ইঞ্জিন ছাড়াই এক কিলোমিটার পেছনে গড়াল কিশোরগঞ্জ এক্সপ্রেস


  প্রকাশিত হয়েছেঃ   ৩০ অক্টোবর ২০২৬, ৯:৩৮ এএম

কিশোরগঞ্জ থেকে ঢাকাগামী ‘কিশোরগঞ্জ এক্সপ্রেস’ ট্রেনের ইঞ্জিন বিচ্ছিন্ন করার পর সেটি স্বয়ংক্রিয়ভাবে প্রায় এক কিলোমিটার পেছনে চলে যাওয়ার মতো বিস্ময়কর ঘটনা ঘটেছে। বৃহস্পতিবার সন্ধ্যা সাড়ে ছয়টার দিকে ভৈরব রেলওয়ে জংশনের ৩ নম্বর প্ল্যাটফর্মে এ ঘটনাটি ঘটে। এর ফলে যাত্রীদের মধ্যে চরম আতঙ্ক ও উদ্বেগ ছড়িয়ে পড়ে। কিশোরগঞ্জ থেকে ছেড়ে আসা ঢাকাগামী ‘কিশোরগঞ্জ এক্সপ্রেস’ ট্রেনের ইঞ্জিন খুলে নেওয়ার পর স্বয়ংক্রিয়ভাবে বগিগুলো ১ কিলোমিটার পেছনে চলে যাওয়ার ঘটনা ঘটেছে। ইঞ্জিন কাটার পর আউটার থেকে ঘুরে আসার কথা ছিল। ট্রেনযাত্রী ওয়ালীদ বলেন, কিশোরগঞ্জ থেকে ৪টায় রওনা দিয়েছিলাম।

ট্রেনের যাত্রী ও সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা যায়, বিকেল ৪টায় কিশোরগঞ্জ রেলওয়ে স্টেশন থেকে ট্রেনটি ঢাকার উদ্দেশ্যে ছেড়ে আসে। ভৈরব জংশনে ট্রেনটি পৌঁছানোর পর ইঞ্জিন পরিবর্তনের জন্য সেটি আলাদা করা হয়। ইঞ্জিনটি আউটারের দিকে সরে যাওয়ার পরপরই হঠাৎ ট্রেনটির বগিগুলো স্বয়ংক্রিয়ভাবে পেছন দিকে গড়াতে শুরু করে। এক পর্যায়ে ট্রেনটি স্টেশন থেকে প্রায় এক কিলোমিটার দূরে চলে যায়। পরে ট্রেনে থাকা গার্ড ওমর আলীর সহায়তায় জরুরি ব্রেক কষে ট্রেনটি থামানো সম্ভব হয়।

গার্ড ওমর আলী ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে জানান, ট্রেনটি সন্ধ্যা ৬টা ৮ মিনিটে ভৈরবে পৌঁছায়। লাইন ব্যস্ত থাকায় এমন জটিলতা তৈরি হয়। তৎক্ষণাৎ আমি ট্রেনে উঠে জরুরি ব্রেক ব্যবহার করি। এতে বড় ধরনের কোনো অঘটন ঘটেনি। ঘটনার প্রায় দুই ঘণ্টা পর ইঞ্জিনটি ফিরে এসে ট্রেনটিকে উদ্ধার করে পুনরায় ৩ নম্বর লাইনে নিয়ে আসে এবং পরবর্তীতে ট্রেনটি ঢাকার উদ্দেশ্যে রওনা হয়। নির্ধারিত সময়ে ট্রেন না ছাড়ায় অনেকেরই বড় ধরনের সমস্যা হতে পারত।

যাত্রী ওয়ালীদ জানান, ট্রেনটি পেছন দিকে চলতে শুরু করলে প্রথমে ভেবেছিলাম ইঞ্জিন দিয়েই চলছে, কিন্তু পরে দেখি ইঞ্জিন ছাড়াই সেটি গড়িয়ে যাচ্ছে। এমন ভীতিকর পরিস্থিতিতে আমরা চরম আতঙ্কে ছিলাম। নরসিংদীর যাত্রী মোস্তাফিজুর রহমান বলেন, ভৈরবে এসে চরম ভোগান্তির শিকার হয়েছি। জসিম উদ্দিন নামে আরেক যাত্রী ক্ষোভ প্রকাশ করে জানান, প্রবাসগামী ভাইসহ ট্রেনের বহু যাত্রী সঠিক সময়ে গন্তব্যে পৌঁছানো নিয়ে শঙ্কিত ছিলেন।

এ ঘটনায় রেল কর্তৃপক্ষের দায়িত্বহীনতার বিরুদ্ধে ক্ষোভ জানিয়েছেন যাত্রীরা। তাদের দাবি, রেলব্যবস্থায় নজরদারি আরও বাড়াতে হবে, নাহলে সাধারণ মানুষ ট্রেনে যাতায়াতে আগ্রহ হারিয়ে ফেলবে। এদিকে এ ঘটনার তথ্য সংগ্রহ করতে গিয়ে সহকারী স্টেশন মাস্টার মোস্তাফিজুর রহমান ভূঁইয়ার অসদাচরণের শিকার হয়েছেন সাংবাদিকরা। তারা বলেন, বাংলাদেশ রেলব্যবস্থায় নজরদারি আরও বাড়াতে হবে, নতুবা মানুষ ট্রেনে চলাচলে উৎসাহ হারাতে পারে। যাত্রীরা সবাই চরম ভোগান্তিতে রয়েছেন। আমরা চাই রেলপথে সরকারের নজরদারি আরও বাড়ানো হোক।

স্টেশন মাস্টার মো. ইউসুফ জানান, ঢাকা-সিলেট ও চট্টগ্রামগামী চারটি ট্রেনের চাপের কারণে লাইন ব্যস্ত থাকায় এই বিলম্ব ও বিপত্তি ঘটেছে। সাংবাদিকদের সঙ্গে সহকারী স্টেশন মাস্টারের খারাপ আচরণের বিষয়টি তার নজরে এসেছে এবং তিনি প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেবেন বলে জানিয়েছেন।