন, দল যখন দায়িত্ব দিয়েছে, এখন প্রত্যাহারও করতে পারে। এটি নিয়ে বাড়াবাড়ি করার কোনো প্রয়োজন নেই। কমিটি গঠনের সময় দলের নেতারা বিষয়টি জানতেন দাবি করে তিনি বলেন, ‘আমাদের কমিটি যখন হয়েছে, তখন সবকিছু জেনেই কমিটি দেওয়া হয়েছে।