কাঙ্ক্ষিত বাংলাদেশ গড়তে প্রবাসীদের ঐক্যবদ্ধ হওয়ার আহ্বান প্রধানমন্ত্রীর

প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান বলেছেন, দলমত নির্বিশেষে প্রবাসী সবার সহযোগিতার মাধ্যমেই একটি কাঙ্ক্ষিত বাংলাদেশ গড়ে তোলা সম্ভব। বুধবার (২৮ অক্টোবর) নিউ ওয়াজনি হোটেলে আয়োজিত বাংলাদেশ কমিউনিটি জাপানের এক মতবিনিময় সভায় তিনি এমন মন্তব্য করেন। তিনি আরও বলেন, দেশের তৃণমূল পর্যায়ে সুফল বয়ে আনে এমন সংস্কার কাজগুলো যাতে বাধাগ্রস্ত না হয়, সেজন্য একটি পরিস্থিতি তৈরির অপচেষ্টা চলছে। তবুও ঐক্যবদ্ধ থেকে ধৈর্য ও পরিশ্রমের মাধ্যমে উন্নয়নের কাঙ্ক্ষিত লক্ষ্য অর্জনে তিনি সবার প্রতি আহ্বান জানান। তিনি বলেন, যে সংস্কারগুলো করলে একদম প্রান্তিক মানুষটা উপকার পাবে, সেই সংস্কারগুলো যাতে বিএনপি করতে না পারে, সেই জন্য একটা পরিস্থিতি তৈরি করার চেষ্টা করা হচ্ছে। তবে আমাদেরকে এজন্য পরিশ্রম করতে হবে, আমাদেরকে এজন্য ধৈর্য ধারণ করতে হবে, আমাদেরকে এজন্য একসাথে থেকে ঐক্যবদ্ধভাবে কাজ করতে হবে। তারা কাজ করছে, আরও নতুনভাবে তারা কীভাবে সেখানে বিনিয়োগ করতে পারে, নতুনভাবে কীভাবে তারা আমাদের দেশের উন্নয়নে অংশগ্রহণ করতে পারে, এসব বিষয়ে আমরা তাদের সঙ্গে আলাপ করেছি। দেশে আমরা বিভিন্ন শিল্পপ্রতিষ্ঠান গড়ে তুলতে পারব, যেগুলো দেশের সম্পদে পরিণত হবে। আপনারা যারা বিভিন্ন কর্মের মধ্যে আছেন, কেউ হয়তো শিক্ষকতা করছেন, কেউ হয়তো অন্য কোনো জবে আছেন। আবার অনেকে আছেন, যারা ব্যবসা-বাণিজ্যের সঙ্গে জড়িত আছেন। প্রধানমন্ত্রী বলেন, ট্রাফিক রুল নিয়ে আলাদা সুন্দর করে বাচ্চাদের উপযোগী করে বই তৈরি করা হয়েছে, যাতে বাচ্চারা ট্রাফিক রুলের পাঠটা শিখতে পারে। কাজেই আমাদেরকে অনেক কিছুর সঙ্গে স্ট্রাগল করে সামনে এগিয়ে যেতে হচ্ছে। তা এখন কথা যেটা হচ্ছে যে, যেমন ধরেন, এই যে শিক্ষাব্যবস্থা, শিক্ষাব্যবস্থাটাকে যদি ভালো করি, তাহলে আমাদের সন্তানরাই শিক্ষিত হবে, যারা আগামী দিনে দেশটাকে গড়ে তুলবে।
জাপানের সঙ্গে বাংলাদেশের দীর্ঘদিনের বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্ক ও বিনিয়োগের কথা উল্লেখ করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, স্বাধীনতার আগে ও পরে জাপান সব সময় আমাদের পাশে দাঁড়িয়েছে। বর্তমানে নতুন বিনিয়োগ ও পারস্পরিক উন্নয়নের সম্ভাবনা নিয়ে দেশটির সঙ্গে আলোচনা চলছে। প্রবাসীদের উদ্দেশে তিনি বলেন, বিনিয়োগকারীদের দেশে নিয়ে আসার জন্য সবাইকে কোমর বেঁধে প্রস্তুতি নিতে হবে। দেশে নতুন শিল্পকারখানা গড়ে উঠলে কর্মসংস্থানের সুযোগ সৃষ্টি হবে এবং বৈদেশিক মুদ্রা অর্জনের মাধ্যমে জাতীয় অর্থনীতি আরও শক্তিশালী হবে। আমরা জানি, বাংলাদেশের মানুষ কতটুকু, কেমন স্বাস্থ্যসুবিধা পাচ্ছে।
তারেক রহমান প্রবাসীদের দেশের অ্যাম্বাসেডর হিসেবে কাজ করার গুরুত্ব তুলে ধরে বলেন, জাপান বিশ্বের ব্যবসা-বাণিজ্যে অত্যন্ত প্রভাবশালী। প্রবাসীরা যদি সেখানকার ব্যবসায়ীদের কাছে বাংলাদেশের বিনিয়োগ সুবিধার কথা তুলে ধরেন, তবে তা দেশের জন্য দারুণ সহায়ক হবে। দায়িত্ব গ্রহণের পর থেকে ভঙ্গুর অর্থনৈতিক অবস্থা, নাজুক প্রশাসনিক কাঠামো এবং আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির মতো নানা চ্যালেঞ্জ নিয়ে বর্তমান সরকার কাজ করে যাচ্ছে বলেও জানান তিনি। অর্থাৎ, আপনি যদি আপনার দেশে কী কী সুবিধা তৈরি করা হয়েছে বিদেশি বিনিয়োগ করার জন্য, সেগুলো যদি আপনারা এ দেশের ব্যবসায়ী মহলের কাছে তুলে ধরেন, আপনার দেশকে এবং বর্তমান সরকার কীভাবে এগিয়ে নিয়ে যেতে চাইছে বা আপনি কীভাবে আপনার দেশের ভালো জিনিসগুলো অন্যান্য জায়গায়ও। প্রশাসনের অবস্থাও খুব নাজুক ছিল, আইনশৃঙ্খলার অবস্থাও অত্যন্ত নাজুক ছিল। এর বাইরে আরও বহুবিধ সমস্যা দেশের মধ্যে ছিল এবং এখনো ক্ষেত্রবিশেষে আছে।
সরকারের সংস্কার পরিকল্পনা সম্পর্কে প্রধানমন্ত্রী বলেন, স্বাস্থ্য ও শিক্ষার মতো জরুরি খাতগুলোতে আমূল পরিবর্তন আনাই বর্তমান সময়ের মূল সংস্কার। শিশুদের জন্য ট্রাফিক সচেতনতামূলক বই তৈরি থেকে শুরু করে স্বাস্থ্যসেবা সহজলভ্য করা—এসবই মানুষের কল্যাণে কার্যকর পদক্ষেপ। তিনি আরও বলেন, রাজনীতির গণ্ডি পেরিয়ে সাধারণ মানুষের কাছে কর্মসংস্থান ও উন্নত স্বাস্থ্যসেবাই সবচেয়ে বেশি আকাঙ্ক্ষিত বিষয়। সরকারের মূল লক্ষ্য হলো তরুণ সমাজের জন্য চাকরির সুযোগ তৈরি করা এবং সাধারণ মানুষের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা।
সবুজ শ্যামল বাংলাদেশকে ফিরিয়ে আনার স্বপ্নের কথা উল্লেখ করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ঢাকা শহরসহ সারা দেশকে পরিচ্ছন্ন ও বাসযোগ্য করে তোলা বর্তমান সরকারের অন্যতম বড় সংস্কার। নারীদের নিরাপত্তা ও সুস্থতা নিশ্চিত করাকেও তিনি বড় সংস্কারের অংশ হিসেবে দেখছেন। প্রধানমন্ত্রী বলেন, আমার কাছে তাই মনে হয়, একজন রাজনীতিবিদ হিসেবে।
অনুষ্ঠানে প্রধানমন্ত্রীর সফরসঙ্গী হিসেবে উপস্থিত ছিলেন তার সহধর্মিণী ডা. জুবাইদা রহমান, অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী, অর্থ ও পরিকল্পনা উপদেষ্টা ড. রাশেদ আল মাহমুদ তিতুমীর, পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী-১ হুমায়ুন কবির, বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজসম্পদ প্রতিমন্ত্রী অনিন্দ্য ইসলাম অমিত, ডাক, টেলিযোগাযোগ ও তথ্যপ্রযুক্তিবিষয়ক উপদেষ্টা রেহান আসিফ আসাদ, ইনভেস্টমেন্ট বাংলাদেশ অথরিটির চেয়ারম্যান আশিক চৌধুরী এবং প্রধানমন্ত্রীর বিশেষ সহকারী ড. শাকিরুল ইসলাম খান শাকিল। এছাড়াও জাপান বিএনপির সভাপতি রেজী মীরসহ কমিউনিটির বিভিন্ন পর্যায়ের নেতৃবৃন্দ ও ব্যবসায়ী প্রতিনিধিরা অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন। এ ছাড়া জাপান বিএনপির সভাপতি রেজী মীর, সাধারণ সম্পাদক এমদাদুল হক মনি, প্রধান পৃষ্ঠপোষক এস ইসলাম নান্নু, সহসভাপতি মাসুম জাকির, দপ্তর সম্পাদক আবুল খায়ের ভূঁইয়া, মু।