হত্যাচেষ্টা মামলায় জামিন পেলেন চিত্রনায়িকা পরীমনি

ব্যবসায়ী নাসির উদ্দিন মাহমুদকে হত্যাচেষ্টার মামলায় শুনানি শেষে জামিন পেয়েছেন চিত্রনায়িকা পরীমনি। বৃহস্পতিবার (৫ নভেম্বর) ঢাকার চিফ জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালত তার জামিন আবেদন মঞ্জুর করেন। এর আগের দিন বুধবার মামলাটিতে সাক্ষ্যগ্রহণের দিন ধার্য থাকলেও নায়িকা আদালতে উপস্থিত ছিলেন না। এতে তার জামিন বাতিল করে গ্রেফতারি পরোয়ানা জারির আদেশ দিয়েছিলেন ঢাকার সিনিয়র জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট মাহফুজুর রহমান। গতকাল বুধবার (৪ নভেম্বর) মামলাটিতে সাক্ষ্যগ্রহণের দিন ধার্য ছিল।
এর আগে ২০২৫ সালের ২৬ জানুয়ারি ব্যবসায়ী নাসির উদ্দিন মাহমুদের করা এই মামলায় পরীমনিসহ তিন আসামির বিরুদ্ধে অভিযোগ গঠন করে বিচার শুরুর আদেশ দেয় আদালত। সে সময়ও জামিন বাতিল ও গ্রেফতারি পরোয়ানা জারির ঘটনা ঘটেছিল, পরে আত্মসমর্পণ করে তিনি জামিন পেয়েছিলেন। দীর্ঘ সময় ধরে অভিনয়ের পাশাপাশি আদালতের নির্দেশনায় তাকে নিয়মিত হাজিরা দিতে হচ্ছে।
মামলাটি বোট ক্লাবের ঘটনাকে কেন্দ্র করে হলেও, সেই সময়ের কাছাকাছি সময়ে গুলশানের অল কমিউনিটি ক্লাব ও বনানীর অন্য একটি ক্লাবে পরীমনির বিরুদ্ধে ভাঙচুরের গুরুতর অভিযোগ উঠেছিল। অল কমিউনিটি ক্লাবের প্রেসিডেন্ট কেএম আলমগীর ইকবালের ভাষ্যমতে, ২০২১ সালের ৬ জুন রাতে পরীমনি ক্লাবটিতে ১৫টি গ্লাস, নয়টি স্ট্রে এবং অনেক হাফপ্লেট ভেঙে ফেলেন। রাত সোয়া ১টা বা দেড়টার দিকে ঘটা এই ঘটনায় জাতীয় জরুরি সেবা ৯৯৯-এ কল পেয়ে পুলিশ সেখানে পৌঁছালে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আসে। পরবর্তীতে পুলিশ নিয়ম অনুযায়ী থানায় একটি সাধারণ ডায়েরি (জিডি) করে। ২০২১ সালের ৭ জুন গভীর রাতের ওই ঘটনায় জাতীয় জরুরি সেবা ৯৯৯-এর মাধ্যমে ফোন পেয়ে পুলিশ অল কমিউিনিটি ক্লাবেও গিয়েছিল।
২০২১ সালের ৯ জুন বোট ক্লাবের ঘটনার বেশ কয়েকটি ভিডিও সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ে। এর মধ্যে ১০ সেকেন্ডের একটি ভিডিওতে দেখা যায়, ব্যবসায়ী নাসিরকে লক্ষ্য করে দুর্ব্যবহার করছেন পরীমনি। অথচ মামলার এজাহারে পরীমনি অভিযোগ করেছিলেন, ঘটনার রাতে নাসির ও অমি তাকে মদ্যপানের জন্য জোর করেন এবং জোরপূর্বক মুখের ভেতর মদের বোতল প্রবেশের চেষ্টা করেন। তিনি তখন নাসিরকে সেখান থেকে বেরিয়ে যেতে বলেছিলেন বলে দাবি করেন। তবে নতুন প্রকাশ হওয়া ভিডিওতে সেরকম কোনো দৃশ্য দেখা যায়নি।
তবে নতুন করে সামনে আসা ভিডিও ফুটেজে পরীমনির সেই বক্তব্যের সঙ্গে বাস্তবের অনেক অমিল পাওয়া গেছে। ভিডিওতে দেখা যায়, ক্লাবের ভেতরে পরীমনি অমি ও জিমির সঙ্গে স্বেচ্ছায় মদ্যপান করছেন। উত্তেজিত পরীমনিকে শান্ত করার বদলে উল্টো তিনি নাসির মাহমুদের সাথে দুর্ব্যবহার করছেন এবং তাকে বের হয়ে যেতে বলছেন। ঘটনার চারদিন পর ফেসবুক স্ট্যাটাস ও সংবাদ সম্মেলনে পরীমনি যে বর্ণনা দিয়েছিলেন, নতুন ভিডিও ফুটেজে তার বিপরীতেই ভিন্ন চিত্র ফুটে উঠেছে। ঘটনার দিন পরীমনির সঙ্গে এক ভদ্রলোক ছিলেন, হাফপ্যান্ট পরা আরেক নারীও ছিলেন।