টোকিওতে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান ও জাপানের প্রধানমন্ত্রীর দ্বিপাক্ষিক বৈঠক


  প্রকাশিত হয়েছেঃ   ২৭ অক্টোবর ২০২৬, ৯:২৮ এএম

জাপান সফরের অংশ হিসেবে দেশটির প্রধানমন্ত্রী সানায়ে তাকাইচির সঙ্গে আনুষ্ঠানিক শীর্ষ বৈঠকে বসেছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। স্থানীয় সময় মঙ্গলবার দুপুরে টোকিওতে জাপানের প্রধানমন্ত্রীর সরকারি কার্যালয় ‘কানতেই’-তে এই দ্বিপক্ষীয় আলোচনা শুরু হয়। দুই দেশের বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্ক জোরদার, বাণিজ্য সম্প্রসারণ, বিনিয়োগ বৃদ্ধি এবং পারস্পরিক সহযোগিতার ক্ষেত্রগুলোকে আরও গভীর করার লক্ষ্যে এই উচ্চপর্যায়ের বৈঠক অনুষ্ঠিত হচ্ছে।

বৈঠকের শুরুতে জাপানের প্রধানমন্ত্রী সানায়ে তাকাইচি প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানকে আনুষ্ঠানিকভাবে স্বাগত জানান। এ সময় জাপানের সশস্ত্র বাহিনীর একটি সুসজ্জিত দল বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রীকে গার্ড অব অনার প্রদান করে। জাতীয় সঙ্গীত পরিবেশনার পর দুই প্রধানমন্ত্রী গার্ড পরিদর্শন করেন এবং পাশাপাশি দাঁড়িয়ে অভিবাদন গ্রহণ করেন। এরপর উভয় নেতা স্ব-স্ব প্রতিনিধিদলের সদস্যদের পরিচয় করিয়ে দেন এবং ভবনের পরিদর্শন বইতে স্বাক্ষর করেন। আনুষ্ঠানিকভাবে বৈঠকের মূল পর্ব শুরুর আগে দুই প্রধানমন্ত্রী একান্ত আলোচনায় মিলিত হন।

সূত্র জানিয়েছে, দ্বিপক্ষীয় বৈঠকে অবকাঠামো উন্নয়ন, গুরুত্বপূর্ণ খাতে জাপানের সহযোগিতা বাড়ানো এবং আঞ্চলিক ও আন্তর্জাতিক বিভিন্ন ইস্যুতে মতবিনিময় করা হচ্ছে। আলোচনার চূড়ান্ত ফলাফল নিয়ে দুই নেতা বিকেলে একটি যৌথ সংবাদ সম্মেলনে অংশ নেওয়ার কথা রয়েছে। এর আগে সানায়ে তাকাইচি প্রধানমন্ত্রীর সম্মানে মধ্যাহ্নভোজের আয়োজন করেন, যেখানে দুই দেশের নেতা শুভেচ্ছা বক্তব্য দেবেন বলে জানা গেছে।

সোমবার টোকিওতে পৌঁছানোর পর থেকেই প্রধানমন্ত্রীর ব্যস্ত সফরসূচি শুরু হয়। প্রথম দিনে তিনি জাপানের সাবেক প্রধানমন্ত্রী তারো আসোর নেতৃত্বে উচ্চপর্যায়ের সংসদীয় দলের সঙ্গে বৈঠক করেন। এছাড়া মারুবেনি করপোরেশনের চেয়ারম্যান মাসুমি কাকিনোকি এবং জাইকার প্রেসিডেন্ট ড. আকিহিকো তানাকার সঙ্গে পৃথক বৈঠক করেছেন তিনি। জাইকার প্রেসিডেন্টের সঙ্গে আলোচনায় বাংলাদেশ-জাপান দক্ষতা অংশীদারত্ব, চলমান উন্নয়ন প্রকল্পের গতি বাড়ানো এবং অবকাঠামোগত সহযোগিতার বিষয়টি গুরুত্ব পেয়েছে। তারো আসোর সঙ্গে বৈঠকে বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী ২০০৬ সালে জাপানে তাদের সাক্ষাতের কথা স্মরণ করেন।

মারুবেনি করপোরেশনের শীর্ষ কর্মকর্তাদের সঙ্গে আলোচনায় প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান কর্ণফুলী ফার্টিলাইজার কোম্পানি লিমিটেডের (কাফকো) আধুনিকায়ন এবং দেশে দ্বিতীয় একটি সার কারখানা স্থাপনের প্রস্তাব তুলে ধরেন। এ ছাড়া তথ্যপ্রযুক্তি, জ্বালানি নিরাপত্তা, হালকা প্রকৌশল শিল্প ও কৃষিপণ্য প্রক্রিয়াজাতকরণ খাতে জাপানি বিনিয়োগের সম্ভাবনা নিয়েও আলোচনা হয়েছে। প্রযুক্তিনির্ভর গ্রাম ও উদ্ভাবন নগরী প্রতিষ্ঠার ধারণাও বৈঠকে উত্থাপিত হয়েছে।

চলতি বছরের ১৭ ফেব্রুয়ারি দায়িত্ব গ্রহণের পর এটি প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের তৃতীয় বিদেশ সফর। এর আগে তিনি মালয়েশিয়া ও চীন সফর করেছেন এবং সেপ্টেম্বরে নিউইয়র্কে জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের ৮১তম অধিবেশনে যোগ দিয়েছেন। হেফাজতে ইসলামের যুগ্ম মহাসচিব ও নেজামে ইসলাম পার্টির ভারপ্রাপ্ত মহাসচিব আজিজুল হক ইসলামাবাদী ও আমজনতার দলের সাধারণ সম্পাদক মো. তারেক রহমান।

প্রধানমন্ত্রীর সফরসঙ্গী হিসেবে প্রতিনিধিদলে রয়েছেন তাঁর সহধর্মিণী ডা. জুবাইদা রহমান, অর্থ ও পরিকল্পনামন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী, বেসামরিক বিমান পরিবহণ ও পর্যটনমন্ত্রী এম রাশিদুজ্জামান মিল্লাত এবং প্রধানমন্ত্রীর অর্থ ও পরিকল্পনাবিষয়ক উপদেষ্টা রাশেদ আল মাহমুদ তিতুমীর।

এ ছাড়া পররাষ্ট্রবিষয়ক প্রতিমন্ত্রী হুমায়ুন কবির, বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজসম্পদবিষয়ক প্রতিমন্ত্রী অনিন্দ্য ইসলাম অমিত এবং ডাক, টেলিযোগাযোগ ও তথ্যপ্রযুক্তি উপদেষ্টা রেহান আসিফ আসাদসহ উচ্চপদস্থ সরকারি কর্মকর্তারা সফরে অংশ নিয়েছেন।

প্রতিনিধিদলের অন্য সদস্যদের মধ্যে ইনভেস্ট বাংলাদেশ কর্তৃপক্ষের চেয়ারম্যান আশিক চৌধুরী, বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর মো. মোস্তাকুর রহমান, পররাষ্ট্রসচিব আসাদ আলম সিয়াম এবং অর্থনৈতিক সম্পর্ক বিভাগের সচিব শাহরিয়ার কাদের সিদ্দিকীসহ সংশ্লিষ্ট অন্যরা রয়েছেন। চার দিনের এই সরকারি সফরে প্রধানমন্ত্রী জাপান-বাংলাদেশ অর্থনৈতিক ফোরামে মূল প্রবন্ধ উপস্থাপনের পাশাপাশি জাপানের ব্যবসায়ী নেতাদের সঙ্গে গুরুত্বপূর্ণ বৈঠকে অংশ নেবেন।